মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, ‘আঁকা, লেখা’ – মৃদুল দাশগুপ্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

আঁকা, লেখা: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. “রং-তুলিরা বেজায় খুশি আজ দুপুরে”—রং-তুলিরা কেন খুশি হয়েছিল?

উত্তর দেখো
কবি মৃদুল দাশগুপ্ত দুপুরবেলা যখন রং-তুলি নিয়ে সাদা খাতায় গাছ আঁকতে বসেন, তখন তাঁর সৃষ্টিশীলতায় রং-তুলিরাও যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কবির হাতের জাদুতে যখন খাতার ওপর প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপ ফুটে ওঠে, তখন সার্থক সৃষ্টির আনন্দে মেতে উঠে রং-তুলিরা বেজায় খুশি হয়।

2. “তিনটে শালিক ঝগড়া থামায়”—তারা কেন ঝগড়া থামিয়েছিল?

উত্তর দেখো
শালিক পাখি সাধারণত খুব কোলাহলপ্রিয় এবং ঝগড়াটে স্বভাবের হয়। দুপুরবেলা তিনটি শালিক নিজেদের মধ্যে খুব ঝগড়া করছিল। কিন্তু কবি যখন গভীর মনোযোগে রং-তুলি দিয়ে একটি সুন্দর গাছের ছবি আঁকতে শুরু করেন, তখন শিল্পের সেই জাদুকরী রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে শালিকের দল তাদের স্বভাবসুলভ ঝগড়া থামিয়ে দেয়।

3. মাছরাঙা পাখি কী ভুলে গিয়েছিল এবং কেন?

উত্তর দেখো
মাছরাঙা পাখির প্রধান কাজ হলো নদীর জলে ছোঁ মেরে মাছ ধরা। কিন্তু কবির ক্যানভাসে ছবি আঁকার মায়াবী রূপ দেখে সে এতটাই মুগ্ধ হয়ে যায় যে, সে তার মাছ ধরার কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায় এবং কবির ছবিকে আরও নিখুঁত করার জন্য নিজের গায়ের উজ্জ্বল নীল রং কবিকে ধার দিতে চায়।

4. প্রজাপতির ঝাঁক কবির কাছে কী মিনতি করেছিল?

উত্তর দেখো
কবি যখন নিপুণ হাতে প্রকৃতির সুন্দর ছবি আঁকেন, তখন প্রজাপতির ঝাঁক সেই ছবির জীবন্ত রূপে দারুণভাবে আকৃষ্ট হয়। তারা কবির কাছে মিনতি করে, যেন কবি তাদেরও সেই আঁকার খাতায় স্থান দেন। অর্থাৎ তারা কবির আঁকা ছবির একটি অংশ হয়ে চিরকালের জন্য সেই খাতায় বন্দি থাকতে চায়।

5. “মাঠে যখন দুধের সরের মতো / চাঁদের আলো জমে”—চাঁদের আলোকে দুধের সরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো
দুধের ওপর সর জমলে তা যেমন গাঢ়, মসৃণ এবং শুভ্র বা সাদা দেখায়, ঠিক তেমনি জ্যোৎস্নারাতে মাঠে যখন চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ে, তখন চারপাশের পরিবেশ এক মায়াবী, স্নিগ্ধ ও গাঢ় শুভ্রতায় ভরে ওঠে। চাঁদের আলোর এই স্নিগ্ধতা ও নিবিড় শুভ্রতাকে বোঝাতেই কবি এই চমৎকার উপমাটি ব্যবহার করেছেন।

6. কবি কখন এবং কোন পরিবেশে ছড়া লিখতে শুরু করেন?

উত্তর দেখো
রাতের বেলা মাঠে যখন চাঁদের আলো দুধের সরের মতো গাঢ় ও স্নিগ্ধ হয়ে জমে ওঠে এবং সেই মায়াবী পরিবেশে বাতাসে যখন হালকা কাঁপন বা মৃদু দোলা লাগে, ঠিক সেই শান্ত, সুন্দর ও প্রেরণাদায়ক মুহূর্তেই কবি আপন খেয়ালে ছড়া লিখতে শুরু করেন।

7. ছড়া লেখার সময় রাতের প্রকৃতির কী জাদুকরী পরিবর্তন হয়?

উত্তর দেখো
কবি যখন ছড়া লিখতে বসেন, তখন রাতের প্রকৃতি এক জাদুকরী রূপ ধারণ করে। কবির কল্পনায় মনে হয় যেন আকাশের উজ্জ্বল তারারা আলোর মালা হয়ে নিচে নেমে এসেছে এবং জোনাকিরা বকুল গাছে তাদের শরীরের আলোর বিন্দু দিয়ে ‘অ-আ’ লিখতে শুরু করেছে।

8. “সেই তো আমার পরম পুলক, / সেই তো পদক পাওয়া”—কবির ‘পরম পুলক’ বা ‘পদক পাওয়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর দেখো
কবি ছবি আঁকেন এবং কবিতা লেখেন একান্তই নিজের মনের আনন্দে। কিন্তু তাঁর এই সৃষ্টি যখন কোনো সাধারণ পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং পাঠক যখন সেই লেখার সমাদর করে বা ভালোবাসে, তখন সেটাই কবির কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বা ‘পদক’ পাওয়ার সমান আনন্দ বা ‘পরম পুলক’ এনে দেয়।

9. চড়ুই পাখি অবাক হয়ে তাকায় কেন?

উত্তর দেখো
চড়ুই পাখি অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির হয়। কিন্তু কবি যখন গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রকৃতির রূপকে রং-তুলির সাহায্যে সাদা খাতায় জীবন্ত করে তোলেন, তখন শিল্পের এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখে ছোট্ট চড়ুই পাখিও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় এবং নিজের চঞ্চলতা ভুলে অবাক চোখে কবির দিকে তাকিয়ে থাকে।

10. “বকুল গাছে জোনাকিরা / অ-আ লিখছে আলোর বিন্দু দিয়ে”—এই দৃশ্যটির তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো
বকুল গাছে জোনাকিদের আলো জ্বলা আর নেভার দৃশ্যটি কবির কল্পনায় এক অপূর্ব রূপ পেয়েছে। কবির মনে হয়েছে যেন জোনাকিরা তাদের আলোর বিন্দু দিয়ে ভাষার প্রাথমিক অক্ষর ‘অ-আ’ লিখছে। এটি আসলে কবির সৃষ্টিশীল মনের সঙ্গে রাতের প্রকৃতির একাত্ম হয়ে যাওয়ার একটি সুন্দর প্রতীকী রূপ।

11. গর্ত থেকে ইঁদুরের পিটপিট করে তাকানোর অর্থ কী?

উত্তর দেখো
ইঁদুর সাধারণত খুব ভীতু হয় এবং মানুষের সাড়া পেলে গর্তে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কবির শিল্পসৃষ্টির মুহূর্তে চারপাশের পরিবেশে এমন এক শান্ত ও জাদুকরী আবহ তৈরি হয় যে, ভীতু ইঁদুরটিও ভয় ভুলে কৌতূহল সামলাতে না পেরে গর্তের ভেতর থেকে পিটপিট করে কবির ছবি আঁকা দেখতে থাকে।

12. ‘আঁকা, লেখা’ কবিতায় প্রকৃতি কীভাবে শিল্পীর বন্ধু বা সমঝদার হয়ে উঠেছে?

উত্তর দেখো
কবিতায় দেখা যায়, কবির ছবি আঁকা বা কবিতা লেখার সময় প্রকৃতি কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করে। শালিক, মাছরাঙা, প্রজাপতি থেকে শুরু করে রাতের তারা এবং জোনাকি—সবাই যেন কবির শিল্পের সমঝদার এবং অনুপ্রেরণাদাতা অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে উঠেছে।

13. মাছরাঙা পাখির নীল রং ধার দেওয়ার প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো
মাছরাঙার নীল রং অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুন্দর। কবির আঁকা ছবিকে আরও নিখুঁত ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য মাছরাঙা তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ (নীল রং) দান করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে শিল্পের প্রতি প্রকৃতির নিঃস্বার্থ সমর্থন ও ভালোবাসাই প্রকাশ পেয়েছে।

14. “তারারা সব নেমে আসে আলোর মালা হয়ে”—এর মাধ্যমে কবি তাঁর কোন অনুভূতির কথা বলেছেন?

উত্তর দেখো
এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি তাঁর সৃষ্টিশীল মনের এক গভীর আনন্দময় অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন। ছড়া লেখার সময় কবির মন যখন আনন্দে পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাঁর মনে হয় যেন আকাশের তারারাও তাঁর এই সৃষ্টির আনন্দ উৎসবে যোগ দিতে আলোর মালা সেজে পৃথিবীতে নেমে এসেছে।

15. ‘আঁকা, লেখা’ কবিতার দুটি অংশের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখো
কবিতাটির প্রথম অংশে রয়েছে দুপুরবেলায় রং-তুলি দিয়ে কবির ছবি আঁকার দৃশ্য এবং সেই ছবি দেখে পশু-পাখি ও প্রকৃতির উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অংশে রয়েছে রাতের মায়াবী পরিবেশে কবির ছড়া বা কবিতা লেখার দৃশ্য এবং রাতের স্নিগ্ধ প্রকৃতির জাদুকরী রূপের বর্ণনা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার