মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, কর্ভাস (প্রফেসর শঙ্কুর ডায়রি) -সত্যজিৎ রায়, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর মান 5

সহায়ক পাঠ: কর্ভাস
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. কর্ভাসের বুদ্ধির পরিচয় দিতে প্রফেসর শঙ্কু কোন্ কোন্ পরীক্ষা করেছিলেন? তার ফলাফল কী হয়েছিল? (5)

উত্তর দেখো
প্রফেসর শঙ্কু তাঁর আবিষ্কৃত ‘অরনিথন’ যন্ত্রের সাহায্যে কর্ভাস নামক দাঁড়কাকটির বুদ্ধি বৃদ্ধির পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। কর্ভাসের মেধার পরিচয় দিতে তিনি বেশ কিছু কঠিন পরীক্ষা গ্রহণ করেন:

ক) লিখন পদ্ধতি: শঙ্কু কর্ভাসকে পেন্সিল মুখে নিয়ে ইংরেজি লিখতে শিখিয়েছিলেন। কর্ভাস কোনো ভুল ছাড়াই নিউজপ্রিন্ট কাগজের ওপর বড় বড় হরফে নিজের নাম ‘CORVUS’ লিখতে সক্ষম হয়েছিল।
খ) অঙ্ক কষা: কর্ভাস সাধারণ পাটিগণিতের যোগ, বিয়োগ ও গুণ করতে পারত। শঙ্কু স্লেটে কোনো গাণিতিক সমস্যা দিলে কর্ভাস তার সঠিক উত্তরটি লিখে দেখাত।
গ) সাধারণ জ্ঞান: কর্ভাস কেবল অঙ্ক বা লেখাই নয়, বরং পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডারের তারিখ এবং বার বলতে পারত। এমনকি সে বিভিন্ন দেশের নাম ও রাজধানী সম্পর্কেও সচেতন ছিল।

ফলাফল: এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। কর্ভাস মাত্র কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে মানুষের সমতুল্য আই-কিউ (IQ) অর্জন করেছিল। তাঁর এই অসামান্য মেধা পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছিল এবং শঙ্কুর গবেষণাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।

2. ‘কর্ভাস’ গল্পে জাদুকর আর্গাসের ধূর্ততা ও কর্ভাসকে অপহরণ করার প্রচেষ্টার বিবরণ দাও। (5)

উত্তর দেখো
জাদুকর আর্গাস ছিলেন গল্পের খলনায়ক এবং এক অত্যন্ত লোভী ও ধূর্ত ব্যক্তি। কর্ভাসকে পাওয়ার জন্য তিনি যে পন্থাগুলি অবলম্বন করেছিলেন তা হলো:

ক) প্রলোভন দেখানো: আর্গাস প্রথমে সোজাসুজি শঙ্কুর কাছে গিয়ে কর্ভাসকে কেনার প্রস্তাব দেন। তিনি দশ হাজার ডলারের লোভ দেখান এবং দাবি করেন যে কর্ভাসকে দিয়ে তিনি জাদুর খেলা দেখিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করবেন।
খ) চুরির পরিকল্পনা: শঙ্কু যখন আর্গাসের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন, তখন আর্গাস চুরির পথ বেছে নেন। তিনি জানতেন শঙ্কু কখন অপেরা হাউসে যাবেন। সেই সুযোগে তিনি শঙ্কুর হোটেলের ঘরে হানা দেন।
গ) অপহরণ: আর্গাস তাঁর জাদুকরী প্রভাব বা ধূর্ততা ব্যবহার করে শঙ্কুর ভৃত্য প্রহ্লাদকে পরাস্ত করেন এবং কর্ভাসকে তাঁর রুপোলি রঙের মার্সিডিজ গাড়িতে তুলে নিয়ে ভালপারাইসো শহরের দিকে চম্পট দেন।

আর্গাসের এই আচরণ প্রমাণ করে যে তিনি বিজ্ঞানের জয়যাত্রাকে কেবল নিজের ব্যবসায়িক উন্নতির হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর মধ্যে নৈতিকতার লেশমাত্র ছিল না।

3. সান্তিয়াগোর পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনের বর্ণনা দাও। সেখানে কর্ভাস কীভাবে নিজের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিল? (5)

উত্তর দেখো
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে পক্ষীবিজ্ঞানী কোভ্যারুবিয়াসের আমন্ত্রণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন বসেছিল। সেখানে বিশ্বের বাঘা বাঘা ২৫ জন পক্ষীবিজ্ঞানী উপস্থিত ছিলেন। সেই সম্মেলনে কর্ভাসের প্রদর্শন ছিল আকর্ষণীয়:

ক) প্রথম দর্শন: কর্ভাস যখন মঞ্চে এল, তখন বিজ্ঞানীরা একটি সাধারণ দাঁড়কাককে নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু কর্ভাস শান্তভাবে নিজের আসন গ্রহণ করে সবাইকে অবাক করে দেয়।
খ) মেধার প্রদর্শন: শঙ্কু যখন কর্ভাসকে পেন্সিল দিলেন, সে দ্রুত নিউজপ্রিন্ট কাগজের ওপর বড় হাতের ইংরেজি হরফে নিজের নাম লিখে দিল। এরপর বিজ্ঞানীরা তাকে বিভিন্ন গাণিতিক প্রশ্ন করলে সে নির্ভুলভাবে উত্তর লিখে দেখায়।
গ) শৃঙ্খলার পরিচয়: কর্ভাস কেবল বুদ্ধিরই নয়, বরং অসামান্য শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছিল। সে কোনো হট্টগোল না করে গম্ভীরভাবে বিজ্ঞানীদের প্রশ্নের মোকাবিলা করেছিল।

বিজ্ঞানীরা সমস্বরে স্বীকার করেছিলেন যে শঙ্কুর এই আবিষ্কার পক্ষীবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। কর্ভাসের কৃতিত্বের জন্য শঙ্কু সেদিন বিশ্বব্যাপী প্রশংসা ও সম্মান লাভ করেছিলেন।

4. আর্গাসের হাত থেকে কর্ভাসের মুক্তির কাহিনীটি নিজের ভাষায় লেখো। (5)

উত্তর দেখো
কর্ভাস অপহৃত হওয়ার পর শঙ্কু আর্গাসের মার্সিডিজ গাড়ির পিছু নেন। এই যাত্রাপথ ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও রোমাঞ্চকর:

ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: যাত্রাপথে প্রবল ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি শুরু হয়। পিচ্ছিল রাস্তায় আর্গাসের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দুর্ঘটনায় পড়ে।
খ) কর্ভাসের উপস্থিত বুদ্ধি: গাড়ি দুর্ঘটনার পর আর্গাস কর্ভাসকে খাঁচা থেকে বের করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় কর্ভাস আর্গাসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর সোনার চশমাটি ছিনিয়ে নেয়। চশমা ছাড়া আর্গাস চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, ফলে তাঁর পক্ষে কর্ভাসকে ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গ) চূড়ান্ত মুক্তি: বৃষ্টির মধ্যে কর্ভাস উড়ে গিয়ে দূর আকাশে মিলিয়ে যায় এবং পরে শঙ্কুর কাছে ফিরে আসে। চশমাটি ছিনিয়ে নিয়ে কর্ভাস মূলত আর্গাসকে অন্ধ করে দিয়ে নিজের পালানোর পথ সুগম করেছিল।

এই ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে কর্ভাস কেবল যান্ত্রিকভাবে বুদ্ধিমান নয়, সে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রখর বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন।

5. ‘কর্ভাস’ গল্পে পাখি কর্ভাসের মানবিক গুণের যে পরিচয় পাও তা বর্ণনা করো। (5)

উত্তর দেখো
কর্ভাস চরিত্রটি কেবল একটি বুদ্ধিমান পাখির নয়, বরং তার মধ্যে গভীর মানবিক আবেগ ও মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে। নিচে তার পরিচয় দেওয়া হলো:

ক) কৃতজ্ঞতাবোধ ও আনুগত্য: কর্ভাস প্রফেসর শঙ্কুর প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিল। সে বুঝত শঙ্কুই তাকে অসাধারণ মেধার অধিকারী করেছেন। হোটেলের ঘর থেকে শঙ্কুর জন্য রুমাল এনে দেওয়া বা তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর মর্যাদাহানি হতে না দেওয়া ছিল তার কৃতজ্ঞতার প্রমাণ।
খ) বিচারবুদ্ধি ও শঠতার প্রতিবাদ: আর্গাস যখন তাকে লোভ দেখিয়ে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করেন, কর্ভাস তখন আর্গাসের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে। সে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি।
গ) বাকশক্তি ও অনুভূতি: গল্পের শেষে কর্ভাস যখন স্পষ্ট মানুষের গলায় ‘আর্গাস’ নামটি উচ্চারণ করে, তখন বোঝা যায় তার শ্রবণশক্তি ও বোধশক্তি কত গভীর। সে কেবল আদেশ পালনকারী যন্ত্র নয়, সে মানুষের মতো ঘৃণা বা ক্রোধ প্রকাশ করতে শিখেছে।

সত্যজিৎ রায় এই গল্পের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে ভালোবাসার ও সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পশুর মধ্যেও উন্নত মানবিক গুণাবলীর সঞ্চার করা সম্ভব।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার