মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, মেঘ চোর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: মেঘ চোর

(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 4)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘মেঘ চোর’ গল্পে অসীমা চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘মেঘ চোর’ গল্পের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় চরিত্র হলো অসীমা। সে প্রখ্যাত রুশ বিজ্ঞানী কারপভের মেয়ে এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক। অসীমার চরিত্রে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং অসীম সাহসিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
অসীমা বিজ্ঞান বা অঙ্কে খুব পারদর্শী না হলেও ইতিহাসের জ্ঞানে সে ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাই বিজ্ঞানী পুরন্দর যখন লেক শ্রেভারের নিচে আটলান্টিস খোঁজার কথা বলেন, তখন অসীমা নিজের ঐতিহাসিক জ্ঞানের সাহায্যে অবিলম্বে প্রমাণ করে দেয় যে সেটি একটি ভিত্তিহীন এবং অবাস্তব দাবি। অন্যদিকে, পুরন্দরের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে সে বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি। নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে সে রিভলবারের সাহায্যে পুরন্দরকে অজ্ঞান করে দেয় এবং একটি স্পেস স্যুট পরে রকেটের বাইরে গিয়ে ভয়ংকর অ্যালয় বলটিকে অসীম মহাকাশে ছুড়ে ফেলে। তার এই অদম্য সাহস এবং প্রখর উপস্থিত বুদ্ধির ফলেই পৃথিবী এক বিরাট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

2. পুরন্দর চৌধুরী কে ছিলেন? লেক শ্রেভার শুকিয়ে ফেলার জন্য তাঁর পরিকল্পনার বিবরণ দাও। অসীমা কীভাবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: পুরন্দর চৌধুরী হলেন ‘মেঘ চোর’ গল্পের মূল চরিত্র এবং পেশায় একজন বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টি বিজ্ঞানী। মেঘ সৃষ্টি করা বা মেঘ তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর অসীম ক্ষমতা ছিল।
রুশ বিজ্ঞানী কারপভ তাঁকে ‘মেঘ চোর’ অপবাদ দেওয়ায় তিনি চরম অপমানের প্রতিশোধ নিতে একটি ভয়াবহ পরিকল্পনা করেন। তিনি পারদ ও অন্যান্য 5 টি ধাতু মিশিয়ে এমন একটি সংকর ধাতুর (অ্যালয়) বল তৈরি করেছিলেন, যা সামান্য জলের ছোঁয়া পেলেই প্রচণ্ড উত্তাপে চারপাশের সমস্ত জল বাষ্প করে দিতে পারে। তাঁর পরিকল্পনা ছিল এই বলটি আলাস্কার লেক শ্রেভারে ফেলে তার সমস্ত জল শুকিয়ে বাষ্প করে দেওয়া এবং সেই বাষ্পকে মেঘে পরিণত করে সাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে অবিরাম তুষারপাত ঘটানো।
কিন্তু অসীমা তাঁর এই বিধ্বংসী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। পুরন্দর যখন বলটি লেকে ফেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন অসীমা নিজের রিভলবার বের করে পুরন্দরকে অজ্ঞান করে দেয়। এরপর সে নিজে বলটিকে লেকের জলে ফেলার বদলে মহাশূন্যের দিকে ছুড়ে দিয়ে পুরন্দরের ওই ভয়াবহ পরিকল্পনা চিরতরে ব্যর্থ করে দেয়।

3. “প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ” – উক্তিটির আলোকে ‘মেঘ চোর’ গল্পের মূল সুর বা বার্তাটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘মেঘ চোর’ গল্পে লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির মধ্যে এক তীব্র সংঘাত তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী তাঁর অসীম বৈজ্ঞানিক ক্ষমতার অহংকারে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজের সামান্য প্রতিশোধস্পৃহা চরিতার্থ করার জন্য একটি বিশাল হ্রদের জল শুকিয়ে পৃথিবীর আবহাওয়ার মারাত্মক ক্ষতি করতে প্রস্তুত ছিলেন।
কিন্তু প্রকৃতি তার নিজস্ব এবং স্বতঃস্ফূর্ত নিয়মে চলে। মানুষের বৈজ্ঞানিক উন্নতি বা ব্যক্তিগত অহংকারের জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা সম্পূর্ণ অনুচিত। অসীমার করা “প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ” উক্তিটির মধ্য দিয়েই লেখক মূলত গল্পের এই কেন্দ্রীয় বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছেন। বিজ্ঞান তৈরি হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য, প্রকৃতির ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়। প্রকৃতির ওপর মানুষের এই বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা মানবজাতির জন্য চরম ধ্বংস ডেকে আনতে পারে—গল্পটিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এই সত্যটিকেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

4. বিজ্ঞানী কারপভ ও পুরন্দর চৌধুরীর মধ্যে বিরোধের কারণ কী ছিল? এই বিরোধের পরিণতি কী হতে চলেছিল?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিজ্ঞানী কারপভ এবং পুরন্দর চৌধুরীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল আমেরিকার বোস্টন শহরে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সম্মেলনে। সেখানে কারপভ পুরন্দরকে সরাসরি ‘মেঘ চোর’ বলে গালমন্দ ও অপমান করেছিলেন। কারপভের অভিযোগ ছিল যে, পুরন্দর নিজের বৈজ্ঞানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাইবেরিয়ার মেঘ চুরি করে ভারতে নিয়ে গিয়ে বৃষ্টি ঘটিয়েছিলেন।
এই তীব্র অপমানের প্রতিশোধ নিতেই পুরন্দর চৌধুরী একটি মারাত্মক পরিকল্পনা করেন। তিনি লেক শ্রেভারের জল শুকিয়ে তা সাইবেরিয়ায় মেঘ হিসেবে পাঠিয়ে সেখানে অবিরাম তুষারপাত ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই ব্যক্তিগত বিরোধের পরিণতি সমগ্র পৃথিবীর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে চলেছিল। লেকের জল বাষ্প হয়ে গেলে প্রকৃতির স্বাভাবিক জলচক্র ও ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতো এবং সাইবেরিয়াতেও প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিত, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াত।

5. ‘মেঘ চোর’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণের মাধ্যমে গল্পের বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত মূল ভাবের প্রকাশ ঘটে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আলোচ্য গল্পটির ‘মেঘ চোর’ নামকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুক্তিযুক্ত। গল্পের শুরুতেই আমরা দেখি বিজ্ঞানী কারপভ আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় প্রকাশ্যেই বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টি বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীকে ‘মেঘ চোর’ বলে অপমান করেছেন, কারণ তাঁর মতে পুরন্দর সাইবেরিয়ার মেঘ চুরি করে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ‘মেঘ চুরি’-র অপবাদ এবং তার প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র স্পৃহা থেকেই গল্পের মূল দ্বন্দ্ব ও রহস্যের সূত্রপাত ঘটে। এই চুরির অপবাদ মুছে ফেলার জন্যই পুরন্দর লেক শ্রেভার শুকিয়ে মেঘ তৈরির এক ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা করেন, যা গল্পের মূল উপজীব্য বিষয়। যেহেতু সমগ্র গল্পের ঘটনাপ্রবাহ, উত্তেজনা এবং পরিণতি এই ‘মেঘ চুরি’-র অপবাদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় ‘মেঘ চোর’ নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার