মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, কার দৌড় কদ্দুর – শিবতোষ মুখোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: কার দৌড় কদ্দুর
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘কার দৌড় কদ্দুর’ প্রবন্ধে উল্লেখিত এককোশী প্রাণীদের চলনপদ্ধতি কীভাবে সম্পন্ন হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রাবন্ধিক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁর প্রবন্ধে অ্যামিবা, প্যারামিসিয়াম এবং ইউগ্লিনার মতো এককোশী প্রাণীদের চলনের কথা বলেছেন। এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীদের হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পা থাকে না। অ্যামিবা তার শরীরের আকার পরিবর্তন করে তৈরি করা ক্ষণপদের সাহায্যে চলে। প্যারামিসিয়াম তার শরীরের চারপাশের অসংখ্য সূক্ষ্ম রোমের মতো অংশকে নৌকার দাঁড়ের মতো ব্যবহার করে সাঁতার কাটে। আর ইউগ্লিনা তার শরীরের চাবুকের মতো অংশের সাহায্যে জলের মধ্যে চলাফেরা করে।

2. চিতাবাঘ এবং অ্যান্টিলোপের দৌড়ের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রাণিজগতে দৌড়ের ক্ষেত্রে চিতাবাঘ এবং অ্যান্টিলোপ উভয়েরই গতিবেগ অত্যন্ত বিস্ময়কর। চিতাবাঘ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী স্তন্যপায়ী প্রাণী, শিকারের সময় যার দৌড়ানোর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় 70 মাইল পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, নিজেকে শিকারির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অ্যান্টিলোপ নামক প্রাণীটিও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় 60 মাইল। গতির দিক থেকে চিতাবাঘ অ্যান্টিলোপের চেয়ে সামান্য বেশি দ্রুতগামী হলেও আত্মরক্ষার তাগিদে অ্যান্টিলোপের দৌড়ও যথেষ্ট চমকপ্রদ।

3. ক্যাঙারু এবং শামুকের চলনের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ক্যাঙারু এবং শামুকের চলনপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্যাঙারু অন্যান্য সাধারণ প্রাণীর মতো চার পায়ে হাঁটে না। এর সামনের পা দুটি ছোট, কিন্তু পেছনের পা দুটি অত্যন্ত লম্বা ও শক্তিশালী। চলার সময় ক্যাঙারু তার শক্তিশালী পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে মাটি থেকে শূন্যে বড়ো লাফ দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে, শামুক অত্যন্ত ধীরগতি সম্পন্ন প্রাণী। এর শরীরের নিচের দিকে একটি চওড়া ও মাংসল পা থাকে। হাঁটার সময় শামুক এই মাংসল পায়ের সাহায্যে মাটির ওপর দিয়ে অতি ধীরগতিতে পিছলে পিছলে গমন করে।

4. উদ্ভিদ ও প্রাণীর চলনের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রাণী এবং উদ্ভিদের চলনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। প্রাণীরা খাদ্যের খোঁজে বা আত্মরক্ষার তাগিদে নিজেদের সম্পূর্ণ শরীর নিয়ে স্বেচ্ছায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গমন করতে পারে, অর্থাৎ তাদের স্থান পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু উদ্ভিদ সাধারণত মাটির সঙ্গে এক জায়গায় স্থিরভাবে আটকে থাকে। তারা প্রাণীদের মতো স্থান পরিবর্তন করতে পারে না, কেবল বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আলো, বাতাস বা জলের খোঁজে তাদের ডালপালা প্রসারিত করে ও মূলের চলন ঘটায়।

5. “মানুষের সবচেয়ে বড়ো দৌড় তার মনের দৌড়” – প্রাবন্ধিক একথা কেন বলেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দৈহিক শক্তির দিক থেকে বিচার করলে মানুষের হাঁটার স্বাভাবিক গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র 3 থেকে 4 মাইল, যা অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। কিন্তু মানুষ শারীরিকভাবে খুব দ্রুত ছুটতে না পারলেও, তার মন বা কল্পনা মুহূর্তের মধ্যে মহাবিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। মানুষের এই অসীম কল্পনাশক্তি, নতুন আবিষ্কারের আগ্রহ এবং জ্ঞানান্বেষণের ক্ষমতা সীমাহীন। নিজের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বৌদ্ধিক বিকাশের জোরেই মানুষ সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জয় করেছে বলে প্রাবন্ধিক এমন মন্তব্য করেছেন।

6. “গোরু” শব্দটি কীভাবে এসেছে এবং এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘গোরু’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষার ‘গম্’ ধাতু থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ‘গম্’ ধাতুর সাধারণ অর্থ হলো গমন করা বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া। অর্থাৎ, ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে বিচার করলে, যে প্রাণী গমন করে বা চলাফেরা করে, তাকেই গোরু বলা যায়। লেখক মজার ছলে বুঝিয়েছেন যে গোরু শব্দের উৎপত্তিগত অর্থের মধ্যেই প্রাণিজগতের নিরন্তর ছুটে চলার বা গমন করার বিষয়টি লুকিয়ে রয়েছে।

7. “আপন আপন দৌড়ের বহর…” – উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: এই পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীই গতিশীল, কিন্তু সকলের গতির মাত্রা সমান নয়। যেমন চিতাবাঘ অত্যন্ত দ্রুত ছুটতে পারে, আবার শামুকের গতি অত্যন্ত ধীর। প্রাণীদের দৌড় বা গতির এই ভিন্নতা নির্ভর করে তাদের শারীরিক গঠন, ওজন এবং জীবনধারণের প্রয়োজনের ওপর। যার যতটুকু সামর্থ্য বা প্রয়োজন, সে ততটুকুই দৌড়াতে পারে। প্রাণিজগতের গতির এই বৈচিত্র্য ও সীমাবদ্ধতা বোঝাতেই প্রাবন্ধিক উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

8. আণুবীক্ষণিক প্রাণীদের জগৎ এবং তাদের চলন সম্পর্কে লেখক কী জানিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পৃথিবীর সব প্রাণীকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। লেখক জানিয়েছেন যে, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এক ফোঁটা জলের মধ্যেও অসংখ্য ক্ষুদ্র প্রাণী রয়েছে। খালি চোখে অদৃশ্য হলেও তাদের নিজস্ব জগৎ আছে এবং তারাও অন্যান্য বড় প্রাণীদের মতোই বাঁচার তাগিদে নিজেদের নির্দিষ্ট চলন অঙ্গের সাহায্যে সারাক্ষণ জলের মধ্যে ছুটে বেড়াচ্ছে।

9. উটপাখির দৌড় সম্পর্কে প্রাবন্ধিক কী বলেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: উটপাখি হলো আকৃতিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল পাখি। নিজেদের শরীরের অত্যধিক ভারী ওজনের কারণে অন্যান্য পাখিদের মতো এরা আকাশে উড়তে পারে না। কিন্তু আকাশে উড়তে না পারলেও এদের পায়ের পেশি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। বিপদের সময় বা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে একটি উটপাখি মরুভূমির বালির ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় 50 মাইল বেগে ছুটতে পারে বলে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন।

10. প্রাণীদের এই নিরন্তর গতির বা ছুটে চলার মূল উদ্দেশ্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীই প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছে এবং এই ছুটে চলার পেছনে প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য কাজ করে। প্রথমত, নিজের জীবন ধারণের জন্য উপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান করা, কারণ স্থির হয়ে থাকলে খাবার জুটবে না। এবং দ্বিতীয়ত, কোনো শিকারি বা শত্রুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আত্মরক্ষা করা। এই আহার সংগ্রহ ও অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই প্রাণীরা ছুটে বেড়ায়।

11. মানুষের দৈহিক গতি কম হওয়া সত্ত্বেও মানুষ কীভাবে অন্যান্য প্রাণীদের পিছনে ফেলেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: মানুষের হাঁটার বা দৌড়ানোর স্বাভাবিক গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র 3 থেকে 4 মাইল, যা চিতাবাঘ বা হরিণের তুলনায় খুবই সামান্য। কিন্তু মানুষ তার এই শারীরিক অক্ষমতাকে মেনে নেয়নি। মানুষ তার অসামান্য বুদ্ধি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মোটরগাড়ি, উড়োজাহাজ এবং রকেটের মতো দ্রুতগামী যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এই যান্ত্রিক গতির জোরেই মানুষ সমস্ত দ্রুতগামী প্রাণীকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।

12. “তাঁরা বলেন, বিশ্বচরাচর ছুটছে।” – কারা বলেন? বিশ্বচরাচরের ছোটার কী বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে ‘তাঁরা’ বলতে বিজ্ঞানীদের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোনো কিছুই স্থির নয়। পৃথিবী তার নিজের মেরুদণ্ডের ওপর ঘুরছে এবং একই সাথে সূর্যের চারদিকেও ছুটছে। শুধু পৃথিবী নয়, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র থেকে শুরু করে অসীম ছায়াপথ—সবাই এক প্রচণ্ড গতিতে মহাশূন্যের বুকে ছুটে চলেছে। অর্থাৎ, সমগ্র বিশ্বচরাচর এক অন্তহীন গতির অধীন।

13. অ্যামিবা কীভাবে তার ক্ষণপদ তৈরি করে এবং এর প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: অ্যামিবা একটি অতি ক্ষুদ্র এককোশী প্রাণী, যার শরীরের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা স্থায়ী পা থাকে না। চলাফেরার প্রয়োজন হলে সে তার শরীরের ভেতরের জেলি বা থকথকে অংশটিকে যেকোনো একদিকে গড়িয়ে দেয়। এর ফলে সেই দিকে সাময়িকভাবে পায়ের মতো একটি অংশ তৈরি হয়। এটি ক্ষণস্থায়ী বা অস্থায়ী বলে একে ‘ক্ষণপদ’ বলা হয়। চলাফেরা করা এবং খাদ্য গ্রহণের জন্যই এর প্রয়োজন হয়।

14. “সবাই যে যার জায়গায় স্থির।” – কাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে? তারা কি সত্যিই সম্পূর্ণ স্থির?

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে উদ্ভিদ বা গাছপালার সম্পর্কে বলা হয়েছে। গাছপালা যেহেতু তাদের মূল দিয়ে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকে, তাই তারা প্রাণীদের মতো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হেঁটে যেতে পারে না। তবে তারা সম্পূর্ণ স্থির বা গতিহীন নয়। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সূর্যালোক পাওয়ার জন্য তাদের ডালপালা আকাশের দিকে প্রসারিত হয় এবং জলের খোঁজে মূল মাটির গভীরে বৃদ্ধি পায়, যা তাদের এক প্রকার চলন।

15. রকেটের আবিষ্কার মানুষের গতির ক্ষেত্রে কীভাবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: মানুষের মনের অসীম দৌড় এবং বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির ফসল হলো রকেট। মোটরগাড়ি বা উড়োজাহাজ মানুষকে পৃথিবীর বুকে তীব্র গতি দিয়েছিল, কিন্তু রকেট মানুষকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ভেদ করে অসীম মহাশূন্যে পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। এই আবিষ্কারের ফলেই মানুষ আজ মহাকাশ এবং চাঁদের মাটিতে পৌঁছে গতির এক অভাবনীয় নতুন মাত্রা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার