সপ্তম শ্রেণি: ইতিহাস, প্রথম অধ্যায় ইতিহাসের ধারণা, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায় 1: ইতিহাসের ধারণা
(সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর – মান: ২/৩)
✍️ ২/৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:
১. ‘ইন্ডিয়া’ নামটি কীভাবে তৈরি হয়েছে?
উত্তর: প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস প্রথম ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ব্যবহার করেন। তিনি পারসিকদের কাছ থেকে জেনেছিলেন যে পারস্য সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশের নাম ‘হিদুষ’ (সিন্ধু নদ অববাহিকা)। গ্রিক ভাষায় ‘স’ অক্ষরের উচ্চারণ না থাকায় তারা সিন্ধুকে ‘ইন্ডাস’ (Indus) বলত। এই ‘ইন্ডাস’ শব্দ থেকেই পরবর্তীকালে আমাদের দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’ হয়েছে।
২. ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজের লেখায় ‘হিন্দুস্তান’ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকের ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজের লেখায় ‘হিন্দুস্তান’ বলতে সমগ্র ভারতবর্ষকে বোঝানো হয়নি। তাঁর কাছে হিন্দুস্তান ছিল মূলত উত্তর ভারতের একটি বিশেষ অঞ্চল। এই অঞ্চলের মধ্যে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গঙ্গা-যমুনা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৩. ‘তজকিরা’ ও ‘ইনশা’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: তজকিরা: ‘তজকিরা’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো স্মৃতিকথা বা জীবনী।
ইনশা: ‘ইনশা’ বলতে সুলতানি ও মুঘল যুগে লেখা বিভিন্ন চিঠি বা সরকারি নথিপত্রকে বোঝানো হয়।
এই দুটি উপাদানই ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাস জানার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক উপাদান।
৪. ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝায়? এগুলি প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: পুরোনো দিনের যেসব জিনিস, লিপি, মুদ্রা, স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং লিখিত নথিপত্র থেকে আমরা অতীত কালের মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারি, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়।
ইতিহাসের উপাদানকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান (যেমন- মুদ্রা, লিপি, স্মৃতিসৌধ) এবং
২. সাহিত্যিক উপাদান (যেমন- দেশি-বিদেশি পর্যটকদের লেখা বই, চিঠিপত্র)।
৫. প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলতে কী বোঝায়? এর দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: অতীতকালের মানুষের ব্যবহার করা যেসব বস্তুগত নিদর্শন মাটি খুঁড়ে বা পুরোনো স্থাপত্য হিসেবে পাওয়া যায় এবং যা থেকে অতীতের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস জানা যায়, তাদের প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনায় এগুলি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপাদান।
উদাহরণ: ১. শিলালিপি বা তাম্রশাসন এবং ২. প্রাচীন মুদ্রা ও স্মৃতিসৌধ।
৬. ভারতের ইতিহাসে মধ্যযুগকে কি ‘অন্ধকার যুগ’ বলা যুক্তিসংগত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: না, ভারতের ইতিহাসে মধ্যযুগকে কখনোই ‘অন্ধকার যুগ’ বলা যুক্তিসংগত নয়। এর কারণগুলি হলো:
১. প্রযুক্তির বিকাশ: এই যুগে কৃষিকাজে জল তোলার জন্য ‘পারসিক চক্র’ এবং বস্ত্র বয়ন শিল্পে চরকার ব্যবহার শুরু হয়।
২. নতুন খাদ্যের আমদানি: পর্তুগিজদের হাত ধরে এই সময়েই ভারতীয় রান্নায় ‘আলু’-এর ব্যবহার শুরু হয়।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: ভক্তি ও সুফি ধর্মমতের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিল্প ও স্থাপত্যে নতুন রীতির বিকাশ ঘটে।
তাই, যে যুগে এত উন্নতি ও পরিবর্তন হয়েছিল, তাকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা সম্পূর্ণ ভুল।