মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, নীলগিরি – সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর মান 3

অধ্যায় 17: নীলগিরি
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. নীলগিরি পাহাড়ের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘নীলগিরি’ শব্দের অর্থ হলো নীল রঙের পর্বত। এই পাহাড়ের নামকরণের পেছনে মূলত দুটি কারণ প্রচলিত আছে। প্রথমত, আকাশ এবং মেঘের ছায়ার কারণে দূর থেকে এই পর্বতশ্রেণীকে গাঢ় নীল বর্ণের দেখায়। দ্বিতীয়ত, এই পাহাড়ে ‘কুরুঞ্জি’ নামক এক প্রকার বুনো ফুল ফোটে যা নীল রঙের। প্রতি 12 বছর অন্তর যখন এই ফুল পাহাড়জুড়ে ফোটে, তখন পাহাড়টি নীল চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নাম নীলগিরি।

2. নীলগিরি যাওয়ার পাহাড়ি পথটির বর্ণনা দাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি যাওয়ার পাহাড়ি পথ অত্যন্ত সর্পিল এবং রোমাঞ্চকর। মহীশূর থেকে বন্দিপুর অরণ্য পার হওয়ার পর পাহাড়ের চড়াই শুরু হয়। এই রাস্তাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং ঘন ঘন বাঁকযুক্ত। মোটর চালকদের জন্য এই পথ বেশ বিপজ্জনক কারণ এখানে প্রায় 36 টি ‘হেয়ারপিন’ বাঁক বা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বাঁক রয়েছে। পথের দুপাশে ঘন অরণ্য এবং গভীর খাদ পর্যটকদের মনে একইসাথে ভয় এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।

3. উটকামান্ড শৈলশহরটি লেখকের কেন ইংল্যান্ডের মতো মনে হয়েছে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: উটকামান্ড বা উটি শৈলশহরটি ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠেছিল। এখানকার ঘরবাড়ির স্থাপত্য, সাজানো বাগান, ছোটো ছোটো পার্ক এবং বিলেতি ফুলের সমারোহ লেখকের কাছে বিদেশের মতো লেগেছে। বিশেষ করে এখানকার মেঘলা আকাশ এবং চিরবসন্তের মতো স্নিগ্ধ আবহাওয়া ইংল্যান্ডের গ্রাম্য পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। ব্রিটিশরা এই শহরটিকে তাদের দেশের আদলেই সাজিয়েছিল বলে লেখক এমন তুলনা করেছেন।

4. নীলগিরির আদিবাসী টোডোদের জীবনযাত্রার সংক্ষি্প্ত পরিচয় দাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: টোডোরা নীলগিরি পাহাড়ের অতি প্রাচীন এবং রহস্যময় এক আদিবাসী গোষ্ঠী। তারা মূলত পশুপালন, বিশেষ করে মহিষ পালনের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। দুগ্ধজাত দ্রব্য তাদের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। তাদের কুটিরগুলো দেখতে অনেকটা পিপের মতো বা অর্ধ-গোলাকৃতি। তাদের নিজস্ব ভাষা এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে যা আধুনিক সভ্যতার স্পর্শ থেকেও অনেকটাই মুক্ত।

5. দোদাবেতা শৃঙ্গ সম্পর্কে লেখক কী তথ্য দিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: দোদাবেতা হলো নীলগিরি পর্বতশ্রেণীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 8,700 ফুটের কাছাকাছি। উটকামান্ড শহর থেকে অল্প দূরেই এর অবস্থান। এই শৃঙ্গের চূড়া থেকে চারিদিকের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। পরিষ্কার আকাশ থাকলে এখান থেকে অনেক দূর পর্যন্ত পাহাড়ের সারি এবং ঘন অরণ্য দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে এটি নীলগিরির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

6. নীলগিরি অঞ্চলে ইউক্যালিপটাস গাছের গুরুত্ব কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে ইউক্যালিপটাস বা নীলগিরি গাছ জন্মায়। এই গাছগুলো লম্বায় অনেক বড়ো হয় এবং এর পাতা থেকে এক প্রকার ওষধি সুগন্ধি তেল নিষ্কাশন করা হয়, যা ‘নীলগিরি তেল’ নামে পরিচিত। এই তেল সর্দি-কাশি বা বাতের ব্যথার উপশমে অত্যন্ত কার্যকর। নীলগিরি অঞ্চলের অর্থনীতিতে এই তেলের উৎপাদন ও ব্যবসা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

7. “নীলগিরির সৌন্দর্য অপূর্ব” – লেখক কীভাবে এই সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখকের বর্ণনায় নীলগিরি পাহাড়ের সৌন্দর্য এক মোহময় জগতের মতো। পাহাড়ের গায়ে সারি সারি সবুজ চা বাগান, নীল রঙের পাহাড়ের চূড়া আর পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে মেঘেদের লুকোচুরি খেলা এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করে। বিলেতি ফুলের বাগান এবং পাইন-ইউক্যালিপটাসের ঘন বন এই সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিজ্ঞানী হয়েও লেখক এখানে একজন সাহিত্যিকের মতো প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপের বর্ণনা দিয়েছেন।

8. নীলগিরির চা চাষ সম্পর্কে প্রবন্ধে কী বলা হয়েছে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি অঞ্চলটি উচ্চমানের চা উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। পাহাড়ের ঢালে ধাপ কেটে তৈরি করা চা বাগানগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। উটকামান্ড এবং বিশেষ করে কুনুর অঞ্চলে বিশাল বিশাল চা বাগান লক্ষ্য করা যায়। এই অঞ্চলের চা তার স্বতন্ত্র সুগন্ধ এবং স্বাদের জন্য পরিচিত। চা চাষ এবং এর প্রক্রিয়াকরণ নীলগিরির মানুষের অন্যতম প্রধান জীবিকা।

9. বন্দিপুর জঙ্গল সম্পর্কে লেখকের অভিজ্ঞতা কীরূপ ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি যাওয়ার পথে লেখক মহীশূর রাজ্যের অন্তর্গত বন্দিপুর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। এটি একটি অভয়ারণ্য যেখানে হাতি, হরিণ এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। ঘন অরণ্যের নির্জনতা এবং বন্য পরিবেশ লেখককে রোমাঞ্চিত করেছিল। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অরণ্যটি নীলগিরি ভ্রমণের এক অবিচ্ছেদ্য এবং সুন্দর অংশ।

10. নীলগিরি ভ্রমণের সময় লেখকের বিজ্ঞানীসুলভ কৌতূহল কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ বসু কেবল একজন পর্যটকের চোখে নীলগিরিকে দেখেননি। তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে পাহাড়ের উচ্চতা, মাটির প্রকৃতি, জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য এবং উদ্ভিদের বৈচিত্র্য নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে তেল নিষ্কাশন বা টোডোদের প্রাচীন সংস্কৃতির বৈজ্ঞানিক ও সমাজতাত্ত্বিক দিকগুলো তাঁর বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা তাঁর বিজ্ঞানীসুলভ মানসিকতার পরিচয় দেয়।

11. নীলগিরির ‘কুনুর’ (Coonoor) শহরটির বর্ণনা দাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কুনুর হলো নীলগিরির দ্বিতীয় বৃহত্তম শৈলশহর। এটি উটকামান্ড থেকে উচ্চতায় কিছুটা কম হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। কুনুর মূলত তার বিশাল চা বাগান এবং ‘সিম’স পার্ক’ নামক বোটানিক্যাল গার্ডেনের জন্য বিখ্যাত। এখানকার শান্ত পরিবেশ এবং সবুজের সমারোহ পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে। নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হলো এই কুনুর।

12. নীলগিরির আবহাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর কেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় এখানকার বাতাস অত্যন্ত নির্মল এবং দূষণমুক্ত। সারা বছর তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ থাকে, অর্থাৎ খুব বেশি গরম বা অতিরিক্ত হাড়কাঁপানো শীত পড়ে না। এখানকার আবহাওয়াকে ‘চিরবসন্তের’ সাথে তুলনা করা হয়। এই স্নিগ্ধ জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক নির্জনতা মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে, তাই একে স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত হিতকর বলা হয়।

13. ‘উটকামান্ড’ নামটি কীভাবে এসেছে এবং এর গুরুত্ব কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘উটকামান্ড’ নামটি এসেছে মূলত টোডোদের ব্যবহৃত শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো টোডোদের গ্রাম। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি দক্ষিণ ভারতের প্রধান শৈলশহর এবং গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। এর ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি নীলগিরি পর্বতশ্রেণীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বর্তমানে এটি পর্যটন এবং চা ব্যবসার এক বিশাল কেন্দ্র।

14. নীলগিরির মাউন্টেন রেলওয়ে (টয় ট্রেন) সম্পর্কে কী জানা যায়? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই ছোটো রেলগাড়িটি বা টয় ট্রেনটি পাহাড়ের অত্যন্ত খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে। এটি মূলত ‘র‍্যাক অ্যান্ড পিনিয়ন’ পদ্ধতিতে চলে। সুড়ঙ্গ, সেতু এবং ঘন অরণ্যের মধ্য দিয়ে এই ট্রেন ভ্রমণ পর্যটকদের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এটি মেট্টুপালায়ম থেকে উটি পর্যন্ত যাতায়াত করে।

15. নীলগিরি পাহাড়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: নীলগিরি পাহাড় তার সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ঘন ক্রান্তীয় অরণ্য বা ‘শোলা’ বন দেখা যায়। এছাড়া এখানকার পাহাড়ের গায়ে প্রচুর পরিমাণে পাইন, ইউক্যালিপটাস এবং আকাশমণি গাছ জন্মে। বিলেতি ফুলের বাগান এখানকার প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া ধাপ চাষের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে চা, কফি এবং বিভিন্ন সবজির আবাদ এখানে করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার