মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি বাংলা, পটলবাবু,ফিল্মস্টার – সত্যজিৎ রায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: পটলবাবু, ফিল্মস্টার
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. পটলবাবুর অতীত অভিনয় জীবনের পরিচয় দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: একসময় পটলবাবু যখন কাঁচড়াপাড়ায় রেলের কারখানায় চাকরি করতেন, তখন তাঁর অভিনয়ের প্রবল নেশা ছিল। পাড়ার থিয়েটারে ও ক্লাবে তিনি নিয়মিত অভিনয় করতেন এবং তাঁর বেশ সুনামও ছিল। কিন্তু চাকরি চলে যাওয়ার পর সংসার চালানোর তাগিদে তাঁকে কলকাতায় আসতে হয় এবং ধীরে ধীরে তাঁর সেই অভিনয়ের শখ ও অতীত জীবন ঢাকা পড়ে যায়।

2. পটলবাবুকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব কে দিয়েছিলেন এবং তাঁর চরিত্রটি কী ছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: পটলবাবুর প্রতিবেশী নিশিকান্তবাবু তাঁর শ্যালক নরেশ দত্তর মাধ্যমে পটলবাবুকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সিনেমায় পটলবাবুর চরিত্রটি ছিল একজন খাটো, টেকো ও চশমা-পরা অন্যমনস্ক পথচারীর, যাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্তভাবে ছুটে চলা নায়কের রাস্তায় ধাক্কা লাগবে।

3. শুটিংয়ের স্থানে গিয়ে নিজের সংলাপ শুনে পটলবাবু কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: শুটিং স্পটে গিয়ে যখন পটলবাবু জানতে পারেন যে তাঁর সংলাপ কেবল একটিমাত্র শব্দ— ‘ওহ্!’, তখন তিনি ভীষণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। তাঁর মনে হয়, তাঁকে ডেকে এনে অপমান করা হচ্ছে এবং ফিল্মের লোকেরা তাঁর সঙ্গে চরম রসিকতা করছে। তাঁর অভিনয়ের অতীত প্রতিভাকে এভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে ভেবে তিনি মনে মনে অত্যন্ত কষ্ট পান।

4. গগন পাকড়াশী কে ছিলেন? তাঁর কোন্ উপদেশ পটলবাবুর মনে পড়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: গগন পাকড়াশী ছিলেন পটলবাবুর অভিনয়ের গুরু। হতাশ পটলবাবুর হঠাৎ গুরুর সেই উপদেশ মনে পড়ে যায়, যেখানে তিনি বলেছিলেন— “শিল্পীর কাছে কোনো চরিত্রই ছোটো নয়। অভিনয় হলো একটি সমবায় শিল্প। একজন প্রকৃত অভিনেতার কাজ হলো তাঁর চরিত্রের সবটুকু নির্যাস বের করে নিজের সেরাটা দর্শকের সামনে তুলে ধরা।”

5. গুরুর উপদেশ কীভাবে পটলবাবুর মানসিকতা বদলে দিয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: গুরুর উপদেশ মনে পড়ার পর পটলবাবুর সমস্ত হতাশা দূর হয়ে যায়। তিনি বুঝতে পারেন যে, একটিমাত্র শব্দের সংলাপ হলেও সেটাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই একজন প্রকৃত অভিনেতার ধর্ম। তিনি নিজের ছোটো চরিত্রটিকে আর অবহেলার চোখে না দেখে, একজন সত্যিকারের শিল্পীর মতো সেই ‘ওহ্!’ শব্দটির মধ্যেই অভিনয়ের চূড়ান্ত উৎকর্ষ খুঁজতে শুরু করেন।

6. ‘ওহ্!’ শব্দটিকে পটলবাবু কীভাবে একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পটলবাবু গলির একপাশে গিয়ে বারবার ‘ওহ্!’ শব্দটি উচ্চারণ করতে থাকেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে মানুষের বিভিন্ন আবেগে— যেমন ব্যথা, বিরক্তি, বিস্ময়, বা আক্ষেপে— ‘ওহ্’ শব্দটির সুর ও মাত্রা আলাদা হয়। তিনি গলার স্বর উঁচুতে, নিচুতে এবং বিভিন্ন ভঙ্গিতে উচ্চারণ করে একটিমাত্র শব্দের অসংখ্য বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলে সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত করেন।

7. ধাক্কা লাগার দৃশ্যটিকে আরও বাস্তবসম্মত করার জন্য পটলবাবু কী অভিনব বুদ্ধি বের করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পটলবাবু একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিনেতা ছিলেন। অন্যমনস্ক পথচারীর দৃশ্যটি নিখুঁত করার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে একটি খবরের কাগজ চান। তাঁর বুদ্ধি ছিল, তিনি কাগজটি চোখের সামনে মেলে পড়তে পড়তে চলবেন, যাতে তাঁকে সত্যি সত্যিই অন্যমনস্ক বলে মনে হয় এবং নায়কের সঙ্গে ধাক্কা লাগাটা খুব স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত দেখায়।

8. শুটিংয়ের সময় পটলবাবু ও নায়ক চঞ্চল কুমারের ধাক্কা লাগার দৃশ্যটি কেমন হয়েছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: দৃশ্যটি অভাবনীয় রকম বাস্তব ও নিখুঁত হয়েছিল। পটলবাবু এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে, ধাক্কা লাগার পর তিনি সজোরে ছিটকে পড়েন এবং তাঁর কপালে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে। যন্ত্রনা মেশানো ‘ওহ্!’ শব্দটি তাঁর মুখ থেকে একদম স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসে। নায়কের মাথাতেও ব্যথা লাগে। পরিচালক দৃশ্যটি দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে “কাট” বলেন।

9. পটলবাবু কেন তাঁর পারিশ্রমিকের টাকা না নিয়েই চলে গিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: নিখুঁত অভিনয়ের পর পটলবাবু এক অপূর্ব আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ভেতরের শিল্পীসত্তা আজও মরে যায়নি। কুড়ি টাকার পারিশ্রমিক তাঁর অভাবের সংসারে প্রয়োজন হলেও, একজন প্রকৃত শিল্পীর কাছে অভিনয়ের এই মানসিক শান্তি ও আনন্দের তুলনায় ওই সামান্য অর্থের কোনো মূল্য ছিল না। তাই তিনি শিল্পের মর্যাদা বজায় রাখতে টাকা না নিয়েই চলে যান।

10. ‘পটলবাবু, ফিল্মস্টার’ গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে কোনো কাজই ছোটো নয়। নিজের কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠা, ভালোবাসা এবং একাগ্রতা থাকলে একটি সামান্য কাজকেও শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া, গল্পটি এও প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শিল্পীর কাছে আর্থিক পারিশ্রমিকের চেয়ে মানসিক তৃপ্তি ও শিল্পের মর্যাদাই সবথেকে বড়।

11. “আজকের দিনে এইটুকু পার্ট ভারি একটা চ্যালেঞ্জ” – পটলবাবু কেন এ কথা ভেবেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দীর্ঘ বছর অভিনয়ের বাইরে থাকার পর, মাত্র একটি শব্দের (‘ওহ্!’) একটি চরিত্র পেয়ে পটলবাবু বুঝেছিলেন যে এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। বড় সংলাপে অভিনয় ফুটিয়ে তোলা সহজ, কিন্তু একটিমাত্র শব্দের মধ্যে সমস্ত আবেগ ও ব্যঞ্জনা ঢেলে দেওয়া সত্যিকারের গুণী অভিনেতার পক্ষেই সম্ভব। তাই এই ছোটো পার্টটিকে তিনি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

12. পটলবাবুর স্ত্রীর চরিত্রটি গল্পে কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: পটলবাবুর স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং সংসারী একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি গৃহবধূ। তাঁর কাছে শিল্পের চেয়ে অভাবের সংসারের টানাটানিটাই বড় ছিল। পটলবাবুর অভিনয়ের খবর শুনে তিনি খুশি হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মূল চিন্তা ছিল এর বিনিময়ে কত টাকা পাওয়া যাবে এবং তা দিয়ে সংসারের কী সুরাহা হবে। তাঁর এই বাস্তববাদী চরিত্র পটলবাবুর শিল্পীসত্তার ঠিক বিপরীত দিকটি তুলে ধরেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার