নবম শ্রেণি: বাংলা, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ – কালিদাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান 2
অধ্যায় 2: ধীবর-বৃত্তান্ত
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও:
1. “প্রভু, আমি এরকম কাজ করিনি।” – বক্তা কে? সে কোন্ কাজ করেনি বলে দাবি করেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: মহাকবি কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলো রাজকীয় আংটি পাওয়া সেই ধীবর বা জেলে।
রাজশ্যালক এবং দুই নগররক্ষী ধীবরকে মহামূল্যবান রাজকীয় আংটিটি চুরি করার অপরাধে ধরে এনেছিল। তারা ধীবরকে চোর, গাঁটকাটা বলে অপমান করছিল। তখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ধীবর অত্যন্ত বিনীতভাবে জানায় যে, সে আংটিটি চুরি করেনি, অর্থাৎ চুরির মতো হীন কাজ সে করেনি।
2. “তবে কি একে সৎ ব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা দান করেছেন?” – বক্তার এই আক্ষেপ ও ব্যঙ্গের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি রাজরক্ষী জানুকের। ধীবর যখন জানায় যে সে আংটি চুরি করেনি, তখন জানুক তাকে তীব্র ব্যঙ্গ করে এই কথাটি বলেছিল। একটি দরিদ্র এবং মলিন পোশাক পরা জেলের কাছে রাজার নাম খোদাই করা মহামূল্যবান মণির আংটি থাকাটা খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার। তাই জানুক ব্যঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছে যে, রাজা নিশ্চয়ই এই জেলেকে গুণী ব্রাহ্মণ ভেবে আংটিটি দান করেননি, সে আংটিটি চুরিই করেছে।
3. “তা তোর পেশাটা দেখছি বেশ পবিত্র!” – বক্তার এই ব্যঙ্গের কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালকের। ধীবর যখন নিজের পরিচয় দিয়ে বলে যে সে শক্রাবতারে থাকে এবং জাল, বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালায়, তখন রাজশ্যালক এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যটি করেন। সমাজের উঁচু তলার মানুষ হিসেবে রাজশ্যালকের মনে খেটেখাওয়া নিচুতলার মানুষের পেশা সম্পর্কে তীব্র তাচ্ছিল্য ছিল। মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করাকে তিনি অত্যন্ত হীন এবং অপবিত্র কাজ বলে মনে করতেন, তাই তিনি ধীবরকে এই কথা বলেন।
4. “শুনুন মহাশয়, এরকম বলবেন না।” – কে, কাকে, কেন এ কথা বলেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলো ধীবর এবং সে রাজশ্যালককে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে।
রাজশ্যালক ধীবরের মাছ ধরার পেশা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করে তাকে অপমান করেছিলেন। এর প্রতিবাদে ধীবর অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে জানায় যে, যে বৃত্তিতে মানুষ জন্মায় তা নিন্দনীয় হলেও কখনো ছাড়া উচিত নয়। একজন মানুষের কর্ম দিয়ে তার বিচার হওয়া উচিত, জন্মগত পেশা দিয়ে নয়। নিজের পেশার প্রতি সম্মানবোধ থেকেই ধীবর এই কথা বলেছিল।
5. ধীবর তার নিজের পেশার সমর্থনে কোন্ উদাহরণ দিয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: নিজের জন্মগত পেশাকে সম্মান জানিয়ে ধীবর একজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের উদাহরণ দিয়েছিল। সে বলেছিল, একজন ব্রাহ্মণ স্বভাবত অত্যন্ত দয়ালু হন, কিন্তু যজ্ঞের সময় বেদবিধি অনুসারে তাকে পশুবধের মতো নিষ্ঠুর কাজ করতে হয়। তাই পেশার কারণে কাউকেই ছোটো বা হীন মনে করা উচিত নয়।
6. “সূচক, একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।” – বক্তার এই নির্দেশের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি রাজশ্যালকের। ধীবর যখন নিজের পরিচয় দিচ্ছিল, তখন রক্ষী সূচক তাকে বারবার বাধা দিচ্ছিল এবং গালাগালি করছিল। রাজশ্যালক বুঝতে পেরেছিলেন যে, ধীবরের কথার মাঝখানে বাধা দিলে আংটি চুরির আসল সত্যিটা কখনো জানা যাবে না। তাই তিনি সূচককে ধমক দিয়ে ধীবরকে তার পুরো কাহিনি (পূর্বাপর) খুলে বলার সুযোগ দিয়েছিলেন।
7. আংটি পাওয়ার ঘটনাটি ধীবর কীভাবে বর্ণনা করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবর রক্ষীদের জানায় যে, একদিন সে একটি রুই মাছ ধরেছিল। যখন সে মাছটিকে খণ্ড খণ্ড করে কাটছিল, তখন সেই মাছের পেটের ভেতর থেকে এই মহামূল্যবান মণি খচিত আংটিটি সে দেখতে পায়। এরপর বাজারে সেই আংটিটি বিক্রি করতে এসেই রক্ষীদের হাতে সে ধরা পড়ে। সে দৃঢ়ভাবে জানায় যে এই আংটি সে চুরি করেনি।
8. “এর গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে…” – বক্তা কে? এমন মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলো রাজশ্যালক। ধীবর আংটি পাওয়ার সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর রাজশ্যালক স্বীকার করেন যে লোকটা যে পেশায় জেলে, তা তার গা থেকে বেরোনো মাছের বা কাঁচা মাংসের দুর্গন্ধ থেকেই বোঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ, ধীবর যে তার পেশার বিষয়ে মিথ্যা বলেনি, রাজশ্যালক সেই সত্যতাই এখানে স্বীকার করেছেন।
9. “মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।” – বক্তার এমন মানসিকতার কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলো ধীবর। রক্ষীদের প্রবল অত্যাচার এবং অপমানের মুখে দাঁড়িয়েও ধীবর নিজের সততার জায়গা থেকে একচুলও সরে আসেনি। সে জানত যে সে নির্দোষ এবং কোনো চুরি সে করেনি। সত্যের প্রতি এই অবিচল আস্থার কারণেই মৃত্যুর ভয়ে ভীত না হয়ে সে রক্ষীদের সামনে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে এই কথাটি বলতে পেরেছিল।
10. “রাজার আদেশের জন্য অপেক্ষা করছি।” – কে, কোথায় অপেক্ষা করছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজশ্যালক আংটিটি নিয়ে রাজা দুষ্মন্তের প্রাসাদে প্রবেশের পর রক্ষী সূচক এবং জানুক ধীবরকে হাত-বাঁধা অবস্থায় রাজপ্রাসাদের দরজার বাইরে আটকে রেখেছিল। ধীবরের অপরাধের বিচার করে রাজা কী আদেশ দেন বা তাকে কী শাস্তি দেন, সেই আদেশের জন্যই তারা সেখানে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
11. রাজশ্যালকের ফিরতে দেরি হওয়ায় রক্ষীদের মনে কী ভাবনার উদয় হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজশ্যালক রাজপ্রাসাদের ভেতর থেকে ফিরতে দেরি করায় রক্ষী সূচক অধৈর্য হয়ে পড়েছিল। জানুক তাকে বোঝায় যে, রাজাদের কাছে যেকোনো সময় সহজে ঢোকা যায় না, অবসরের অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে, ধীবরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের হাত নিশপিশ করছিল, তারা ভাবছিল যে ধীবরকে শূলে চড়ানো হবে নাকি শকুন দিয়ে খাওয়ানো হবে।
12. “এই আংটি রাজার খুব প্রিয়।” – এই মন্তব্যের পক্ষে রাজশ্যালক কী যুক্তি দিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজশ্যালক জানান যে আংটিটি দামি মণি দিয়ে বাঁধানো বলেই যে রাজার কাছে মূল্যবান, তা নয়। বরং আংটিটি দেখার সাথে সাথে রাজা দুষ্মন্তের মনে তাঁর কোনো প্রিয়জনের স্মৃতি জেগে উঠেছিল। সেই স্মৃতির কারণেই মুহূর্তের জন্য রাজা অত্যন্ত গম্ভীর এবং বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে আংটিটি রাজার খুব প্রিয়।
13. “প্রভু, অনুগ্রহীত হলাম।” – কে, কেন অনুগ্রহীত হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলো ধীবর।
রাজশ্যালক যখন রাজপ্রাসাদ থেকে ফিরে এসে জানান যে রাজা ধীবরের সমস্ত কথা বিশ্বাস করেছেন এবং তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে মুক্তি দিয়েছেন, তখন ধীবর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এবং চুরির অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েই সে কৃতজ্ঞতাবশত রাজশ্যালককে এই কথাটি বলেছিল।
14. “এনেছে একেবারে যমের ঘর থেকে ফিরে।” – কার সম্পর্কে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি রাজরক্ষী সূচক ধীবরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।
রক্ষীদের নিশ্চিত ধারণা ছিল যে রাজকীয় আংটি চুরির অপরাধে ধীবরের মৃত্যুদণ্ড বা শূলে চড়ার আদেশ আসবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে রাজা ধীবরকে নির্দোষ ঘোষণা করে সসম্মানে মুক্তি দেন। অর্থাৎ, নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ধীবরের এই ফিরে আসাকেই সূচক ‘যমের ঘর থেকে ফিরে আসা’ বলে বর্ণনা করেছে।
15. রাজা ধীবরকে কী পুরস্কার দিয়েছিলেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাজা দুষ্মন্ত ধীবরকে ওই মহামূল্যবান আংটিটির সমমূল্যের অর্থ বা টাকা পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন। ধীবরের দেওয়া আংটিটি পাওয়ার ফলেই রাজার তাঁর হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন শকুন্তলার কথা মনে পড়ে যায়। এই আংটি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ধীবর যে রাজার এক বিরাট উপকার করেছে, সেই আনন্দেই রাজা তাকে এই বিপুল অর্থ পুরস্কার দেন।
16. ধীবর তার পুরস্কারের অর্থ নিয়ে কী করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধীবর ছিল অত্যন্ত সৎ এবং উদার প্রকৃতির মানুষ। রাজার কাছ থেকে পাওয়া সেই বিপুল পুরস্কারের অর্থের অর্ধেক ভাগ সে রাজশ্যালক এবং রক্ষী জানুক ও সূচককে ফুলের দাম বা মদের দাম হিসেবে উপহার দেয়। যারা তাকে একটু আগেও চরম অপমান করেছিল, তাদের প্রতি ধীবরের এই উদারতা তার বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দেয়।
17. “আজ থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট বন্ধু হলে।” – কে, কাকে, কেন এ কথা বলেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি রাজশ্যালক ধীবরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
প্রথমে ধীবরকে চোর ভেবে রাজশ্যালক অত্যন্ত তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু ধীবর যখন রাজার দেওয়া বিপুল পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ বিনা দ্বিধায় তাদের হাতে তুলে দেয়, তখন রাজশ্যালক ধীবরের সততা এবং উদারতায় মুগ্ধ হন। সেই মুগ্ধতা এবং লোভের বশবর্তী হয়েই তিনি নিচুতলার এই জেলেকে নিজের বিশিষ্ট বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।
18. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রক্ষীদের চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: এই নাট্যাংশে রক্ষী জানুক এবং সূচকের চরিত্রের অহংকারী, নিষ্ঠুর এবং সুবিধাবাদী দিকটি ফুটে উঠেছে। রাজক্ষমতার অহংকারে তারা বিনা বিচারে একজন অসহায় জেলেকে গালাগালি ও মারধর করতে উদ্যত হয়েছিল। আবার সেই জেলেই যখন তাদের অর্থের ভাগ দেয়, তখন নিজেদের স্বার্থপর এবং ঘুষখোর প্রবৃত্তির কারণে তারা তাকে পরম বন্ধু হিসেবে মেনে নেয়।