মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, দেবাত্মা হিমালয় – প্রবোধ কুমার স্যানাল, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়: দেবাত্মা হিমালয়
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. হিমালয়কে ‘দেবাত্মা’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় দর্শনে হিমালয়কে কেবল পাথর বা বরফের স্তূপ নয়, বরং দেবতাদের পবিত্র বাসভূমি বলে মনে করা হয়। এর বিশালতা, অসীম প্রশান্তি এবং পবিত্রতা মানুষের মনে ঈশ্বরভক্তির সঞ্চার করে। লেখকের মতে, এই পর্বতমালার নিজস্ব একটি জীবন্ত ও আধ্যাত্মিক সত্তা রয়েছে, তাই এর পবিত্রতা বোঝাতেই একে ‘দেবাত্মা’ বলা হয়েছে।

2. ‘দেবাত্মা হিমালয়’ রচনাংশে পাহাড়ি রাস্তার বর্ণনা কীভাবে দেওয়া হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের পাহাড়ি রাস্তা অত্যন্ত দুর্গম, খাড়া এবং সাপের মতো আঁকাবাঁকা। রাস্তার একপাশে থাকে আকাশছোঁয়া খাড়া পাহাড় আর অন্যপাশে থাকে গভীর ভয়ংকর গিরিখাদ। পথে পদে পদে বিপদ লুকিয়ে থাকে, তবু তীর্থযাত্রীরা সমস্ত ভয়কে উপেক্ষা করে সেই বিপদসংকুল পথ পার হয়ে দেবদর্শনের জন্য এগিয়ে যান।

3. পাহাড়ি নদীর রূপ কেমন বলে লেখক জানিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক প্রবোধকুমার সান্যাল জানিয়েছেন যে, হিমালয়ের বুক চিরে বয়ে চলা পাহাড়ি নদীগুলির রূপ অত্যন্ত ভয়ংকর ও উদ্দাম। সমতলের শান্ত নদীর মতো এরা নয়, বরং এদের স্রোত এত প্রখর এবং গর্জনশীল যে তা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় জাগে। এই খরস্রোতা নদীগুলি হিমালয়ের রুক্ষ ও বন্য প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

4. তীর্থযাত্রীদের যাত্রাপথের প্রধান সম্বল কী এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: তীর্থযাত্রীদের যাত্রাপথের প্রধান সম্বল হলো তাদের অগাধ ভক্তি ও ঈশ্বরের প্রতি চরম বিশ্বাস। পাহাড়ি পথের দুর্গমতা, খাদ, আর প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টকে জয় করার জন্য বাহ্যিক শক্তির চেয়ে মনের জোর ও ভক্তিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই ঐকান্তিক ভক্তির জোরেই তারা সমস্ত কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করে দেবদর্শনের আশায় এগিয়ে যায়।

5. ‘চটি’ বলতে কী বোঝায়? যাত্রীদের কাছে এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি পথে তীর্থযাত্রীদের সাময়িক বিশ্রাম নেওয়া বা রাত কাটানোর জন্য যে ছোটো ছোটো আশ্রয়স্থল থাকে, সেগুলিকে ‘চটি’ বলা হয়। একটানা পাহাড়ে ওঠা অত্যন্ত কষ্টকর ও ক্লান্তিকর, তাই এই চটিগুলি যাত্রীদের কাছে পরম স্বস্তির জায়গা, যেখানে তারা নিজেদের ক্লান্তি দূর করে পরবর্তী যাত্রার জন্য নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে।

6. “এ পাথর কেবল জড় পদার্থ নয়” – লেখকের এই উপলব্ধির কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক হিমালয়কে নিছক কোনো ভৌগোলিক পর্বতমালা বা পাথরের স্তূপ হিসেবে দেখেননি। হিমালয়ের বিশালতা ও পবিত্রতার সামনে দাঁড়ালে মানুষের মনে যে আধ্যাত্মিক ভাবের উদয় হয় এবং যুগ যুগ ধরে সাধু-সন্ন্যাসীরা এখানে যে নীরব তপস্যা করেছেন, তা লেখককে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তাই তিনি উপলব্ধি করেছেন যে হিমালয় কোনো জড় পদার্থ নয়, বরং এক জাগ্রত আধ্যাত্মিক সত্তা।

7. পুণ্যার্থীরা কীভাবে হিমালয়ের দুর্গম পথ অতিক্রম করেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পুণ্যার্থীরা বা তীর্থযাত্রীরা চরম শারীরিক কষ্ট, প্রবল শীত এবং প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে হাসি মুখে উপেক্ষা করে হিমালয়ের পথ অতিক্রম করেন। তাদের বুকে থাকে দেবদর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং মুখে থাকে কেবল ঈশ্বরের নাম। পথে বিপদের সময় একে অপরের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েই তারা দুর্গম পথ পার হয়ে যান।

8. হিমালয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য লেখকের ভাষায় কীভাবে ধরা পড়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘দেবাত্মা হিমালয়’ রচনায় লেখক প্রবোধকুমার সান্যাল হিমালয়ের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিখুঁত চিত্র এঁকেছেন। বরফে ঢাকা শুভ্র পর্বতশৃঙ্গ, পাইন ও দেওদার গাছের ঘন সবুজ অরণ্য, গভীর উপত্যকা এবং খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর উদ্দাম রূপ লেখকের কলমে এক মায়াবী এবং ঐশ্বরিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

9. সাধু-সন্ন্যাসীদের সম্পর্কে লেখক কী জানিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখক জানিয়েছেন যে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী পার্থিব মায়া ও জাগতিক সুখ ত্যাগ করে ঈশ্বরের ধ্যানে মগ্ন থাকেন। কোলাহলমুক্ত ও শান্ত এই হিমালয়ই হলো তাঁদের তপস্যা ও মোক্ষলাভের উপযুক্ত স্থান। তাঁদের নীরব উপস্থিতি হিমালয়ের পরিবেশকে আরও বেশি পবিত্র ও আধ্যাত্মিক করে তুলেছে।

10. ‘দেবাত্মা হিমালয়’ ভ্রমণকাহিনিটির মূল সুর বা বার্তা কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই ভ্রমণকাহিনিটির মূল সুর হলো প্রকৃতির বিশালতার কাছে মানুষের জাগতিক অহংকার ত্যাগ এবং ঈশ্বরভক্তি। হিমালয়ের রুক্ষ, দুর্গম ও ভয়ংকর রূপের মাঝেও যে এক অসীম পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিকতা লুকিয়ে আছে, এবং ঐকান্তিক ভক্তির জোরে মানুষ যে সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করতে পারে—এটাই রচনার মূল বার্তা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার