সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, কুতুব মিনারের কথা – সৈয়দ মুজতবা আলী, রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর
কুতুব মিনারের কথা: বিস্তারিত বড় প্রশ্নোত্তর (মান: 5)
1. লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী কুতুব মিনারকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিনার’ বলে অভিহিত করেছেন কেন? প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
দ্বিতীয়ত, এর নকশার বৈচিত্র্য। এত বিশাল একটি মিনার যাতে দেখতে একঘেয়ে না লাগে, তার জন্য স্থপতিরা এর গায়ে পরপর বাঁশি এবং কোণের নকশা করেছেন। তৃতীয়ত, মিনারের বাইরের দেওয়ালে লাল বেলেপাথর কেটে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে লতাপাতা, ফুলের মালা এবং কোরানের পবিত্র আয়াত খোদাই করা হয়েছে। খোদাইয়ের এই কাজ এতটাই সূক্ষ্ম এবং রুচিশীল যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবশেষে, আরব, ইরান বা তুরস্কের মতো কোনো মুসলিম দেশেই কুতুব মিনারের আগে তৈরি হওয়া এমন উৎকৃষ্ট কোনো মিনারের নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় না। এই অখণ্ড সৌন্দর্য, মৌলিকতা এবং নিখুঁত গঠনশৈলীর কারণেই লেখক একে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার বলেছেন।
2. কুতুব মিনারের পাঁচটি তলার গঠনশৈলী বা স্থাপত্য রীতির যে বৈচিত্র্য প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর দেখো
এরপর দ্বিতীয় তলাটিতে নকশার পরিবর্তন করা হয়েছে। এখানে কোণ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বাঁশির নকশা রাখা হয়েছে। আবার তৃতীয় তলাটিতে এর ঠিক বিপরীত কাজ করা হয়েছে, অর্থাৎ সেখানে বাঁশি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কোণের নকশা করা হয়েছে। এই বৈচিত্র্য মিনারটিকে একটি অনন্য স্থাপত্য রূপ দান করেছে। চতুর্থ এবং পঞ্চম তলার গঠন কেমন ছিল তা আজ আর স্পষ্টভাবে জানা যায় না, কারণ বজ্রপাতে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ফিরোজ শাহ তুঘলক মার্বেল পাথর দিয়ে তা মেরামত করে দেন। সব মিলিয়ে এই 5 টি তলার সুপরিকল্পিত বিন্যাসই কুতুব মিনারকে এত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
3. কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ ও পরবর্তী সংস্কারের ঐতিহাসিক পটভূমি প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর জামাতা এবং পরবর্তী সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ এই মিনারের কাজ আবার শুরু করেন এবং তা সম্পূর্ণ করেন। পরবর্তীকালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, বিশেষ করে বজ্রপাতে মিনারের ওপরের দিকের তলাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক সেই ভগ্ন অংশগুলি মেরামত করেন। তিনি মেরামতের সময় লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে সাদা মার্বেল পাথরের ব্যবহার করেছিলেন। এভাবেই একাধিক সুলতানের হাত ধরে কুতুব মিনার আজকের রূপ লাভ করেছে।
4. কুতুব মিনারের অলংকরণে হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির মেলবন্ধন কীভাবে ঘটেছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
হিন্দু স্থাপত্যের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো দেওয়ালে নানা রকম দেবদেবীর মূর্তি বা প্রাণীর ছবি খোদাই করা। কিন্তু মুসলিম ধর্মে বা স্থাপত্যে মূর্তি বা প্রাণীর ছবি তৈরি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু স্থপতিরা এখানে তাদের চিরাচরিত মূর্তি গড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু এই বাধা তাদের শৈল্পিক প্রতিভাকে দমাতে পারেনি। তারা মূর্তির বদলে লাল বেলেপাথর কেটে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে লতাপাতা, ফুলের মালা এবং আরবি অক্ষরে কোরানের পবিত্র আয়াত খোদাই করেন। হিন্দু স্থপতিদের হাতের এই অপূর্ব কারুকাজ এবং মুসলিম স্থাপত্যের কাঠামোগত পরিকল্পনার সংমিশ্রণেই কুতুব মিনার হয়ে উঠেছে ভারতের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
5. কুতুব মিনারের সঙ্গে তাজমহলের সৌন্দর্যের যে তুলনামূলক আলোচনা লেখক করেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর দেখো
কিন্তু কুতুব মিনারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কুতুব মিনারকে সুন্দর দেখানোর জন্য চারপাশের কোনো বাগিচা, ফোয়ারা বা অন্য কোনো ছোট মিনারিকার ওপর নির্ভর করতে হয় না। সে একাই, কারোর সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে স্বমহিমায় নিজের অসামান্য সৌন্দর্য বিস্তার করে দাঁড়িয়ে আছে। তাজমহল হলো একটি স্মৃতিসৌধ যা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে গিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, আর কুতুব মিনার হলো একটি স্বাধীন বিজয়স্তম্ভ যা তার একাকীত্ব এবং নিখুঁত অনুপাতের জোরেই দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।