মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড় বৃষ্টি’ -মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3 অথবা 5

অধ্যায় 1: কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের যে ভয়ংকর ছবি ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে কলিঙ্গ দেশের এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে।

হঠাৎ করেই কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হতে শুরু করে। দেখতে দেখতে চারদিক এমন ঘন অন্ধকারে ঢেকে যায় যে মানুষ নিজের অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পারছিল না। এরপরই শুরু হয় প্রবল ধূলিঝড় এবং মুষলধারে বৃষ্টি। অবিরাম 7 দিনের বৃষ্টিতে কলিঙ্গের পথঘাট জলে ডুবে একাকার হয়ে যায়। মেঘের ভয়ংকর গর্জনে কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না। মুহুর্মুহু বজ্রপাতের ভয়ে ভীত প্রজারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।

প্রবল বন্যায় কৃষকদের মাঠে বোনা শস্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আকাশ থেকে ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড়ো বড়ো শিলা পড়তে থাকে, যা ঘরের চাল ফুটো করে দেয়। দেবীর আদেশে নদনদীগুলি পর্বতের মতো ঢেউ তুলে ছুটে আসে এবং প্রবল ঝড়ের দাপটে মঠ-অট্টালিকা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। চারদিক জলে পূর্ণ হওয়ায় সাপ গর্ত ছেড়ে জলে ভেসে বেড়ায়। এই অকল্পনীয় প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলায় কলিঙ্গ দেশ সম্পূর্ণ জনশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

2. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়” – প্রজারা কেন বিপাকে পড়েছিল? বিপাকে পড়ে তারা কী করেছিল? (3+2=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

বিপাকে পড়ার কারণ: কলিঙ্গ দেশে হঠাৎ করেই ঈশান কোণে কালো মেঘ ঘনীভূত হয় এবং চারদিক গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যায়। এই অন্ধকারের সাথে সাথে হু হু শব্দ করে প্রবল বাতাস বা ধূলিঝড় বইতে শুরু করে। এরপরই 4 মেঘের সাহায্যে 8 টি গজরাজ বা হাতি শুঁড় দিয়ে অবিরাম ধারায় জল বর্ষণ করতে থাকে। ঘন অন্ধকার, ধূলিঝড়, মেঘের ভয়ংকর গর্জন এবং বিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টির এই আকস্মিক ও ভয়াবহ দুর্যোগ দেখে কলিঙ্গের প্রজারা প্রবল বিপাকে বা বিপদে পড়েছিল।

প্রজাদের পদক্ষেপ: এমন ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে প্রজারা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তারা নিজেদের প্রিয় ঘরবাড়ি (ভবন) ছেড়ে দ্রুতগতিতে ছুট (রড়) দিয়েছিল অর্থাৎ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র পালাতে শুরু করেছিল।

3. “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী” – কলিঙ্গ দেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল কেন? এর ফলে কলিঙ্গের প্রাণীদের কী অবস্থা হয়েছিল? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

পরিস্থিতির কারণ: দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গ দেশে একটানা 7 দিন ধরে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। এই 7 দিন আকাশ সম্পূর্ণ গাঢ় কালো মেঘে ঢাকা ছিল। মেঘের পুরু আস্তরণ ভেদ করে সূর্যের আলো বা চাঁদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে চারদিক সবসময় ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকায় দিন, রাত বা সন্ধ্যা আলাদা করে পরিচ্ছিন্ন বা বোঝা যাচ্ছিল না।

প্রাণীদের অবস্থা: দিন ও রাতের পার্থক্য মুছে যাওয়ায় প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সাধারণত ব্যাঙেরা রাতে ডাকে, কিন্তু সারাক্ষণ অন্ধকার থাকায় এবং বৃষ্টির প্রবল শব্দে বিভ্রান্ত হয়ে তারা ডাকতে ভুলে গিয়েছিল। অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টির ফলে চারদিক জলে পূর্ণ হওয়ায় গর্তে জল ঢুকে যায়। ফলে সাপ বা ভুজঙ্গরা গর্ত ছেড়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে বন্যার জলে ভেসে বেড়াতে বাধ্য হয়েছিল।

4. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ” – ‘চারি মেঘ’ ও ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে কী বোঝো? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

পরিচয়: হিন্দু পুরাণ অনুসারে ‘চারি মেঘ’ হলো বৃষ্টির প্রধান 4 টি মেঘ— সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ। অন্যদিকে ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে পৃথিবীর 8 টি দিক রক্ষাকারী 8 টি শ্রেষ্ঠ ঐরাবত বা হাতিকে বোঝানো হয়েছে।

তাৎপর্য: কলিঙ্গ দেশে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, তা কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক বৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টির ভয়ংকর তীব্রতা বোঝাতে কবি এই পৌরাণিক অনুষঙ্গটি ব্যবহার করেছেন। কবির কল্পনায়, দেবীর আদেশে 8 টি দিক থেকে 8 টি শ্রেষ্ঠ হাতি তাদের শুঁড় ব্যবহার করে 4 প্রকার মেঘের সহায়তায় কলিঙ্গের ওপর অবিরাম ধারায় বিপুল জলরাশি বর্ষণ করছিল। হাতির শুঁড় থেকে জল ছিটকে বেরোলে যেমন প্রবল ধারার সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনই মোটা ও অবিরাম ধারায় বৃষ্টি কলিঙ্গকে প্লাবিত করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল।

5. ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডীর ভূমিকার পরিচয় দাও। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পিছনে তাঁর কী উদ্দেশ্য ছিল? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

দেবীর ভূমিকা: কাব্যাংশটিতে দেবী চণ্ডীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারিণী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশেই কলিঙ্গ দেশে এই অকাল প্রলয়ের সৃষ্টি হয়। তিনিই মেঘ, ঝড় এবং অষ্ট গজরাজকে কলিঙ্গে ধ্বংসলীলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর আদেশে নদনদীগুলিও পর্বতের মতো ঢেউ তুলে কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে এবং মঠ-অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

উদ্দেশ্য: এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে দেবী চণ্ডীর একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল। দেবী তাঁর আশীর্বাদপুষ্ট ব্যাধ কালকেতুকে দিয়ে গুজরাট নামে একটি নতুন নগরী স্থাপন করিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কোনো মানুষ বা প্রজা বসবাস করতে চাইছিল না। তাই দেবী তাঁর মায়াবলে প্রতিবেশী রাজ্য কলিঙ্গ দেশে এই ভয়ংকর ধ্বংসলীলা চালান, যাতে কলিঙ্গের প্রজারা নিজেদের প্রাণ ও বাসভূমি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে গুজরাট নগরীতে গিয়ে বসতি স্থাপন করে।

6. “ভাদ্রমাসে যেন পড়ে থাকা তাল” – কোন্ প্রসঙ্গে এই উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে? এই উপমার মাধ্যমে কলিঙ্গের কোন্ ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

প্রসঙ্গ: কলিঙ্গ দেশে অবিরাম বৃষ্টির সাথে সাথে আকাশ থেকে যে ভয়ংকর আকারের শিলা বা শিল পড়ছিল, তার বিশালত্ব বোঝাতেই কবি ভাদ্র মাসে পড়া তালের উপমাটি ব্যবহার করেছেন।

ভয়াবহ পরিস্থিতি: ভাদ্র মাসে যেমন বড়ো বড়ো পাকা তাল গাছ থেকে সজোরে মাটিতে খসে পড়ে, কলিঙ্গ দেশে আকাশ থেকে পড়া শিলাগুলিও ঠিক তেমনই বিশাল এবং ভারী ছিল। এই বড়ো বড়ো শিলাগুলো যখন সাধারণ প্রজাদের ঘরের চালের ওপর পড়ছিল, তখন সেই চাল ফুটো বা ভেদ করে শিলাগুলো ঘরের মেঝের ওপর আছড়ে পড়ছিল। এর ফলে প্রজাদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং তারা ঘরের ভেতরেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এই উপমাটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়ংকর রূপটিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

7. “উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল” – এই দৃশ্যটির বর্ণনা দাও। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কলিঙ্গের কৃষিকাজ ও বাসস্থানের কী ক্ষতি হয়েছিল? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

দৃশ্য বর্ণনা: কলিঙ্গ দেশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সাথে ভয়ংকর বন্যা দেখা দিয়েছিল। দেবীর আদেশে নদনদীগুলি পর্বতের মতো উঁচু ঢেউ তুলে ছুটে আসে। সেই বিশাল জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল ঝড়ের ধাক্কায় প্রজাদের সাধারণ মাটির ঘরগুলি জলের স্রোতে ভিত্তি হারিয়ে ভেসে উঠতে থাকে এবং টলমল করতে থাকে।

কৃষি ও বাসস্থানের ক্ষতি: এই বিপর্যয়ে কলিঙ্গের কৃষিকাজ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মাঠের সবুজ ফসল প্রবল বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ডুবে যায় এবং জলের তোড়ে সব ফসল উলটে পচে নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, বাসস্থানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। বড়ো বড়ো শিলা পড়ে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়, এবং প্রবল ঝড়ের দাপটে শুধু কাঁচা ঘর নয়, বড়ো বড়ো পাকা মঠ ও অট্টালিকাগুলিও ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল।

8. “নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর” – এই 7 দিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গ দেশে যে ধ্বংসলীলা চলেছিল, তার বিবরণ দাও। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর বর্ণনায় কলিঙ্গ দেশে একটানা 7 দিন ধরে চলা বৃষ্টি এক অভাবনীয় ধ্বংসলীলার সৃষ্টি করেছিল।

অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গ দেশ সম্পূর্ণ জলে ডুবে যায়। জলমগ্ন হওয়ায় পথ ও ঘাটের কোনো পার্থক্য থাকে না। আকাশ 7 দিন ধরে গাঢ় মেঘে ঢাকা থাকায় দিন ও রাতের তফাত মুছে যায়, ফলে ব্যাঙেরা ডাকতে ভুলে যায়। জলে গর্ত ভরে যাওয়ায় সাপেরা ডাঙায় ভেসে বেড়ায়। প্রবল বন্যায় কৃষকের মাঠে বোনা সমস্ত শস্য উলটে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু বৃষ্টি নয়, এর সাথে ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো শিলা পড়ে ঘরের চাল ফুটো করে দেয়। দেবীর আদেশে নদনদীগুলি ঢেউ তুলে ছুটে এলে ঘরবাড়ি জলের তোড়ে টলমল করতে থাকে। প্রবল ঝড়ের দাপটে বড়ো মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে পড়ে। সব মিলিয়ে এই 7 দিনের বৃষ্টি কলিঙ্গ দেশকে এক সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল।

9. “গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে” – কলিঙ্গের প্রাণীজগতের (ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি) ওপর এই দুর্যোগের কী প্রভাব পড়েছিল তা আলোচনা করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিজগতের ওপরও যে গভীর প্রভাব পড়েছিল, তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

7 দিন ধরে মেঘে আকাশ ঢাকা থাকায় দিন ও রাতের কোনো পার্থক্য ছিল না। এর ফলে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হয়। ব্যাঙ বা দাদুরী সাধারণত রাতে ডাকে, কিন্তু দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে না পেরে এবং বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তারা ডাকতেই ভুলে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, অবিরাম বৃষ্টির ফলে প্রবল বন্যা দেখা দেওয়ায় চারদিক জলে থৈ থৈ করছিল। এর ফলে সাপ বা ভুজঙ্গদের মাটিতে থাকা নিরাপদ গর্তগুলিও জলে সম্পূর্ণ ভরে যায়। গর্তে জল ঢুকে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে সাপেরা বাধ্য হয়ে গর্ত ছেড়ে জলের ওপরে ভেসে বেড়াতে থাকে। অর্থাৎ, এই প্রলয় মানুষের পাশাপাশি নিরীহ প্রাণীদেরও চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

10. “কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশটি মধ্যযুগের রচনা হলেও এর মধ্যে পৌরাণিক অতিরঞ্জনের চেয়ে বাস্তবতার ছবিই বেশি ফুটে উঠেছে – উক্তিটির সার্থকতা বিচার করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে দেবদেবীর মহিমা প্রচার এবং অলৌকিক বা পৌরাণিক ঘটনার আধিক্য দেখা যায়। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশেও চণ্ডীর আদেশ, অষ্ট গজরাজ, বা ঋষি জৈমিনির অনুষঙ্গ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের যে বর্ণনা রয়েছে, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত।

মেঘের ঘনঘটা, ধূলিঝড় এবং একটানা 7 দিন বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যার চিত্রটি খুবই স্বাভাবিক। বন্যায় পথঘাট ডুবে যাওয়া, কৃষকের ফসল পচে নষ্ট হওয়া, বড়ো শিলা পড়ে ঘরের চাল ফুটো হওয়া বা ঝড়ের দাপটে বাড়িঘর ভেঙে পড়ার দৃশ্যগুলি গ্রামবাংলার চিরপরিচিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরই নিখুঁত দলিল।

তাছাড়া, দিন-রাতের পার্থক্য মুছে যাওয়ায় ব্যাঙের ডাক ভুলে যাওয়া বা গর্তে জল ঢোকায় সাপের জলে ভেসে বেড়ানোর মতো সূক্ষ্ম জীববৈচিত্র্যের বর্ণনা প্রমাণ করে যে, কবি কেবল পৌরাণিক কল্পনার আশ্রয় নেননি, বরং বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্গতির নিখুঁত ছবিই এঁকেছেন।

11. “দেখিয়া প্রজার মনে লাগে চমৎকার” – প্রজাদের মনে ‘চমৎকার’ বা বিস্ময় লাগার কারণ কী ছিল? এরপর সেখানে কী ঘটেছিল? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

বিস্ময়ের কারণ: কলিঙ্গ দেশে হঠাৎ করেই ঈশান কোণে মেঘ জমতে শুরু করে এবং চোখের পলকে তা চারদিকের আকাশ ঢেকে ফেলে। মেঘের ঘনঘটার সাথে সাথে শুরু হয় বিদ্যুতের ঝলকানি ও প্রবল গর্জন। বিনা মেঘে হঠাৎ এমন ভয়ংকর দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখেই কলিঙ্গের প্রজাদের মনে ‘চমৎকার’ বা চরম ভীতি মিশ্রিত বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছিল।

পরবর্তী ঘটনা: এই মেঘ ঘনানোর পরই সেখানে এক ধ্বংসলীলা শুরু হয়। প্রবল ধূলিঝড়ে চারদিক ঢেকে যায় এবং অষ্ট গজরাজ যেন শুঁড় দিয়ে অবিরাম ধারায় জল বর্ষণ করতে থাকে। 7 দিনের প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে একাকার হয়ে যায় এবং খেতের ফসল সব নষ্ট হয়ে যায়। বজ্রপাতের ভয়ে মানুষ ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করে এবং প্রাণ বাঁচাতে তারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পালাতে শুরু করে।

12. ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

সাহিত্যে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ সার্থক নামকরণের মাধ্যমেই রচনার মূল বিষয়বস্তু পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখোটিক খণ্ড থেকে সংকলিত আলোচ্য পাঠ্যাংশটির ‘কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি’ নামকরণটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে সম্পূর্ণ সার্থক।

এই কাব্যাংশের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত কলিঙ্গ দেশে ঘটা এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গের আকাশে জমা হয় মেঘ এবং শুরু হয় প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টি। একটানা 7 দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে কলিঙ্গ দেশ কীভাবে প্লাবিত হয়, শস্যক্ষেত্র কীভাবে নষ্ট হয়, এবং প্রাণভয়ে প্রজারা কীভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালায়— তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই কাব্যাংশে ফুটে উঠেছে।

যেহেতু সম্পূর্ণ রচনাটি কলিঙ্গ দেশে ঘটা ঝড়, বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসলীলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, তাই এই বিষয়মুখী নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার