সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী – কমলা দাশগুপ্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ননীবালা দেবী কীভাবে রামচন্দ্র মজুমদারের কাছ থেকে গুপ্ত পিস্তলের খবর সংগ্রহ করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: পলাতক বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন। তাঁর কাছে একটি গুপ্ত মাউজার পিস্তল কোথায় লুকানো আছে, তার খবর জানার জন্য বিপ্লবীরা উদগ্রীব ছিলেন। ভাইপো অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বিপ্লবীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ননীবালা দেবী পরম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পুলিশের চোখ এড়িয়ে জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পিস্তলটি লুকিয়ে রাখার গোপন জায়গার খবরটি জেনে এসে বিপ্লবীদের হাতে তুলে দেন।
2. পুলিশের স্পেশাল সুপারিন্টেনডেন্ট রামসদয় বাবু ননীবালা দেবীর ওপর কীরূপ অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ননীবালা দেবী পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর স্পেশাল সুপারিন্টেনডেন্ট রামসদয় বাবু বিপ্লবীদের গোপন খবর জানার জন্য তাঁর ওপর চরম অমানবিক অত্যাচার শুরু করেন। জেলের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা নির্জন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তাঁকে আটকে রাখা হয়। আধঘণ্টা অন্তর অন্তর তাঁকে ভয়ংকরভাবে জেরা করা হতো এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। কিন্তু তাঁর প্রবল দেশপ্রেম ও বিপ্লবীদের প্রতি অটুট আনুগত্যের কারণে শত অত্যাচার সহ্য করেও তিনি একটি কথাও ফাঁস করেননি।
3. ননীবালা দেবী কেন এবং কত দিন জেলের মধ্যে অনশন করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ননীবালা দেবী ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা ‘স্টেট প্রিজনার’ বা রাজবন্দি। জেলের মধ্যে তাঁর ওপর যেমন অকথ্য অত্যাচার চলছিল, তেমনি তাঁর মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছিল। রাজবন্দি হিসেবে তিনি দাবি জানিয়েছিলেন যে, একজন বামুন রান্নার লোক দিয়ে তাঁর রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলের সুপারিন্টেনডেন্ট গোল্ডি সেই দাবি তো মানেনইনি, উলটে তাঁকে চড় মেরেছিলেন। এই অপমানের প্রতিবাদে এবং নিজের দাবি আদায়ের জন্য তিনি জেলের মধ্যে একটানা ২১ দিন জলস্পর্শ না করে ঐতিহাসিক অনশন করেছিলেন।
4. বীরাঙ্গনা দুকড়িবালা দেবী কীভাবে স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষা পান?
উত্তর দেখো
উত্তর: কমলা দাশগুপ্তের লেখা ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধ থেকে জানা যায় যে, বীরাঙ্গনা দুকড়িবালা দেবী তাঁর ভাইপো নিবারণ ঘটকের কাছ থেকেই স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষা পেয়েছিলেন। নিবারণ ঘটক ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ বিপ্লবী। তাঁর বৈপ্লবিক আদর্শ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কাহিনি দুকড়িবালা দেবীর মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং তিনিও দেশের কাজে নিজেকে সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
5. দুকড়িবালা দেবী কোন্ পিস্তল লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বিপ্লবীরা রডা কোম্পানি থেকে যে মাউজার পিস্তলগুলো চুরি করেছিলেন, ভাইপো নিবারণ ঘটকের কথায় দুকড়িবালা দেবী পরম সাহসিকতার সঙ্গে তার মধ্যে ৭টি মাউজার পিস্তল নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু পুলিশ খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি তল্লাশি করে এবং ওই ৭টি পিস্তল উদ্ধার করে। এর পরিণতিতে দুকড়িবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অস্ত্র আইন বা আর্মস অ্যাক্টে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারে তাঁকে দু-বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
অধ্যায়: স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
(অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2/3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ননীবালা দেবী কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে রামচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: পলাতক বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদার ধরা পড়ার পর প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন। তাঁর কাছে থাকা একটি গুপ্ত মাউজার পিস্তলের খোঁজ নেওয়ার জন্য ননীবালা দেবী চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে জেলে যান এবং স্পেশাল পুলিশের উপস্থিতিতেই অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রামচন্দ্রবাবুর কাছ থেকে পিস্তলটি লুকিয়ে রাখার গোপন জায়গাটি জেনে আসেন।
2. “স্টেট প্রিজনার” বা রাজবন্দি হিসেবে ননীবালা দেবী জেলের ভেতর কী দাবি জানিয়েছিলেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ননীবালা দেবী ভারতের প্রথম মহিলা স্টেট প্রিজনার বা রাজবন্দি ছিলেন। জেলের মধ্যে তাঁর ওপর যেমন অকথ্য পুলিশি নির্যাতন চলত, তেমনি তাঁর মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছিল। রাজবন্দি হিসেবে নিজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি দাবি জানিয়েছিলেন যে, জেলের সাধারণ খাবার তিনি খাবেন না, একজন বামুন বা ব্রাহ্মণ দিয়ে তাঁর রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়াতেই তিনি অনশন শুরু করেন।
3. সুপারিন্টেনডেন্ট গোল্ডি ননীবালা দেবীর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিন্টেনডেন্ট গোল্ডি ছিলেন একজন অত্যন্ত রূঢ় ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির ইংরেজ অফিসার। ননীবালা দেবী যখন রাজবন্দি হিসেবে বামুনের হাতে রান্নার দাবি জানান, তখন গোল্ডি সেই ন্যায্য দাবি তো মানেনইনি, উলটে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ননীবালা দেবীকে সজোরে একটি চড় মারেন। এই চরম অপমানের প্রতিবাদেই ননীবালা দেবী 21 দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেছিলেন।
4. পুলিশ ননীবালা দেবীকে কোথায় এবং কীরূপ অবস্থায় বন্দি করে রেখেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুলিশের স্পেশাল সুপারিন্টেনডেন্ট রামসদয় বাবু বিপ্লবীদের গোপন তথ্য জানার জন্য ননীবালা দেবীকে প্রেসিডেন্সি জেলের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সেলে বা মাটির নীচের নির্জন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রেখেছিলেন। সেখানে তাঁকে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং আধঘণ্টা অন্তর অন্তর পুলিশ গিয়ে তাঁকে জেরা ও চরম মানসিক নির্যাতন করত।
5. “সেই পিস্তলগুলি দুকড়িবালা দেবী নিজের হেফাজতে রাখিলেন।” – কোন্ পিস্তল এবং কেন তিনি তা নিজের কাছে রেখেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে বিপ্লবীদের দ্বারা রডা কোম্পানি থেকে চুরি করা 7 টি মাউজার পিস্তলের কথা বলা হয়েছে। দুকড়িবালা দেবী তাঁর ভাইপো নিবারণ ঘটকের অনুপ্রেরণায় স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে বিপ্লবীদের সাহায্য করার জন্য এবং পুলিশের হাত থেকে ওই মহামূল্যবান ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রগুলোকে বাঁচানোর জন্যই তিনি চরম ঝুঁকি নিয়ে পিস্তলগুলো নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
6. ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী’ প্রবন্ধটিতে কোন্ সময়ের এবং কেমন নারীদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রবন্ধটিতে ভারতের পরাধীনতার যুগের অর্থাৎ ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের কথা বলা হয়েছে। সেই সময়ে যেসব সাধারণ বাঙালি ঘরের মহিলারা সমাজের সমস্ত ভ্রুকুটি ও বাধাকে তুচ্ছ করে এবং পুলিশের অকথ্য অত্যাচারকে ভয় না পেয়ে হাসিমুখে বিপ্লবীদের সাহায্য করেছিলেন ও দেশের জন্য কারাবরণ করেছিলেন, এখানে ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর মতো সেইসব অসীম সাহসী ও বীরাঙ্গনা নারীদের কথাই বলা হয়েছে।