নবম শ্রেণি: বাংলা, ইলিয়াস – লিও তলস্তয়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 3: ইলিয়াস
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “পঁয়ত্রিশ বছরের পরিশ্রমে তার বিপুল সম্পত্তি হলো।” – কার, কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তি হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটিতে উফা প্রদেশের বাশকির উপজাতির মানুষ ইলিয়াসের বিপুল সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে।
বিয়ের সময় ইলিয়াস মোটেই ধনী ছিল না; তার মাত্র 7 টি ঘটকী, 2 টি গোরু ও 20 টি ভেড়া ছিল। কিন্তু বিয়ের পর ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শ্যাম-শেমাগি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করতে শুরু করে। তারা সকলের আগে ঘুম থেকে উঠত এবং সকলের শেষে ঘুমাতে যেত। একটানা 35 বছরের এই হাড়ভাঙা খাটুনির ফলেই তাদের 200 টি ঘোড়া, 150 টি গোরু-মোষ এবং 1200 টি ভেড়া হয় এবং তারা বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়ে ওঠে।
2. “ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও।” – ‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ কী? কখন ইলিয়াসের এমন অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ হলো প্রতিপত্তি, খ্যাতি বা চারদিকে প্রচুর সুনাম ছড়িয়ে পড়া।
একটানা 35 বছর কঠোর পরিশ্রম করার পর ইলিয়াস যখন প্রচুর গবাদি পশু ও বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে, তখন সমাজে তার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। চারপাশের লোক তাকে নিয়ে আলোচনা করত এবং তাকে হিংসা করত। দূরদূরান্ত থেকে বহু অতিথি তার বাড়িতে আসত এবং সেও তাদের কুমিস, চা, শরবত ও মাংস খাইয়ে পরম যত্নে আপ্যায়ন করত। সম্পদ ও সম্মানের এই চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর পর্যায়টিকেই ইলিয়াসের ‘বোলবোলাও’ বলা হয়েছে।
3. “লোভী লোকেরা তার এই সমৃদ্ধি দেখে ঈর্ষা করতে লাগল।” – কারা, কেন ইলিয়াসকে ঈর্ষা করত?
উত্তর দেখো
উত্তর: লিও তলস্তয়ের গল্পে ইলিয়াসের চারপাশের সাধারণ ও লোভী প্রতিবেশীদের কথা এখানে বলা হয়েছে।
প্রথম জীবনে ইলিয়াসের তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু নিজের ও স্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সে যখন 200 ঘোড়া, 150 গোরু-মোষ এবং 1200 ভেড়ার মালিক হয়ে যায়, তখন তার সেই অভূতপূর্ব উন্নতি চারপাশের মানুষের চোখে পড়ে। সমাজে ইলিয়াসের প্রতিপত্তি ও নামডাক ক্রমশ বাড়তে থাকায়, যারা পরিশ্রম ছাড়াই ধনসম্পদ পেতে চায়, সেইসব লোভী লোকেরা তার এই বিপুল সমৃদ্ধি দেখে মনে মনে তীব্র ঈর্ষা বা হিংসা অনুভব করতে শুরু করেছিল।
4. “ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ল।” – ইলিয়াসের সম্পত্তিতে কীভাবে টান পড়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ধনসম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার পর ইলিয়াসের দুই ছেলে অত্যন্ত বিলাসী ও অবাধ্য হয়ে ওঠে। বড়ো ছেলেটি একটি মারামারিতে মারা যায়। ছোটো ছেলেটি একটি ঝগড়াটে মেয়েকে বিয়ে করে বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়ায়, ইলিয়াস বাধ্য হয়ে তাকে একটি বাড়ি ও কিছু গবাদি পশু দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইলিয়াসের বিপুল সম্পদ প্রথমবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং তার এতদিনের জমানো সম্পত্তিতে হঠাৎ করেই একটা বড়ো রকমের টান বা ঘাটতি পড়েছিল।
5. ইলিয়াসের চূড়ান্ত পতনের বা সর্বস্বান্ত হওয়ার মূল কারণগুলি কী কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইলিয়াসের সর্বস্বান্ত হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। প্রথমত, ছোটো ছেলেকে সম্পত্তি দিয়ে আলাদা করে দেওয়ায় তার সম্পত্তিতে টান পড়ে। দ্বিতীয়ত, এর কিছুদিন পরেই তাদের ভেড়ার পালে ভয়ংকর মড়ক বা রোগ দেখা দেয়, যার ফলে প্রচুর ভেড়া মারা যায়। তৃতীয়ত, পরের বছর খরা হওয়ায় পশুর খাবারের তীব্র অভাব দেখা দেয় এবং অনেক গবাদি পশু মারা যায়। সবশেষে, সুযোগ বুঝে কিরঘিজ উপজাতির লোকেরা ইলিয়াসের সবচেয়ে ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে গেলে 70 বছর বয়সে সে একেবারে পথের ভিখারি হয়ে যায়।
6. “মহম্মদ শাহ তার প্রতি করুণা করে তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিল।” – মহম্মদ শাহ কে? সে কেন ইলিয়াসকে আশ্রয় দিয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: মহম্মদ শাহ হলো ইলিয়াসের প্রতিবেশী, যে নিজে খুব বেশি ধনী না হলেও একজন অত্যন্ত দয়ালু এবং ভালো মানুষ ছিল।
একসময় ইলিয়াস যখন বিত্তশালী ছিল, তখন মহম্মদ শাহও তার আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিল। 70 বছর বয়সে ইলিয়াস যখন তার সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে কপর্দকশূন্য হয়ে পড়ে এবং নিজের পশমের কোট পর্যন্ত বেচে দেয়, তখন তার এই চরম দুর্দশা দেখে মহম্মদ শাহের মনে গভীর করুণার সৃষ্টি হয়। অতীত আতিথেয়তার কথা স্মরণ করে এবং মানবিকতার খাতিরেই সে বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল।
7. মহম্মদ শাহের বাড়িতে বৃদ্ধ ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী কী কী কাজ করত?
উত্তর দেখো
উত্তর: মহম্মদ শাহ ইলিয়াসকে আশ্রয় দিলেও তারা সেখানে অলসভাবে বসে থাকত না। মালিকের নির্দেশমতো তারা কাজ করে খেত। বৃদ্ধ ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে তরমুজ খেত পরিষ্কার করার কাজ করত এবং শীতকালে গোরু ও ঘোড়াদের খাবার খাওয়াত। অন্যদিকে, তার বৃদ্ধা স্ত্রী শ্যাম-শেমাগি ঘোড়ী দুইত এবং তা দিয়ে বাশকিরদের বিখ্যাত পানীয় ‘কুমিস’ তৈরি করত। কাজের বিনিময়ে মহম্মদ শাহ তাদের খাবার ও পোশাক দিত।
8. “বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে দেখে অতিথিদের দুঃখ হলো।” – কাদের কথা বলা হয়েছে? অতিথিদের দুঃখ হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে মহম্মদ শাহের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধ ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী শ্যাম-শেমাগির কথা বলা হয়েছে।
একদিন মহম্মদ শাহের বাড়িতে অনেক দূর থেকে কয়েকজন অতিথি আসে। তাদের মধ্যে একজন ইলিয়াসকে চিনতে পারে এবং তার অতীত জীবনের বিপুল ঐশ্বর্যের কথা স্মরণ করে। অতিথিরা যখন জানতে পারে যে একসময়ের সেই প্রবল ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিটি আজ ভাগ্যের ফেরে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে অন্যের বাড়িতে সামান্য মজুর হিসেবে কাজ করছে, তখন জীবনের এই চরম পতন ও নির্মম পরিণতি দেখেই তাদের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার হয়েছিল।
9. “বাবা, আমিই ওকে জিজ্ঞেস করছি।” – কে, কাকে এ কথা বলেছিল? সে কী জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: মহম্মদ শাহের বাড়িতে আসা অতিথিদের মধ্যে একজন এ কথা গৃহকর্তা মহম্মদ শাহকে বলেছিল।
অতিথিরা যখন ইলিয়াসের অতীত জীবনের সুখ এবং বর্তমান জীবনের দুর্দশা নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন ইলিয়াস নিজে সেখানে উপস্থিত হয়। ইলিয়াসকে দেখে সেই অতিথির মনে কৌতূহল জাগে যে, অতীত জীবনের সেই বিপুল ঐশ্বর্য হারানোর পর আজ অন্যের বাড়িতে মজুর খাটতে তার কেমন লাগছে। এই মানসিক অবস্থা জানার জন্যই অতিথি তাকে সরাসরি প্রশ্নটি করতে চেয়েছিল।
10. “আমি বললে হয়তো তোমরা বিশ্বাস করবে না, আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করো।” – ইলিয়াস কেন এ কথা বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: অতিথিরা ইলিয়াসের কাছে জানতে চেয়েছিল যে অতীত জীবনের ঐশ্বর্যের কথা স্মরণ করে আজ অন্যের বাড়িতে মজুর খাটতে তার কেমন লাগছে। ইলিয়াস উপলব্ধি করেছিল যে, সব কিছু হারিয়েও সে আজ যে পরম শান্তি ও প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছে, তা অতিথিরা সহজে বুঝতে বা বিশ্বাস করতে চাইবে না। তাই মহিলাদের স্বভাবসুলভ সারল্য এবং সত্যবাদিতার ওপর ভরসা রেখে সে অতিথিদের তার স্ত্রী শ্যাম-শেমাগিকে প্রশ্নটি করতে বলেছিল, যাতে তারা প্রকৃত সত্যটি অনুধাবন করতে পারে।
11. “পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা সুখ খুঁজেছি, এতদিনে পেয়েছি।” – উক্তিটির তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি ইলিয়াসের স্ত্রী শ্যাম-শেমাগির। ইলিয়াস ও তার স্ত্রী জীবনের 50 টা বছর প্রচুর ধনসম্পদ রোজগার এবং তা রক্ষা করার চিন্তায় কাটিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল অর্থই সব সুখের মূল। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে সম্পত্তির চিন্তায় তাদের রাতের ঘুম এবং ঈশ্বরের আরাধনা করার সময়টুকুও হারিয়ে গেছে। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে তারা যখন অন্যের বাড়িতে মজুর খাটছে, তখন তাদের মনে আর কোনো হারাবার ভয় নেই। এই দুশ্চিন্তাহীন, শান্তিময় এবং ঈশ্বরমুখী জীবনকেই শ্যাম-শেমাগি প্রকৃত সুখ বলে উল্লেখ করেছে, যা তারা 50 বছর পর খুঁজে পেয়েছে।
12. “তখন আমাদের এক মুহূর্তও শান্তি ছিল না।” – ধনী থাকার সময় কেন তাদের জীবনে শান্তি ছিল না?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইলিয়াস ও তার স্ত্রী যখন বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক ছিল, তখন তাদের মনের ওপর সারাক্ষণ এক চরম চাপ থাকত। তাদের সব সময় চিন্তা হতো অতিথিদের ঠিকমতো আপ্যায়ন হচ্ছে কি না, মজুররা ঠিকমতো কাজ করছে কি না বা ঘোড়াকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না। রাতে শুয়েও তাদের চিন্তা হতো এই বুঝি নেকড়ে এসে ভেড়ার পাল খেয়ে ফেলল বা চোর এসে ঘোড়া চুরি করল। ধনসম্পত্তি পাহারা দেওয়া এবং তা হারানোর এই অবিরত আতঙ্কের কারণেই তাদের মনে এক মুহূর্তের জন্যও কোনো শান্তি ছিল না।
13. “অতিথিরা হেসে উঠল।” – অতিথিদের হাসির কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: সাধারণ মানুষের ধারণা অনুযায়ী, ধনসম্পত্তি এবং ঐশ্বর্যই হলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়ো সুখ। কিন্তু ইলিয়াসের স্ত্রী শ্যাম-শেমাগি যখন অতিথিদের জানায় যে, সম্পত্তি থাকার সময় তারা শান্তিতে ছিল না এবং আজ সব হারিয়ে অন্যের বাড়িতে মজুর খেটেই তারা প্রকৃত সুখের সন্ধান পেয়েছে, তখন অতিথিরা অবাক হয়ে যায়। তারা এই গভীর জীবনবোধটি বুঝতে পারেনি এবং ভেবেছিল যে বৃদ্ধা হয়তো নিজের দারিদ্র্য লুকানোর জন্য তাদের সাথে নিছক রসিকতা বা তামাশা করছে। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েই অতিথিরা হেসে উঠেছিল।
14. “এটি তামাশা নয়, এটি মানুষের জীবনের বাস্তব সত্য।” – উক্তিটি কে করেছিল? এই ‘বাস্তব সত্য’টি কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটি করেছিল স্বয়ং ইলিয়াস। অতিথিরা যখন তার স্ত্রীর কথা শুনে হাসাহাসি করছিল, তখন ইলিয়াস তাদের ভুল ভেঙে দিতে এই কথাটি বলেছিল।
এখানে ‘বাস্তব সত্য’ বলতে মানুষের জীবনের এক গভীর উপলব্ধির কথা বলা হয়েছে। অর্থ বা সম্পত্তি মানুষকে বাইরের আরাম দিতে পারে, কিন্তু তা মনের ভেতরের প্রকৃত শান্তি কেড়ে নেয় এবং ঈশ্বর থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও পরিশ্রম করে ঈশ্বরের উপাসনা করার মাঝেই যে প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে, সেটিকেই ইলিয়াস জীবনের পরম বাস্তব সত্য বলে উল্লেখ করেছে।
15. “মোল্লা সাহেব বললেন, ‘উনি ঠিকই বলেছেন’।” – মোল্লা সাহেব কোন্ কথার সমর্থন করেছিলেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: অতিথিদের দলে উপস্থিত একজন বিজ্ঞ মোল্লা সাহেব ইলিয়াসের শেষ কথাটিকে সমর্থন করেছিলেন।
ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী বুঝিয়ে বলেছিল যে প্রচুর সম্পত্তি কখনোই মানুষকে মানসিক শান্তি দিতে পারে না। বরং সব কিছু হারিয়ে আজ তারা লোভ, দুশ্চিন্তা এবং পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এক মনে ঈশ্বরের নাম করার সুযোগ পেয়েছে। মোল্লা সাহেব একজন ধার্মিক মানুষ হওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ইলিয়াসের এই উপলব্ধি কোনো রসিকতা নয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও ঠিক একই কথা লেখা আছে যে ঈশ্বরের নৈকট্যই হলো পরম সুখ। তাই তিনি ইলিয়াসের কথায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন।
16. মজুর জীবনকে ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী কেন আগের বিত্তশালী জীবনের চেয়ে ভালো মনে করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: মজুর জীবনে ইলিয়াস এবং তার স্ত্রীর কোনো বিশাল দায়িত্ব বা সম্পত্তি হারানোর ভয় ছিল না। তারা প্রতিদিন মালিকের কাজ করত এবং বিনিময়ে খাবার ও থাকার জায়গা পেত। তাদের মনে রাতে চুরির ভয় বা দিনের বেলা মজুরদের তদারকি করার দুশ্চিন্তা ছিল না। সারাদিন কাজ করার পর তারা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে কথা বলার এবং ঈশ্বরের উপাসনা করার পর্যাপ্ত সময় পেত। মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির এই পরম শান্তির জন্যই তারা মজুর জীবনকে তাদের আগের বিত্তশালী জীবনের চেয়ে অনেক বেশি ভালো মনে করেছিল।
17. ‘ইলিয়াস’ গল্পে বাশকির উপজাতির জীবনযাত্রার কী পরিচয় পাওয়া যায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: লিও তলস্তয়ের এই গল্পে বাশকির উপজাতির গ্রামীণ ও পরিশ্রমী জীবনযাত্রার নিখুঁত ছবি ফুটে উঠেছে। তাদের জীবন মূলত পশুপালন কেন্দ্রিক। তারা প্রচুর ঘোড়া, গোরু এবং ভেড়া পালন করে। বাশকির মহিলারা ঘোড়ী দুইয়ে ‘কুমিস’ নামে এক বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করে। তারা অত্যন্ত অতিথি বৎসল হয় এবং বাড়িতে অতিথি এলে কুমিস, শরবত, চা এবং মাংস দিয়ে তাদের পরম যত্নে আপ্যায়ন করে। এই উপজাতির লোকেরা সহজ-সরল, কঠোর পরিশ্রমী এবং ধর্মভীরু প্রকৃতির হয়।
18. ইলিয়াসের স্ত্রী শ্যাম-শেমাগির চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্যটি কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ইলিয়াসের স্ত্রী শ্যাম-শেমাগির চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তার অসীম সহনশীলতা, পরিশ্রম করার ক্ষমতা এবং গভীর জীবনবোধ। সে জীবনের চরম উন্নতির দিনে যেমন অহংকারী হয়নি, তেমনি ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সর্বস্বান্ত হয়ে মজুর বৃত্তি গ্রহণ করার পরও সে ভেঙে পড়েনি। মহিলাদের স্বভাবসুলভ সারল্যের সাথে সে অতিথিদের কাছে স্বীকার করেছিল যে ধনসম্পদ তাদের প্রকৃত শান্তি দিতে পারেনি। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও সে ঈশ্বরের উপাসনার মাঝেই নিজের জীবনের পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছিল।