সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, মেঘ চোর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: মেঘ চোর
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. ‘মেঘ চোর’ কাকে বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মেঘ চোর’ গল্পে বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টি বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীকে ‘মেঘ চোর’ বলা হয়েছে। আমেরিকার বোস্টন শহরে আবহাওয়ার ওপর এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় রুশ বিজ্ঞানী কারপভ পুরন্দরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, পুরন্দর নিজের দেশের বৃষ্টি বাড়ানোর জন্য অন্য দেশের মেঘ চুরি করে নিয়ে যান। এই অদ্ভুত ও অভিনব অভিযোগের জন্যই তাঁকে মেঘ চোর বলা হয়েছে।
2. পুরন্দর চৌধুরী কে ছিলেন? তাঁর একটি বড়ো আবিষ্কারের কথা লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরন্দর চৌধুরী হলেন কল্পবিজ্ঞান গল্প ‘মেঘ চোর’-এর প্রধান চরিত্র। তিনি পেশায় একজন বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টি বিজ্ঞানী। মেঘ সৃষ্টি করা বা মেঘ তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর অসীম ক্ষমতা ছিল। তাঁর সবচেয়ে বড়ো ও বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো একটি বিশেষ অ্যালয় বা সংকর ধাতুর বল। পারদ এবং আরও 5 টি ধাতু মিশিয়ে তৈরি ওই বলটি জলের সংস্পর্শে এলেই প্রচণ্ড উত্তাপ ছড়ায় এবং জলকে নিমেষে বাষ্প করে দেয়।
3. কারপভ কে ছিলেন? তিনি কেন পুরন্দরকে মেঘ চোর বলেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: কারপভ ছিলেন একজন বিখ্যাত রুশ বিজ্ঞানী এবং অসীমার বাবা। আমেরিকার বোস্টন শহরে আয়োজিত আবহাওয়াবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কারপভ অভিযোগ করেছিলেন যে, সাইবেরিয়ায় যখন বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তখন পুরন্দর চৌধুরী তাঁর বৈজ্ঞানিক ক্ষমতার সাহায্যে সেই মেঘ চুরি করে নিজের দেশ ভারতে নিয়ে গিয়ে বৃষ্টি ঘটিয়েছিলেন। এই অসাধু কাজের জন্যই তিনি পুরন্দরকে মেঘ চোর অপবাদ দিয়েছিলেন।
4. অসীমা কে? সে কী নিয়ে গবেষণা করত?
উত্তর দেখো
উত্তর: অসীমা হলো ‘মেঘ চোর’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং বিখ্যাত রুশ বিজ্ঞানী কারপভের 27 বছর বয়সি মেয়ে। সে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করত। সে অঙ্কে ও বিজ্ঞানে কাঁচা হলেও ইতিহাস ও ভূগোলে তার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। নিজের এই জ্ঞানের জোরেই সে পুরন্দর চৌধুরীর হারানো শহর খোঁজার দাবির অযৌক্তিকতা প্রমাণ করেছিল।
5. লেক শ্রেভারের অবস্থান কোথায়? পুরন্দর এই লেক নিয়ে কী করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: লেক শ্রেভার হলো আমেরিকার আলাস্কায় অবস্থিত একটি বিশাল হ্রদ। পুরন্দর চৌধুরী তাঁর নিজের তৈরি বিশেষ অ্যালয় বলটির সাহায্যে এই বিশাল হ্রদের পুরো জল শুকিয়ে বাষ্প করে মেঘে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেই উৎপন্ন মেঘকে আলাস্কা থেকে তাড়িয়ে সাইবেরিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানে তুষারপাত ঘটানো, যাতে বিজ্ঞানী কারপভকে উচিত শিক্ষা দেওয়া যায়।
6. আটলান্টিস সম্পর্কে অসীমা কী বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরন্দর চৌধুরী যখন দাবি করেন যে তিনি লেক শ্রেভার শুকিয়ে তার নীচে লুকিয়ে থাকা হারানো শহর আটলান্টিস আবিষ্কার করবেন, তখন অসীমা তাঁকে থামিয়ে দেয়। ইতিহাসের ছাত্রী অসীমা জানায় যে, আটলান্টিস কোনো বাস্তব শহর নয়, এটি প্রাচীন গ্রিকদের একটি কল্পনা মাত্র। আর যদি তা বাস্তবেও থাকত, তবে তা আটলান্টিক মহাসাগরের নিচে থাকত, আমেরিকার আলাস্কার কোনো লেকের নিচে নয়।
7. পুরন্দর চৌধুরীর তৈরি অ্যালয় বা সংকর ধাতুর বলটির বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরন্দর চৌধুরীর তৈরি অ্যালয় বা সংকর ধাতুর বলটি ছিল বিজ্ঞান ও রসায়নের এক ভয়াবহ আবিষ্কার। পারদ এবং আরও 5 টি ধাতুর মিশ্রণে তৈরি এই বলটি সামান্য একটুখানি জলের সংস্পর্শে এলেই প্রচণ্ড উত্তাপ তৈরি করে এবং পারিপার্শ্বিক সমস্ত জলকে মুহূর্তের মধ্যে বাষ্প করে দেয়। এটি এতই শক্তিশালী যে লেক শ্রেভারের মতো বিশাল হ্রদের জলও মাত্র কয়েক মিনিটে শুকিয়ে ফেলতে পারে।
8. বাষ্প হওয়া জলের হিসাব সম্পর্কে পুরন্দর কী তথ্য দিয়েছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: অসীমাকে অবাক করে দিয়ে বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী বাষ্প হওয়া জলের এক অদ্ভুত হিসাব দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পৃথিবীতে এক বছরে মোট 95000 কিউবিক মাইল জল বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। এর মধ্যে 80000 কিউবিক মাইল জল যায় শুধু সমুদ্র থেকে এবং বাকি 15000 কিউবিক মাইল যায় নদী ও হ্রদ থেকে। এই সামান্য 15000 কিউবিক মাইলের বৃষ্টি নিয়েই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালা বেঁচে আছে।
9. অসীমা কীভাবে পুরন্দরের পরিচয় পেয়েছিল এবং তাঁর কাছে কী পরিচয়ে এসেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: অসীমা আসলে ছিল রুশ বিজ্ঞানী কারপভের মেয়ে এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক। কিন্তু পুরন্দরের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে সে নিজেকে পুরন্দরের হারিয়ে যাওয়া দাদা দিগ্বিজয় চৌধুরীর মেয়ে, অর্থাৎ পুরন্দরের ভাইঝি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। সে দাবি করেছিল যে তার মায়ের কাছে শোনা বাবার চেহারার বর্ণনার সঙ্গে মিল দেখেই সে তাঁকে চিনতে পেরেছে।
10. “আমিও আর এই রকেটে থাকতে চাই না” – কে, কেন এই কথা বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি করেছিল কারপভের মেয়ে অসীমা। পুরন্দর চৌধুরী যখন আলাস্কার লেক শ্রেভার শুকিয়ে সাইবেরিয়ায় মেঘ পাঠানোর ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা জানান, তখন অসীমা বুঝতে পারে এতে পৃথিবীর আবহাওয়ার মারাত্মক ক্ষতি হবে। একজন স্বার্থপর মানুষের চরম প্রতিশোধস্পৃহা এবং প্রকৃতি ধ্বংসের এই ভয়ংকর পরিকল্পনা আটকাতেই অসীমা ক্ষোভে ও রাগে এই কথাটি বলেছিল।
11. অসীমা কীভাবে অ্যালয় বলটিকে নষ্ট করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরন্দর যখন অ্যালয় বলটি রকেট থেকে লেক শ্রেভারে ফেলার উপক্রম করছিলেন, তখন অসীমা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের রিভলবার বের করে পুরন্দরকে ভয় দেখায় এবং তাঁকে অজ্ঞান করে দেয়। এরপর সে একটি বিশেষ স্পেস স্যুট পরে রকেটের বাইরে যায় এবং সেই ভয়ংকর অ্যালয় বলটিকে লেকের জলে ফেলার বদলে অসীম মহাকাশের দিকে ছুড়ে দিয়ে সেটিকে চিরতরে নষ্ট করে দেয়।
12. “প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ” – কে, কাকে এ কথা বলেছে? উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি অসীমা বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরীকে বলেছে। পুরন্দর তাঁর বৈজ্ঞানিক ক্ষমতার অহংকারে পৃথিবীর স্বাভাবিক মেঘ ও বৃষ্টির ভারসাম্য নষ্ট করতে চলেছিলেন। অসীমা বোঝাতে চেয়েছিল যে, বিজ্ঞান মানুষের উপকারের জন্য, প্রকৃতিকে ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়। প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে হস্তক্ষেপ করলে তা সমগ্র মানবজাতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
13. রকেটের মধ্যে জ্ঞান ফেরার পর পুরন্দর কী দেখেছিলেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: অসীমার আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর রকেটের মধ্যে পুরন্দর চৌধুরীর জ্ঞান ফেরে। চোখ মেলে তিনি দেখতে পান যে অসীমা তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসছে। তিনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখেন যে লেক শ্রেভারের নীল জল যেমন ছিল ঠিক তেমনি আছে, এক ফোঁটাও শুকায়নি। তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর মেঘ তৈরির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
14. পুরন্দরের পরিকল্পনা সফল হলে পৃথিবীর কী ভয়াবহ পরিণতি হতো?
উত্তর দেখো
উত্তর: পুরন্দর যদি তাঁর অ্যালয় বলটি লেক শ্রেভারে ফেলতেন, তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই বিশাল হ্রদের পুরো জল শুকিয়ে মেঘে পরিণত হতো। সেই বিপুল মেঘ সাইবেরিয়ায় গিয়ে অবিরাম তুষারপাত ঘটালে সেখানে ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিত। পৃথিবীর স্বাভাবিক জলচক্র এবং আবহাওয়ার ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়ে এক নিশ্চিত ধ্বংস ডেকে আনত।
15. অসীমা চরিত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘মেঘ চোর’ গল্পে অসীমা চরিত্রটি এক অসামান্য বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার প্রতীক। সে শুধু একজন ইতিহাসের ছাত্রীই নয়, তার মধ্যে ছিল গভীর মানবিকতা এবং প্রকৃতিপ্রেম। নিজের বুদ্ধির জোরে সে বিজ্ঞানী পুরন্দরের অহংকার চূর্ণ করে। একজন সাধারণ মেয়ে হয়েও সে একা একটি ভয়াবহ বৈজ্ঞানিক মারণাস্ত্র নষ্ট করে সমগ্র পৃথিবীকে এক নিশ্চিত প্রাকৃতিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।