মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, কুতুব মিনারের কথা – সৈয়দ মুজতবা আলী, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নউত্তর

কুতুব মিনারের কথা: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. কুতুব মিনারকে লেখক পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার বলেছেন কেন?

উত্তর দেখো
লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, কুতুব মিনারের মতো নিখুঁত অনুপাত বা সামঞ্জস্য পৃথিবীর আর কোনো মিনারে দেখা যায় না। এর বিশাল উচ্চতা, পাঁচটি তলার বৈচিত্র্যময় নকশা, লাল বেলেপাথরের ব্যবহার এবং গায়ে খোদাই করা সূক্ষ্ম কারুকাজ একে এক অসামান্য সৌন্দর্য দান করেছে। এই অতুলনীয় গঠনশৈলী এবং অখণ্ড সৌন্দর্যের কারণেই লেখক একে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার বলে অভিহিত করেছেন।

2. কুতুব মিনারের প্রথম তিনটি তলার গঠনশৈলীর বৈচিত্র্য আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
স্থপতিরা কুতুব মিনারের একঘেয়েমি দূর করার জন্য প্রতিটি তলায় আলাদা নকশা তৈরি করেছিলেন। মিনারের প্রথম তলায় রয়েছে পরপর বাঁশি এবং কোণের নকশা। দ্বিতীয় তলাটিতে কোণ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বাঁশির নকশা রাখা হয়েছে। আবার তৃতীয় তলাটিতে বাঁশি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কোণের নকশা করা হয়েছে, যা মিনারটিকে এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য দান করেছে।

3. হিন্দু স্থপতিরা কুতুব মিনারের নির্মাণে কীভাবে নিজেদের অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো
মুসলিম ধর্মে মূর্তি বা প্রাণীর ছবি তৈরি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই এই মিনার তৈরির সময় এদেশের হিন্দু স্থপতিরা তাদের চিরাচরিত মূর্তি গড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু সেই বাধা তাদের শিল্পসত্তাকে আটকাতে পারেনি। তারা পাথর খোদাই করে লতাপাতা, ফুলের মালা এবং কোরানের পবিত্র আয়াত এত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যা দেখে আজও বিশ্ববাসী অবাক হয়।

4. কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ কারা এবং কীভাবে সম্পন্ন করেছিলেন?

উত্তর দেখো
দিল্লির সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবক প্রথম এই সুবিশাল মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করেন, কিন্তু তিনি মাত্র 1 তলা তৈরি করে যেতে পেরেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা ও পরবর্তী সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ এই মিনারের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন। পরবর্তীকালে বজ্রপাতে মিনারের ওপরের দিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক তা মেরামত করে দেন।

5. আলাই মিনার কী? এই মিনারটি অসম্পূর্ণ থেকে গেল কেন?

উত্তর দেখো
দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি কুতুব মিনারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার চেয়েও দ্বিগুণ উঁচু এবং বিশাল একটি মিনার তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই মিনারটির নামই ছিল আলাই মিনার। কিন্তু মিনারটির কিছুটা কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির মৃত্যু ঘটে, ফলে এই বিশাল স্থাপত্যের নির্মাণকাজ চিরকালের জন্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

6. “এর পূর্ববর্তী কোনো উৎকৃষ্ট মিনারের নিদর্শন… পাওয়া যায় না”—লেখকের এই মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর দেখো
লেখক মনে করেন যে কুতুব মিনারের মতো এত বিশাল এবং নিখুঁত একটি স্থাপত্য হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হতে পারে না, এর আগে নিশ্চয়ই অনেক ছোটখাটো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আরব, ইরান বা তুরস্কের মতো কোনো মুসলিম দেশেই কুতুব মিনারের আগে তৈরি হওয়া এমন উৎকৃষ্ট কোনো মিনারের অস্তিত্ব বা নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায় না।

7. মিনার এবং মিনারিকা-র মধ্যে মূল পার্থক্য কী? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো
মিনার এবং মিনারিকা-র মধ্যে মূল পার্থক্য হলো আকার এবং অবস্থানে। মিনার সাধারণত আকারে খুব বিশাল ও উঁচু হয় এবং এটি একাকী বা স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যেমন—কুতুব মিনার। অন্যদিকে, মিনারিকা আকারে অনেক ছোট হয় এবং এটি স্বাধীনভাবে না দাঁড়িয়ে কোনো বড় মসজিদ বা মূল ভবনের চারপাশে শোভা বর্ধনের জন্য থাকে, যেমন—তাজমহলের চারপাশের মিনারিকাগুলি।

8. তাজমহল ও কুতুব মিনারের সৌন্দর্যের মধ্যে লেখক কী ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন?

উত্তর দেখো
লেখকের মতে, তাজমহলের সৌন্দর্য একা তাজমহলের নয়; তার চারপাশের মিনারিকা, বিশাল দরজা, বাগান এবং জলের ফোয়ারা সব কিছু মিলিয়ে তাজমহলের একটি অখণ্ড সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু কুতুব মিনারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কুতুব মিনার কারোর ওপর নির্ভরশীল নয়, সে একাই স্বাধীনভাবে স্বমহিমায় নিজের অসামান্য সৌন্দর্য বিস্তার করে দাঁড়িয়ে আছে।

9. কুতুব মিনারের গায়ে যে অলংকরণ বা কারুকাজ আছে তাকে ‘বর্ণনাতীত’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো
কুতুব মিনারের বাইরের দেওয়ালে পাথর কেটে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে লতাপাতা, ফুলের নকশা এবং পবিত্র কোরানের আয়াত খোদাই করা হয়েছে। এই খোদাইয়ের কাজ এতটাই সূক্ষ্ম, রুচিশীল এবং নিখুঁত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন। শিল্পীদের এই অসামান্য নৈপুণ্য ও সৌন্দর্যের কারণেই এর কারুকাজকে বর্ণনাতীত বলা হয়েছে।

10. কুতুব মিনারের নামকরণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কী ধরনের মতভেদ রয়েছে?

উত্তর দেখো
কুতুব মিনারের নামকরণ নিয়ে দুটি ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। একদল ঐতিহাসিকের মতে, সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবক নিজের নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্যই এই মিনারের নাম রেখেছিলেন কুতুব মিনার। অন্যদিকে, অপর একটি দলের মতে, তৎকালীন বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় মুসলমান সাধু কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকীর সম্মানার্থেই এই মিনারের এমন নামকরণ করা হয়েছিল।

11. কুতুব মিনারে হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির যে মিলন ঘটেছে তা প্রবন্ধ অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো
কুতুব মিনারের নির্মাণে মুসলিম শাসকদের উদ্যোগ এবং স্থাপত্য রীতির সঙ্গে হিন্দু স্থপতিদের হাতের কাজের এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে। মিনারটি মুসলিম রীতি অনুযায়ী নির্মিত হলেও, এর গায়ে খোদাই করা লতাপাতা এবং ফুলের সূক্ষ্ম নকশাগুলি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু স্থপতিদের নিজস্ব দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এভাবেই এতে দুই মহান সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে।

12. স্থপতিরা মিনারের গায়ে কোণ ও বাঁশির নকশা কেন তৈরি করেছিলেন?

উত্তর দেখো
এত বিশাল একটি মিনার যদি নিরেট ও মসৃণ গোলকৃতি হতো, তবে তা দেখতে অত্যন্ত একঘেয়ে এবং আকর্ষণহীন লাগত। এই একঘেয়েমি দূর করতে এবং মিনারের গায়ে আলো-ছায়ার এক মায়াবী খেলা তৈরি করার জন্যই স্থপতিরা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রথম তিনটি তলায় পরপর কোণ ও বাঁশির নকশা ব্যবহার করেছিলেন।

13. কুতুবুদ্দিন আইবক কেন কুতুব মিনার নির্মাণ করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়?

উত্তর দেখো
ঐতিহাসিকদের অনুমান, ভারতবর্ষে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবক নিজের ক্ষমতা, গৌরব এবং বিজয়কে চিরকাল মানুষের মনে গেঁথে রাখার জন্যই একটি বিশাল বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি দিল্লির বুকে এই গগনচুম্বী কুতুব মিনার তৈরি করার কাজে হাত দেন।

14. ফিরোজ শাহ তুঘলকের সংস্কারের ফলে মিনারের কী পরিবর্তন হয়েছিল?

উত্তর দেখো
বজ্রপাতের ফলে কুতুব মিনারের ওপরের দিকের তলাগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক সেই ভগ্ন অংশগুলি মেরামত করেন। তিনি মেরামতের সময় লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে সাদা মার্বেল পাথরের ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে মিনারের ওপরের অংশটি মূল মিনারের রঙের চেয়ে কিছুটা আলাদা হয়ে যায়।

15. লেখকের মতে একটি নিখুঁত স্থাপত্য তৈরি করতে গেলে প্রধানত কী কী প্রয়োজন হয়?

উত্তর দেখো
লেখকের মতে, একটি নিখুঁত এবং কালজয়ী স্থাপত্য তৈরি করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো সঠিক অনুপাত বা সামঞ্জস্যবোধ। বিশাল আকারের সাথে নকশার মিল, আলো-ছায়ার ভারসাম্য এবং অলংকরণের সূক্ষ্মতা—এই সব কিছু মিলিয়ে যখন একটি অখণ্ড রূপ তৈরি হয়, তখনই তা একটি শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যে পরিণত হয়। কুতুব মিনার হলো তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার