মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি : বাংলা, একুশের কবিতা – আশরাফ সিদ্দিকী, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

একুশের কবিতা: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. “পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল”—কবিতায় এই পঙ্ক্তিটির উল্লেখের কারণ কী?

উত্তর দেখো
মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা এই পঙ্ক্তিটি বাঙালির পাঠশালার প্রথম পাঠের চিরন্তন স্মৃতি বহন করে। মাতৃভাষার সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান এবং শিশুকালের প্রথম শিক্ষার অমলিন স্মৃতি বোঝাতেই কবি এই চরণটি উদ্ধৃত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের গভীরে মিশে আছে।

2. “দাদিমার রূপকথার গল্প”—কবির মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?

উত্তর দেখো
দাদিমার শোনানো রূপকথার গল্প কবির শৈশবকে স্বপ্নের মতো রঙিন ও কল্পনাময় করে তুলেছিল। মাতৃভাষায় শোনা সেই গল্পগুলো তাঁর মনে নিজের ভাষার প্রতি গভীর মমতা এবং শেকড়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্ম দিয়েছিল, যা তিনি আজীবন সযত্নে লালন করেছেন।

3. “তেপান্তরের মাঠ” এবং “ডালিমকুমার”—এই শব্দগুলির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো
‘তেপান্তরের মাঠ’ এবং ‘ডালিমকুমার’ হলো বাঙালির লোকজ রূপকথার অত্যন্ত পরিচিত অনুষঙ্গ। এই শব্দগুলোর মধ্য দিয়ে কবি আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ সরলতা এবং মাতৃভাষার সঙ্গে আমাদের আত্মার যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, তাকেই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

4. “রাক্ষস” বলতে কবিতায় কাদের বোঝানো হয়েছে এবং কেন?

উত্তর দেখো
‘রাক্ষস’ বলতে এখানে সেইসব অত্যাচারী বিদেশি এবং স্বৈরাচারী শাসকদের বোঝানো হয়েছে, যারা 1952 সালে জোরপূর্বক বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। রূপকথার রাক্ষস যেমন সবকিছু গ্রাস করতে চায়, তেমনি এই শাসকেরাও বাংলা ভাষার অধিকার হরণ করে জাতিকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল।

5. “বুকের রক্তে রাজপথ রাঙানো”—কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো
1952 সালের 21 শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে নেমেছিল। স্বৈরাচারী পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালালে রফিক, সালাম, বরকত প্রমুখের বুকের তাজা রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়। মাতৃভাষার জন্য এই চরম ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকেই কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

6. “ইতিহাস থমকে দাঁড়িয়েছে”—ইতিহাস কেন থমকে দাঁড়িয়েছে?

উত্তর দেখো
মাতৃভাষার জন্য বাংলার তরুণদের এমন অকুতোভয় আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ও বিরল ঘটনা। ঘাতকের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে কেবল মুখের ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার এই অভূতপূর্ব বীরত্ব ও সাহসিকতা দেখেই যেন স্বয়ং ইতিহাস বিস্ময়ে ও শ্রদ্ধায় থমকে দাঁড়িয়েছে।

7. “মাতৃভাষা” কীভাবে আমাদের শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।

উত্তর দেখো
শৈশবে মায়ের মুখের ঘুমপাড়ানি গান, দাদিমার বলা রূপকথার জাদুর গল্প এবং পাঠশালার জীবনের প্রথম পড়া—এই সবকিছুই মাতৃভাষায় ঘটে থাকে। মাতৃভাষা শুধু আমাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের শৈশবের প্রতিটি আবেগ, প্রথম শেখা শব্দ, স্মৃতি ও স্বপ্নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

8. ভাষা আন্দোলনে রফিক, সালাম, বরকতদের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো
রফিক, সালাম, বরকতেরা ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় অগ্রসেনানী। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁরা শাসকগোষ্ঠীর ভয়াল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে তাঁরা মাতৃভাষার অধিকারকে চিরকালের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

9. ঘাতকের বুলেট কেন দামাল ছেলেদের স্তব্ধ করতে পারেনি?

উত্তর দেখো
বাংলার দামাল ছেলেদের মনে ছিল মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার অদম্য জেদ। মাতৃভাষাকে মায়ের মতো ভালোবাসার কারণেই কোনো পার্থিব ভয় বা ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেট তাদের স্বাধীনতার প্রবল স্পৃহাকে স্তব্ধ বা পরাজিত করতে পারেনি।

10. “একুশের কবিতা” নামকরণের সার্থকতা কোথায়?

উত্তর দেখো
1952 সালের 21 শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং ভাষা শহিদদের পরম আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করেই সমগ্র কবিতাটি আবর্তিত হয়েছে। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে পাঠকের মনে স্মরণ করিয়ে দেয় বলেই ‘একুশের কবিতা’ নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও যুক্তিসঙ্গত হয়েছে।

11. “আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়”—কারা, কেন এই ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল?

উত্তর দেখো
তৎকালীন বিদেশি শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের অত্যাচারী দোসররা বাঙালির মুখের ভাষা অর্থাৎ বাংলা ভাষাকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে কুক্ষিগত করে রাখা এবং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাধীন পরিচিতিকে চিরতরে মুছে ফেলার হীন উদ্দেশ্যেই তারা এই চক্রান্ত করেছিল।

12. মদনমোহন তর্কালঙ্কারের কবিতার চরণটি আমাদের মনে কোন অনুভূতির সৃষ্টি করে?

উত্তর দেখো
মদনমোহন তর্কালঙ্কারের “পাখি সব করে রব” চরণটি আমাদের মনে এক গভীর অতীতের মধুর স্মৃতি বা স্মৃতিকাতরতার সৃষ্টি করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় পাঠশালার সেই পবিত্র দিনগুলোর কথা, যখন আমরা অত্যন্ত আদরের সাথে মাতৃভাষার বর্ণমালার সাথে প্রথম পরিচিত হয়েছিলাম।

13. “বিন্নি ধানের খই” কথাটি কবিতায় কোন প্রসঙ্গে এসেছে?

উত্তর দেখো
‘বিন্নি ধানের খই’ হলো গ্রামবাংলার অত্যন্ত পরিচিত ও সুস্বাদু একটি খাবার। কবিতাটিতে বাঙালির চিরায়ত গ্রামীণ জীবন, লোকজ সংস্কৃতির সুবাস এবং মাতৃভাষার প্রতি আমাদের যে অকৃত্রিম ও সহজ-সরল ভালোবাসা রয়েছে, তার পবিত্র প্রতীক হিসেবেই এই কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

14. “একুশ মানে মাথা নত না করা”—উক্তিটির মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো
একুশ অর্থাৎ 21 শে ফেব্রুয়ারি কেবল পঞ্জিকার একটি তারিখ নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক জ্বলন্ত প্রতীক। এটি আমাদের শেখায় যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির কাছে কখনোই নতিস্বীকার না করতে। নিজেদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে সর্বদা মাথা উঁচু করে লড়ার অবিচল প্রেরণাই হলো এই উক্তির মর্মার্থ।

15. এই কবিতায় কবির স্বদেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর দেখো
কবি আশরাফ সিদ্দিকী মাতৃভাষাকে নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মতোই গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। বিদেশি শাসকদের হাত থেকে ভাষাকে রক্ষার জন্য যাঁরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কবির বিনম্র শ্রদ্ধা এবং নিজের ভাষার গৌরব রক্ষার ব্যাকুলতার মধ্য দিয়েই তাঁর গভীর ও ঐকান্তিক স্বদেশপ্রেম সার্থকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার