মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

সপ্তম শ্রেণি: বাংলা, নানান দেশে নানান ভাষা – রামনিধি গুপ্ত, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

নানান দেশে নানান ভাষা: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান: 3)

1. “নানান দেশে নানান ভাষা”—কথাটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো
উদ্ধৃত কথাটির মধ্য দিয়ে কবি পৃথিবীর বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেছেন। পৃথিবীতে অসংখ্য দেশ রয়েছে এবং প্রত্যেকটি দেশের মানুষের নিজস্ব আলাদা আলাদা ভাষা বা বুলি রয়েছে। এই ভাষাগত বৈচিত্র্য যে মানবসভ্যতার এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য, কবি প্রথমেই সেই বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে নিয়েছেন।

2. “বিনে স্বদেশীয় ভাষা পুরে কি আশা”—পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো
এই পঙ্ক্তিটির অর্থ হলো, নিজের স্বদেশি ভাষা বা মাতৃভাষা ছাড়া মানুষের মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা বা তৃষ্ণা কখনোই সম্পূর্ণভাবে পূরণ হতে পারে না। বিদেশি ভাষায় যতই দক্ষতা থাকুক না কেন, প্রাণের আরাম এবং মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি প্রকাশের জন্য নিজের জন্মভূমির ভাষার কোনো বিকল্প নেই।

3. কবির মতে মানুষের মনের আশা বা তৃষ্ণা কীভাবে মেটে?

উত্তর দেখো
কবির মতে, মানুষের মনের প্রকৃত আশা বা তৃষ্ণা কেবলমাত্র তার মাতৃভাষার মাধ্যমেই মেটে। মাতৃভাষা হলো মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যখন মানুষ নিজের ভাষায় হাসে, কাঁদে বা স্বপ্ন দেখে, তখনই তার হৃদয় শান্ত হয় এবং সে পরম তৃপ্তি লাভ করে।

4. মাতৃভাষাকে কেন ‘প্রাণের ভাষা’ বলা হয়?

উত্তর দেখো
মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক জন্মগত। শৈশবে মায়ের কোল থেকে শিশু যে ভাষা শেখে, সেই ভাষাতেই তার প্রথম চিন্তা ও আবেগের বিকাশ ঘটে। অন্য ভাষা মস্তিষ্ককে তথ্য দিলেও, মাতৃভাষা সরাসরি হৃদয়কে স্পর্শ করে। তাই মাতৃভাষাকে প্রাণের ভাষা বলা হয়।

5. রামনিধি গুপ্তের এই গানের মূল সুরটি কী?

উত্তর দেখো
এই গানের মূল সুর হলো মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গভীর স্বজাত্যবোধ। বিদেশি ভাষার জাঁকজমকের মোহে পড়ে মানুষ যেন নিজের মাতৃভাষাকে ভুলে না যায়, সেই সতর্কবাণী এবং মাতৃভাষার অতুলনীয় শ্রেষ্ঠত্বই এই গানের ছত্রে ছত্রে ধ্বনিত হয়েছে।

6. অন্য ভাষা জানা থাকলেও মাতৃভাষার প্রয়োজন হয় কেন?

উত্তর দেখো
জীবিকার তাগিদে বা জ্ঞানার্জনের জন্য অন্য ভাষা শেখা অত্যন্ত জরুরি হতে পারে, কিন্তু অনুভূতির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশের জন্য মাতৃভাষা অপরিহার্য। অন্য ভাষায় কথা বলার সময় মানুষকে ভাবতে হয়, কিন্তু মাতৃভাষায় কথা বলার সময় তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসে।

7. ‘নানান দেশে নানান ভাষা’ কবিতায় স্বদেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর দেখো
কবি নিজের দেশের ভাষাকে পৃথিবীর সমস্ত ভাষার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তাঁর মতে, নিজের ভাষার প্রতি টান না থাকলে দেশের প্রতিও টান থাকে না। ভাষার প্রতি এই অন্ধ ও ঐকান্তিক ভক্তি নিবেদনের মধ্য দিয়েই কবির গভীর স্বদেশপ্রেম অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

8. মাতৃভাষাকে অবহেলা করলে মানুষের কী ক্ষতি হয়?

উত্তর দেখো
মাতৃভাষাকে অবহেলা করলে মানুষ তার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরকীয় ভাষার মোহে পড়লে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং সে মানসিকভাবে পরমুখাপেক্ষী ও হীনম্মন্যতায় ভোগে।

9. রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু বাংলা সাহিত্য জগতে কী অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন?

উত্তর দেখো
রামনিধি গুপ্ত বাংলা গানে ‘টপ্পা’ অঙ্গের প্রবর্তন করে বাংলা সাহিত্য ও সংগীত জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর গানগুলোতে মানবীয় প্রেম, ভক্তি এবং মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগের যে সরল অথচ গভীর প্রকাশ ঘটেছে, তা আজও অদ্বিতীয়।

10. “পুরে কি আশা”—এখানে ‘আশা’ বলতে কবি ঠিক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর দেখো
এখানে ‘আশা’ বলতে কবি মানুষের মনের সেই গভীর আকাঙ্ক্ষাকে বুঝিয়েছেন, যা তাকে নিজের আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন ও অভিমানকে প্রিয়জনের কাছে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এই অন্তরের আকুলতাই হলো মনের আশা বা তৃষ্ণা।

11. বিদেশি ভাষা শেখার প্রতি কি কবির কোনো বিদ্বেষ ছিল?

উত্তর দেখো
না, বিদেশি ভাষা শেখার প্রতি কবির কোনো বিদ্বেষ ছিল না। তিনি বিশ্বের ভাষার বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর মূল আপত্তি ছিল নিজের ভাষাকে ছোটো করে বা অবজ্ঞা করে বিদেশি ভাষাকে বড় করে দেখানোর মানসিকতার প্রতি।

12. মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের নাড়ির টান কেন এত নিবিড়?

উত্তর দেখো
মানুষ যে মাটিতে জন্মায়, যে আলো-হাওয়ায় বড় হয়, মাতৃভাষা হলো তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি তার অস্তিত্বের প্রমাণ। নিজের পরিবেশ ও সমাজের সঙ্গে এই গভীর একাত্মতার কারণেই মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের নাড়ির টান এত নিবিড়।

13. এই কবিতা বা গানটির প্রাসঙ্গিকতা বর্তমান যুগে কতটা?

উত্তর দেখো
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে যখন বিদেশি ভাষার আগ্রাসনে মাতৃভাষাগুলো তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা হারাতে বসেছে, তখন এই কবিতার প্রাসঙ্গিকতা সবচেয়ে বেশি। এটি আধুনিক মানুষকে তার শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিজের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।

14. নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার কষ্টকে কবি কীভাবে উপলব্ধি করেছেন?

উত্তর দেখো
কবি উপলব্ধি করেছেন যে, নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারলে মানুষের মন সর্বদা এক অতৃপ্তি ও শূন্যতায় ভোগে। সে তার হৃদয়ের গভীরে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো অন্য কাউকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়, যা তাকে মানসিকভাবে নিঃসঙ্গ করে তোলে।

15. ‘নানান দেশে নানান ভাষা’ কবিতাটি পাঠকদের কী বার্তা দেয়?

উত্তর দেখো
এই কবিতাটি পাঠকদের এই সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে, জীবনে যতই বড় হওয়া যাক না কেন এবং যত ভাষাই শেখা হোক না কেন, নিজের মাতৃভাষাকে কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভক্তিই হলো একজন সার্থক মানুষের পরিচায়ক।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার