মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, আত্মকথা – রামকিঙ্কর বেইজ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

আত্মকথা: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. ছেলেবেলায় রামকিঙ্কর বেইজের ছবি আঁকার রং কীভাবে তৈরি হতো?

উত্তর দেখো
ছেলেবেলায় লেখকের কাছে বাজার থেকে কেনা কোনো রং বা তুলি ছিল না। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উপায়ে প্রকৃতি থেকে রং সংগ্রহ করতেন। শিম বা অন্যান্য গাছের পাতার রস নিংড়ে তিনি সবুজ রং বানাতেন, প্রদীপের ভুসোকালি দিয়ে কালো রং এবং মোরাম ঘষা লাল মাটি দিয়ে তিনি লাল রং তৈরি করে বাড়ির দেওয়ালে ছবি আঁকতেন।

2. গ্রামের কুমোরদের প্রতিমা গড়া কীভাবে লেখককে প্রভাবিত করেছিল?

উত্তর দেখো
লেখকের বাঁকুড়ার বাড়ির আশেপাশে অনেক কুমোর সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। ছোটবেলায় তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দেখতেন কীভাবে কুমোরেরা কাদা মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে অত্যন্ত সুন্দর সব দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করছে। এই কুমোরদের মূর্তি গড়ার নৈপুণ্য এবং নিখুঁত কাজ দেখেই তাঁর মনে প্রথম শিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহের জন্ম হয়েছিল।

3. অসহযোগ আন্দোলনের সময় লেখকের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর দেখো
লেখকের কৈশোরকালে দেশজুড়ে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে প্রবল অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। এই সময় লেখক অন্যান্য দিকে মন না দিয়ে নিজের ছবি আঁকার মাধ্যমেই এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। তিনি মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রমুখ জাতীয় নেতাদের নিখুঁত ছবি আঁকতেন, যা দেখে সেকালের মানুষ তাঁর শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করতেন।

4. কার মাধ্যমে এবং কীভাবে রামকিঙ্কর বেইজ শান্তিনিকেতনে পৌঁছান?

উত্তর দেখো
‘প্রবাসী’ পত্রিকার স্বনামধন্য সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় একবার বাঁকুড়ায় এসেছিলেন। সেখানে তিনি রামকিঙ্করের আঁকা ছবিগুলো দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। লেখকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসামান্য শিল্পসত্তাকে তিনি চিনতে পেরেছিলেন এবং তাঁরই সাহায্যে ও উদ্যোগে লেখক বাঁকুড়া থেকে শান্তিনিকেতনের কলাভবনে গিয়ে ভরতি হন।

5. শান্তিনিকেতনের কলাভবনে লেখকের প্রধান শিক্ষক কে ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন?

উত্তর দেখো
শান্তিনিকেতনের কলাভবনে লেখকের প্রধান শিক্ষক বা মাস্টারমশাই ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু। লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি খুব সাধারণ এবং সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তাঁর ছবির বিষয়বস্তুও হতো খুব পরিচিত ও সাধারণ, কিন্তু সেই সাধারণের মাঝেই তিনি অসাধারণ শিল্প ফুটিয়ে তুলতেন।

6. নন্দলাল বসুর ছবি আঁকার পদ্ধতি বা বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল?

উত্তর দেখো
নন্দলাল বসুর ছবি আঁকার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ, সরল এবং আড়ম্বরহীন। তিনি তাঁর ছবিতে খুব জটিল বা অবাস্তব কোনো বিষয় ফুটিয়ে তুলতেন না। দৈনন্দিন জীবনের খুব সাধারণ দৃশ্য, মানুষের পরিচিত কাজ বা প্রকৃতির খুব চেনা রূপগুলোকেই তিনি তাঁর তুলির ছোঁয়ায় এক অনন্য রূপ ও মাধুর্য দান করতেন।

7. নন্দলাল বসুর কাজের মূল মাধ্যম কী ছিল এবং রামকিঙ্কর কোন মাধ্যমে কাজ করতে শুরু করেন?

উত্তর দেখো
মাস্টারমশাই নন্দলাল বসুর কাজের মূল মাধ্যম ছিল জলরং। তিনি জলরঙের মাধ্যমেই তাঁর বেশিরভাগ অসামান্য ছবিগুলো এঁকেছিলেন। কিন্তু লেখক রামকিঙ্কর বেইজ শান্তিনিকেতনে এসে জলরঙের পরিবর্তে ধীরে ধীরে তৈলচিত্রে বা অয়েল পেইন্টিং-এ ছবি আঁকার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন এবং এতেই কাজ করতে শুরু করেন।

8. তৈলচিত্রে কাজ করার বিষয়ে নন্দলাল বসুর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল?

উত্তর দেখো
মাস্টারমশাই নিজে জলরঙে কাজ করলেও, লেখক যখন তৈলচিত্রে কাজ করতে শুরু করলেন, তখন তিনি বিন্দুমাত্র আপত্তি জানাননি বা বাধা দেননি। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পগুরু, তাই তিনি লেখককে তাঁর নিজের পছন্দের মাধ্যমে কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।

9. রামকিঙ্কর বেইজ কীভাবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে ছবি আঁকতেন?

উত্তর দেখো
লেখক মনে করতেন চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থেকে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টি করা যায় না। তাই তিনি ছবি আঁকার জন্য ঘরের বাইরে, মাঠে-ঘাটে খোলা আকাশের নিচে গিয়ে বসতেন। প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশ, গাছপালা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে তিনি ক্যানভাসে ছবি ফুটিয়ে তুলতেন।

10. “তখন তো আর আমার এত জ্ঞান ছিল না”—কোন প্রসঙ্গে লেখক এ কথা বলেছেন?

উত্তর দেখো
লেখক যখন প্রথম তৈলচিত্রে কাজ শুরু করেন, তখন তিনি জানতেন না যে তৈলচিত্রে আঁকার জন্য ক্যানভাসের ওপর একটি নির্দিষ্ট প্রলেপ বা আস্তরণ দিতে হয়। এই নিয়ম বা টেকনিকটি সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল না বলেই তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর এই অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।

11. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় কে ছিলেন এবং লেখকের জীবনে তাঁর অবদান কী?

উত্তর দেখো
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী ‘প্রবাসী’ পত্রিকার স্বনামধন্য সম্পাদক। তিনিই প্রথম বাঁকুড়ার এক অখ্যাত গ্রাম থেকে রামকিঙ্করের প্রতিভাকে আবিষ্কার করেছিলেন এবং নিজের উদ্যোগে তাঁকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর এই সহায়তাই রামকিঙ্করের জীবনে এক বিরাট মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

12. লেখক শান্তিনিকেতনে এসে কী ধরনের পরিবর্তন অনুভব করেছিলেন?

উত্তর দেখো
শান্তিনিকেতনে এসে লেখক এক সম্পূর্ণ নতুন এবং উন্মুক্ত শিল্প জগতের সন্ধান পান। বাঁকুড়ার সীমিত পরিবেশ ছেড়ে এখানে এসে তিনি যেমন নন্দলাল বসুর মতো গুরুর সান্নিধ্য লাভ করেন, তেমনি দেশ-বিদেশের নানা শিল্পের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। ফলে তাঁর শিল্পীসত্তা এক নতুন মাত্রায় বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।

13. লেখকের প্রথম দিকের ছবিগুলোতে কীসের প্রাধান্য বেশি ছিল?

উত্তর দেখো
রামকিঙ্কর বেইজ যখন প্রথম দিকে ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর ছবির প্রধান বিষয়বস্তু ছিল চারপাশের প্রকৃতি। তিনি সরাসরি প্রকৃতির মাঝে বসে প্রাকৃতিক দৃশ্য, গাছপালা, আকাশ এবং গ্রামীণ জীবনের ছবি আঁকতেন। প্রকৃতির প্রতি এক অকৃত্রিম আকর্ষণই তাঁর প্রাথমিক শিল্পকর্মে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

14. ‘আত্মকথা’ রচনাংশে লেখকের কোন রূপটি সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো
‘আত্মকথা’ প্রবন্ধটিতে একজন আত্মমগ্ন, প্রকৃতিপ্রেমী এবং অদম্য সৃষ্টিশীল শিল্পীর রূপটিই সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে। কীভাবে শত অভাব ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কেবল শিল্পের প্রতি তীব্র নেশার কারণে তিনি নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন, সেই নিরলস সাধকের রূপটিই এই লেখায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

15. “তাঁকে দেখেই আমার প্রথম শিল্পের দিকে আগ্রহ জন্মায়”—এখানে কার কথা বলা হয়েছে এবং কেন?

উত্তর দেখো
এখানে বাঁকুড়ার স্থানীয় কুমোরদের কথা বলা হয়েছে। ছোটবেলায় লেখক অবাক হয়ে দেখতেন কীভাবে কুমোরেরা সাধারণ কাদা মাটি দিয়ে অপূর্ব সুন্দর সব প্রতিমা তৈরি করছে। মাটি দিয়ে রূপ সৃষ্টির এই জাদুকরী কাজ দেখেই তাঁর মনে প্রথম ছবি আঁকা এবং মূর্তি গড়ার প্রতি গভীর আগ্রহের জন্ম হয়েছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার