মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, কার দৌড় কদ্দুর – শিবতোষ মুখোপাধ্যায়, রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায়: কার দৌড় কদ্দুর
(দীর্ঘ / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “মানুষের সবচেয়ে বড়ো দৌড় তার মনের দৌড়” – ‘কার দৌড় কদ্দুর’ প্রবন্ধ অবলম্বনে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রাবন্ধিক শিবতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘কার দৌড় কদ্দুর’ প্রবন্ধে প্রাণিজগতের নানা প্রাণীর গতির কথা আলোচনা করেছেন। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের শারীরিক গতি অত্যন্ত নগণ্য। স্বাভাবিকভাবে হাঁটলে মানুষ ঘণ্টায় মাত্র 3 থেকে 4 মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পা নয়, বরং তার উন্নত মস্তিষ্ক এবং মন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ তার অসীম কল্পনাশক্তি এবং বৈজ্ঞানিক বুদ্ধির জোরে অসাধ্য সাধন করেছে। মোটরগাড়ি, উড়োজাহাজ এবং রকেটের মতো দ্রুতগামী যান আবিষ্কার করে মানুষ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ভেদ করে মহাশূন্যে পৌঁছে গেছে। মানুষের এই বৌদ্ধিক বিকাশ, জানার অদম্য কৌতূহল এবং কল্পনাশক্তির কোনো সীমা নেই। মানুষের মন মুহূর্তের মধ্যে মহাবিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। মানুষের এই মানসিক এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতিকেই প্রাবন্ধিক ‘মনের দৌড়’ বলেছেন এবং একেই সর্বশ্রেষ্ঠ দৌড় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

2. প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রাণীর চলনপদ্ধতির বৈচিত্র্য প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: শিবতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘কার দৌড় কদ্দুর’ প্রবন্ধে আণুবীক্ষণিক প্রাণী থেকে শুরু করে বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণীর চলনপদ্ধতির এক চমৎকার বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। এককোশী অতি ক্ষুদ্র প্রাণী অ্যামিবা তার শরীরের আকার পরিবর্তন করে তৈরি করা ক্ষণপদের সাহায্যে চলাফেরা করে। প্যারামিসিয়াম তার শরীরের চারপাশে থাকা অসংখ্য সূক্ষ্ম রোমের মতো অংশকে ব্যবহার করে জলে সাঁতার কাটে।
অন্যদিকে, পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী প্রাণী চিতাবাঘ শিকার ধরার সময় ঘণ্টায় প্রায় 70 মাইল বেগে দৌড়াতে পারে। আত্মরক্ষার জন্য অ্যান্টিলোপও ঘণ্টায় 60 মাইল বেগে ছোটে। আবার ক্যাঙারু হাঁটার বদলে তার শক্তিশালী পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যায়। বিপরীতদিকে শামুকের মতো প্রাণী তার চওড়া মাংসল পায়ের সাহায্যে অত্যন্ত ধীরগতিতে পিছলে পিছলে চলে। অর্থাৎ, প্রকৃতির নিয়মে প্রত্যেকটি প্রাণী তাদের নিজস্ব শারীরিক গঠন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা চলনপদ্ধতি তৈরি করে নিয়েছে।

3. উদ্ভিদ ও প্রাণীর চলনের তুলনামূলক আলোচনা করে তাদের গতির মূল উদ্দেশ্যগুলি প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখো.

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘কার দৌড় কদ্দুর’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর চলনের একটি স্পষ্ট তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। প্রাণীরা সাধারণত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে গমন করতে পারে। তারা খাদ্যের খোঁজে অথবা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য ছুটে বেড়ায়। কিন্তু উদ্ভিদ সাধারণত মাটির সঙ্গে এক জায়গায় স্থিরভাবে আটকে থাকে। তারা প্রাণীদের মতো স্থান পরিবর্তন করতে পারে না। তবে উদ্ভিদ সম্পূর্ণ স্থির নয়; বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আলো, বাতাস পাওয়ার জন্য তাদের ডালপালা আকাশের দিকে প্রসারিত হয় এবং জলের খোঁজে মূল মাটির গভীরে বৃদ্ধি পায়।
উভয়ের চলনের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও গতির মূল উদ্দেশ্যটি কিন্তু একই। প্রাণী এবং উদ্ভিদ—উভয়ই বাঁচার তাগিদে এই চলন বা গতির আশ্রয় নেয়। আহার সংগ্রহ করা এবং পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই হলো এই গতির একমাত্র এবং মূল উদ্দেশ্য।

4. “তাঁরা বলেন, বিশ্বচরাচর ছুটছে।” – ‘তাঁরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? বিশ্বচরাচরের ছোটার যে বর্ণনা প্রবন্ধকার দিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: উদ্ধৃত অংশে ‘তাঁরা’ বলতে বিজ্ঞানীদের কথা বোঝানো হয়েছে।
প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন যে, আপাতদৃষ্টিতে আমাদের চারপাশের অনেক কিছুকে স্থির বলে মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোনো কিছুই সম্পূর্ণ স্থির বা গতিহীন নয়। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেই পৃথিবী মহাশূন্যে আপন অক্ষের ওপর অবিরাম পাক খাচ্ছে এবং একই সঙ্গে প্রচণ্ড বেগে সূর্যের চারপাশেও ঘুরে চলেছে। শুধু পৃথিবী নয়; সূর্য, চন্দ্র, অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র থেকে শুরু করে অসীম মহাকাশের বিশালাকার ছায়াপথগুলিও কেউ স্থির নেই। সবাই এক প্রচণ্ড এবং অকল্পনীয় গতিতে মহাশূন্যের বুকে প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছে। অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে থাকা ক্ষুদ্র প্রাণী থেকে শুরু করে সমগ্র বিশ্বচরাচর এক অন্তহীন গতির অধীন, যেখানে স্থিরতার কোনো অস্তিত্ব নেই।

5. ‘কার দৌড় কদ্দুর’ নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণের মাধ্যমে কোনো রচনার মূল ভাব বা বিষয়বস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়। শিবতোষ মুখোপাধ্যায়ের রচিত প্রবন্ধটির নাম ‘কার দৌড় কদ্দুর’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমগ্র প্রবন্ধ জুড়ে লেখক আণুবীক্ষণিক প্রাণী থেকে শুরু করে বিশাল প্রাণী, উদ্ভিদ, পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র এবং মানুষের গতির তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।
অ্যামিবা, চিতাবাঘ, উটপাখি, ক্যাঙারু বা শামুক—প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দৌড়াচ্ছে। এই দৌড়ের যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও আছে, অর্থাৎ কে কতদূর দৌড়াতে পারে তার একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে। কিন্তু প্রবন্ধের শেষে লেখক দেখিয়েছেন যে মানুষের মনের দৌড়ের কোনো সীমা নেই। মানুষ তার বুদ্ধির জোরে সমস্ত শারীরিক সীমাবদ্ধতা পার হয়ে গেছে। সুতরাং, কার দৌড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেই প্রশ্নের উত্তরই সমগ্র প্রবন্ধ জুড়ে খোঁজা হয়েছে। তাই বিষয়বস্তু এবং অন্তর্নিহিত ভাব অনুযায়ী ‘কার দৌড় কদ্দুর’ নামকরণটি সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার