মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, খোকনের প্রথম ছবি – বনফুল, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

খোকনের প্রথম ছবি: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. খোকন প্রথম দিকে কীসের ছবি আঁকত এবং কার উৎসাহে সে ছবি আঁকা শুরু করেছিল?

উত্তর দেখো
ছোটবেলায় ছবি আঁকার প্রতি খোকনের প্রবল ঝোঁক ছিল। সে প্রথমে তার ড্রয়িং খাতায় বাড়িতে থাকা খুব সাধারণ জিনিস, যেমন—টুল, টেবিল, চেয়ার, কলসি, কাপ ইত্যাদি দেখে দেখে হুবহু নকল করে আঁকত। নিজের আগ্রহ এবং স্কুলের ড্রয়িং মাস্টারমশাইয়ের উৎসাহেই সে প্রথম এই ছবি আঁকা শুরু করেছিল।

2. ড্রয়িং মাস্টারমশাই খোকনকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং কেন?

উত্তর দেখো
ড্রয়িং মাস্টারমশাই খোকনের খাতা দেখে তার আঁকার হাত সম্পর্কে প্রশংসা করেছিলেন। তবে তিনি তাকে শুধু ঘরের সাধারণ জিনিস না এঁকে, বাড়ির বাইরে গিয়ে চারপাশের প্রকৃতির ছবি (যেমন—গাছপালা, নদী, মেঘ) সরাসরি দেখে আঁকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করলে শিল্পীর দেখার চোখ তৈরি হয় এবং আঁকার হাত আরও ভালো হয়।

3. প্রকৃতির ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন কোন কোন বিষয়ের ছবি এঁকেছিল?

উত্তর দেখো
মাস্টারমশাইয়ের কথা শুনে খোকন বাড়ির বাইরে গিয়ে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে মন দেয়। সে তাদের বাড়ির সামনের একটি বড়ো ইউক্যালিপটাস গাছের ছবি এঁকেছিল। এছাড়া ছাদ থেকে দেখা আকাশের মেঘ এবং বাড়ির পিছনের দিঘির ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গোরুর ছবিও সে নিখুঁতভাবে এঁকেছিল।

4. মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন কী বুঝতে পেরেছিল?

উত্তর দেখো
একদিন খোকন বাড়ির ছাদে গিয়ে আকাশে ভেসে থাকা একটি হাতির মতো দেখতে মেঘের ছবি আঁকছিল। কিন্তু ছবিটি আঁকা শেষ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে দেখে মেঘের হাতির রূপটি বদলে গিয়ে একটি প্রকাণ্ড কুমিরের আকার ধারণ করেছে। এর থেকে সে বুঝতে পেরেছিল যে প্রকৃতির রূপ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তাকে খাতায় হুবহু ধরে রাখা কঠিন।

5. খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধু খোকনের ড্রয়িং খাতা দেখে প্রথমে কী বলেছিলেন?

উত্তর দেখো
লখনউ থেকে আসা খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধু খোকনের ড্রয়িং খাতাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছিলেন। খাতা দেখে তিনি প্রথমে খোকনের প্রশংসা করে বলেছিলেন, “চমৎকার এঁকেছ!” কারণ খোকন যা কিছু দেখেছিল, তা খুব নিখুঁতভাবে এবং যত্নের সঙ্গে খাতায় ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিল।

6. “তোমার নিজের মনের ছবি কোথায়?”—চিত্রকর বন্ধুর এই প্রশ্নের অর্থ কী?

উত্তর দেখো
খোকন তার ড্রয়িং খাতায় প্রকৃতির বা সাধারণ জিনিসের যেসব ছবি এঁকেছিল, তা সবই ছিল বাস্তব থেকে হুবহু নকল করা (Copy) ছবি। চিত্রকর বন্ধু বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, একজন প্রকৃত শিল্পী শুধু নকল করেন না, তিনি নিজের কল্পনা ও অনুভূতি মিশিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু সৃষ্টি করেন। খোকনের ছবিতে সেই নিজস্বতা বা কল্পনার অভাব ছিল।

7. চিত্রকর বন্ধুর কথা শুনে খোকনের মনে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

উত্তর দেখো
চিত্রকর বন্ধুর কথা শুনে খোকন গভীরভাবে ভাবতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে যে তার আঁকা এতগুলো ছবির মধ্যে আসলে তার নিজস্ব কোনো সৃষ্টি নেই, সবই শুধু চোখের দেখা জিনিসের নকল। নিজের মনের বা কল্পনার কোনো ছবি তার খাতায় নেই ভেবে সে বেশ হতাশ এবং চিন্তিত হয়ে পড়ে।

8. নিজের মনের ছবি আঁকার জন্য চিত্রকর বন্ধু খোকনকে কী উপায় বলে দিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো
নিজের কল্পনার ছবি কীভাবে আঁকতে হয়, সেই উপায় বা কৌশল হিসেবে চিত্রকর বন্ধু খোকনকে বলেছিলেন—শান্ত হয়ে চোখ বুজে বসে নিজের মনের ভেতরে তাকাতে। চোখ বুজলে কল্পনায় সে যা দেখতে পাবে, চোখ খুলে ঠিক সেই জিনিসটিই খাতায় এঁকে ফেলতে পারলে সেটাই হবে তার নিজের মনের আসল ছবি।

9. চোখ বুজে বসে খোকন কী অনুভব করেছিল?

উত্তর দেখো
চিত্রকর বন্ধুর উপদেশ মতো খোকন নিজের ঘরের আলো নিভিয়ে অন্ধকারে চুপ করে চোখ বুজে বসেছিল। চোখ বোজার পর প্রথম দিকে সে কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। সে কেবল এক গভীর এবং নিবিড় অন্ধকারই দেখতে পাচ্ছিল, আর তার মনে হচ্ছিল সেই অন্ধকারের যেন কোনো শেষ বা সীমানা নেই।

10. খোকন কীভাবে তার অন্ধকারের ছবিটি এঁকেছিল?

উত্তর দেখো
খোকন যখন বুঝতে পারল যে চোখ বুজলে সে কেবল অন্ধকারই দেখতে পাচ্ছে, তখন সে ঠিক করল যে সে এই অন্ধকারের ছবিটিই আঁকবে। সে ড্রয়িং খাতার একটি পাতা নিল এবং তার কালো রঙের তুলি দিয়ে পুরো পাতাটি কালো রঙে ভরিয়ে দিল। এইভাবেই সে তার কল্পনায় দেখা অন্ধকারের রূপটি খাতায় ফুটিয়ে তুলেছিল।

11. আলোতে এনে খোকন তার আঁকা অন্ধকারের ছবিতে কী দেখতে পেয়েছিল?

উত্তর দেখো
অন্ধকার ঘরে পুরো পাতাটি কালো রং দিয়ে ভরানোর পর, খোকন খাতাটিকে বাইরে আলোর মধ্যে নিয়ে আসে। আলোতে খাতাটি মেলে ধরে সে অবাক হয়ে দেখে যে, পাতার সেই ঘন কালো অন্ধকারের ঠিক মাঝখানে একটা অদ্ভুত মুখের আকৃতি এবং দুটো উজ্জ্বল চোখ ফুটে উঠেছে, যা যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

12. “খোকন অবাক হয়ে গেল।”—খোকনের অবাক হওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তর দেখো
খোকন কেবল খাতার পাতা জুড়ে কালো রং লেপে অন্ধকারের ছবি আঁকতে চেয়েছিল। সে সচেতনভাবে কোনো মুখ বা চোখ আঁকেনি। কিন্তু আলোতে আনার পর যখন সে দেখল যে সেই কালো রঙের মাঝে নিজে থেকেই একটি মুখ এবং দুটো চোখ ফুটে উঠেছে, তখন তার কল্পনার এই অদ্ভুত প্রকাশ দেখেই সে অবাক হয়ে গিয়েছিল।

13. খোকনের আঁকা অন্ধকারের ছবিটিকে কেন তার ‘প্রথম ছবি’ বলা হয়েছে?

উত্তর দেখো
খোকন এর আগে যেসব ছবি এঁকেছিল, তা সবই ছিল বাইরের জগতের কোনো বস্তু বা দৃশ্যের হুবহু নকল বা কপি। কিন্তু এই অন্ধকারের ছবিটি সে বাইরের কোনো কিছু দেখে আঁকেনি, সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা ও অন্তরের অনুভূতি থেকে এঁকেছিল। এটিই ছিল তার সম্পূর্ণ নিজস্ব সৃষ্টি, তাই এটিকে তার ‘প্রথম ছবি’ বলা হয়েছে।

14. এই গল্পে ড্রয়িং মাস্টারমশাই এবং চিত্রকর বন্ধুর ভূমিকার মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো
ড্রয়িং মাস্টারমশাই খোকনকে কেবল বাইরের জগৎ বা প্রকৃতিকে দেখে তা হুবহু নকল করে আঁকতে শিখিয়েছিলেন, যা ছিল ছবি আঁকার প্রাথমিক স্তর। অন্যদিকে, চিত্রকর বন্ধু তাকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে বাইরের নকল না করে নিজের কল্পনাশক্তির সাহায্যে মনের ভেতরের ছবিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে হয়, যা একজন প্রকৃত শিল্পীর কাজ।

15. ‘খোকনের প্রথম ছবি’ গল্পটি থেকে একজন প্রকৃত শিল্পীর কোন গুণের কথা জানা যায়?

উত্তর দেখো
এই গল্পটি থেকে জানা যায় যে, একজন প্রকৃত শিল্পীর সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার নিজস্বতা এবং গভীর কল্পনাশক্তি। শিল্পী কেবল ক্যামেরার মতো বাস্তবকে হুবহু নকল করেন না, তিনি নিজের অন্তর দিয়ে বিষয়টিকে উপলব্ধি করেন এবং নিজের কল্পনা মিশিয়ে তাকে সম্পূর্ণ এক নতুন ও অনন্য রূপ দান করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার