মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, খেয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 8: খেয়া
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “খেয়া নৌকো পারাপার করে নদীস্রোতে” – খেয়া নৌকোর এই পারাপারের মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতায় ‘খেয়া নৌকো’ কেবল একটি সাধারণ জলযান নয়, এটি মানবজীবনের চিরন্তন প্রবহমানতা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক। নদীর দুই তীরে থাকা দুটি গ্রামের মানুষকে এই খেয়া নৌকো যুগের পর যুগ ধরে এক অদৃশ্য আত্মীয়তার বন্ধনে বেঁধে রেখেছে। বৃহত্তর পৃথিবীতে যখন সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই চলে, তখন এই খেয়া নৌকো সাধারণ মানুষের সহজ-সরল, প্রাত্যহিক এবং চিরন্তন পল্লিজীবনের ধারাকে অব্যাহত রাখার নীরব সাক্ষী হিসেবে কাজ করে।

2. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।” – এই পংক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: উদ্ধৃত পংক্তিটির মাধ্যমে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবজীবনের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা এবং জীবনের অবিরাম গতিশীলতাকে তুলে ধরেছেন। মানুষের জীবন কখনোই স্থির নয়। প্রয়োজনের তাগিদে গ্রামের মানুষ প্রতিদিন সকালে খেয়া নৌকো করে ঘর থেকে বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে বেরিয়ে যায়, আবার দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে পরম শান্তিতে নিজেদের ঘরে ফিরে আসে। যাওয়া এবং আসার এই চিরন্তন চক্রটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। বৃহত্তর পৃথিবীর কোনো সংঘাত বা ক্ষমতার পটপরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনের এই সহজ ও স্বাভাবিক গতিকে থামাতে পারে না।

3. “শুধু দোঁহে পানে চেয়ে আছে দুই গ্রাম” – ‘দোঁহে’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা কেন একে অপরের দিকে চেয়ে আছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতায় ‘দোঁহে’ বলতে নদীর দুই তীরে অবস্থিত পরিচিত দুটি গ্রামকে বোঝানো হয়েছে।
নদীর জলধারা গ্রাম দুটিকে বাহ্যিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেও, খেয়া নৌকো তাদের মধ্যে এক নিবিড় আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি করেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সুখ-দুঃখের আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা গড়ে উঠেছে। একে অপরের পরিপূরক হিসেবে তারা যেন এক অটুট সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধা পড়ে একে অপরের পানে চেয়ে আছে।

4. “পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ” – পৃথিবীতে কীসের দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: শান্ত পল্লিজীবনের বাইরে বৃহত্তর পৃথিবীর বুকে প্রতিনিয়ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যে নির্মম সংঘাত ঘটে, এখানে তার কথাই বলা হয়েছে। মানুষের অসীম ক্ষমতার মোহ, রাজ্য বিস্তারের লালসা এবং সম্পদের অহংকারে মত্ত হয়ে রাজায় রাজায় যে ভয়ংকর যুদ্ধ হয়, তা মানবসভ্যতায় বিপুল ধ্বংস বা সর্বনাশ ডেকে আনে। ক্ষমতালিপ্সু মানুষের এই স্বার্থান্ধ রূপ এবং তার ফলে সৃষ্ট রক্তাক্ত সংঘাতকেই কবি ‘দ্বন্দ্ব’ ও ‘সর্বনাশ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

5. “নতুন নতুন কত গড়ে ইতিহাস” – কীভাবে পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস গড়ে ওঠে?

উত্তর দেখো

উত্তর: পৃথিবীর ইতিহাস কখনোই স্থির নয়, তা উত্থান-পতনের এক ধারাবাহিক রূপ। যুগে যুগে এক পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং তার ভস্মস্তূপের ওপর নতুন কোনো শক্তির উত্থান হয়। ক্ষমতার এই হাতবদল কখনোই রক্তপাত বা সংঘাত ছাড়া হয় না। রাজা বদল হয়, রাজবংশ বদল হয়, আর সেই পরিবর্তনের রক্তাক্ত অধ্যায়গুলি সভ্যতার খাতায় নতুন ইতিহাস হিসেবে লিখিত হয়। ক্ষমতার এই নিরন্তর ভাঙাগড়ার খেলাকেই কবি নতুন ইতিহাস গড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

6. “রক্তপ্রবাহের মাঝে সোনার মুকুট / ফুটে আর টুটে” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: এখানে ‘সোনার মুকুট’ হলো রাজশক্তি বা ক্ষমতার অহংকারের প্রতীক। পৃথিবীতে কোনো সাম্রাজ্যই যুদ্ধ, জয়-পরাজয় এবং সাধারণ মানুষের রক্তপাত ছাড়া গড়ে ওঠেনি। কিন্তু এই ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। এক রাজা লক্ষ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে সোনার মুকুট পরে সাময়িকভাবে ক্ষমতার শীর্ষে ‘ফুটে’ ওঠে, আবার কালক্রমে অন্য কোনো শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে তার সেই মুকুট ‘টুটে’ বা ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষমতার এই অস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক রূপটিই এই পংক্তিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

7. “সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা” – সভ্যতার তৃষ্ণা ও ক্ষুধা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘তৃষ্ণা’ এবং ‘ক্ষুধা’ মানুষের দুটি প্রবল জৈবিক চাহিদা। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে এই দুটি শব্দকে সভ্যতার অগ্রগতি এবং সাম্রাজ্যবাদী লালসার রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সভ্যতার যতই বিকাশ ঘটছে, মানুষের ক্ষমতা, অর্থ এবং সম্পদ লাভের লালসা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক রাজ্য জয় করে অন্য রাজ্য দখলের যে দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, তা কোনোদিন মেটে না। আধুনিক সভ্যতার বুকে সাম্রাজ্যবাদীদের এই অন্তহীন লোভ এবং আগ্রাসী মনোভাবকেই কবি ‘নব নব তৃষ্ণা ক্ষুধা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

8. “উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা” – পংক্তিটির রূপকার্থ বা অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো

উত্তর: এই পংক্তিটিতে কবি পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের প্রসঙ্গের রূপক ব্যবহার করেছেন। পুরাণ মতে, সমুদ্রমন্থনে যেমন সুধা (অমৃত) এবং হলাহল (তীব্র বিষ) দুই-ই উঠে এসেছিল, তেমনি মানবসভ্যতার নিরন্তর মন্থন বা দ্বন্দ্বেও ভালো এবং মন্দ দুইয়েরই জন্ম হয়। রাজায় রাজায় যুদ্ধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একদল মানুষের স্বার্থসিদ্ধি বা সাময়িক সমৃদ্ধি (সুধা) আসে ঠিকই, কিন্তু এর পাশাপাশি অগণিত সাধারণ মানুষের মৃত্যু, ধ্বংস, হাহাকার এবং রক্তপাতের মতো ভয়ংকর পরিণাম (হলাহল) সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করে নেয়।

9. ‘খেয়া’ কবিতায় উল্লিখিত ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ কিসের প্রতীক?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় ‘হলাহল’ এবং ‘সুধা’ মানবসভ্যতার দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত দিক বা পরিণতির প্রতীক।
হলাহল: এটি তীব্র বিষের প্রতীক, যা বৃহত্তর পৃথিবীতে সাম্রাজ্য বিস্তারের কারণে সৃষ্ট ধ্বংস, মৃত্যু, রক্তপাত, হিংসা এবং সর্বনাশের দিকটিকে নির্দেশ করে।
সুধা: এটি অমৃতের প্রতীক, যা পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টিশীলতা, মানবতা, শান্তি এবং সভ্যতার ইতিবাচক দিকটিকে নির্দেশ করে, যা সমস্ত ধ্বংসের মাঝেও জীবনকে টিকিয়ে রাখে।

10. “এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে” – খেয়া নৌকোর এই চিরন্তন যাত্রার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: খেয়া নৌকো সাধারণ গ্রামীণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বৃহত্তর পৃথিবীতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলে, সাম্রাজ্যের পতন হয় এবং রাজবংশ বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু এই রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারে না। তাদের বেঁচে থাকার তাগিদ, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং যোগাযোগের প্রয়োজন চিরন্তন। সেই চিরন্তন জীবনধারার বাহক হিসেবেই খেয়া নৌকো সমস্ত সংঘাতকে তুচ্ছ করে যুগের পর যুগ ধরে নদীর বুকে তার যাত্রা অব্যাহত রাখে।

11. কবিতায় বর্ণিত দুটি গ্রামের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে বৃহত্তর পৃথিবীর কী পার্থক্য দেখা যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতায় দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। দুটি গ্রামের মানুষের প্রাত্যহিক জীবন অত্যন্ত শান্ত, সহজ-সরল এবং পারস্পরিক সম্প্রীতিতে পূর্ণ। সেখানে কোনো হিংসা বা ক্ষমতার মোহ নেই, আছে কেবল খেয়া নৌকোর মাধ্যমে চিরন্তন পারাপার। অন্যদিকে, বৃহত্তর পৃথিবী প্রতিনিয়ত সংঘাত, রক্তপাত এবং ধ্বংসলীলায় উন্মত্ত। সেখানে সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসায় রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় এবং কালস্রোতে ক্ষমতার অহংকার চূর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, একপাশে রয়েছে চিরন্তন মানবতা, অন্যপাশে অস্থায়ী ক্ষমতার আস্ফালন।

12. ‘খেয়া’ কবিতায় গ্রাম্য জীবনের কোন্ চিরন্তন সত্যটি ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় গ্রাম্য জীবনের একটি অমোঘ এবং চিরন্তন সত্য ফুটে উঠেছে— তা হলো মানবসম্পর্কের স্থায়িত্ব এবং জীবনের নিরবচ্ছিন্নতা। রাজনীতি, যুদ্ধ বা ক্ষমতার পালাবদল গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে মৌলিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে না। তাদের জীবন নদীর স্রোতের মতোই আপন ছন্দে বয়ে চলে। গ্রামের মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা, চেনা-জানা সম্পর্ক এবং বেঁচে থাকার সরল আনন্দ পৃথিবীর সমস্ত ধ্বংসলীলার চেয়ে অনেক বেশি সত্য এবং দীর্ঘস্থায়ী।

13. ‘খেয়া’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবজীবনকে কীভাবে নদীর স্রোতের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: নদীর স্রোত যেমন কখনোই স্থির থাকে না, সমস্ত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আপন বেগে সাগরের দিকে ছুটে চলে, মানবজীবনও ঠিক তেমনই প্রবহমান। পৃথিবীতে যুদ্ধ হয়, মহামারি আসে, এক শক্তির পতন ঘটে অন্য শক্তির উত্থান হয়— কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কখনোই থেমে থাকে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের জন্ম, মৃত্যু এবং দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহ নদীর অবিরাম স্রোতের মতোই বয়ে চলে। কবি এই গতির সাদৃশ্যটিকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে কবিতায় রূপায়িত করেছেন।

14. রাজায় রাজায় যুদ্ধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কেন সাধারণ মানুষের জীবনে রেখাপাত করতে পারে না?

উত্তর দেখো

উত্তর: গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন মূলত প্রকৃতি এবং প্রাত্যহিক কর্মের ওপর নির্ভরশীল। তাদের চাওয়া-পাওয়া অত্যন্ত সীমিত এবং তারা সাম্রাজ্যের লোভ বা ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন নয়। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় কেবল সিংহাসন এবং ভূখণ্ড দখলের জন্য, যার সঙ্গে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখের কোনো যোগসূত্র নেই। রাজবংশ বদল হলেও তাদের জমিতে ফসল ফলানো বা খেয়া পারাপার বন্ধ হয় না। তাই এই কৃত্রিম ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তাদের শাশ্বত জীবনে কোনো স্থায়ী রেখাপাত করতে পারে না।

15. কবিতায় ‘খেয়া’ শব্দটি কীসের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতায় ‘খেয়া’ কেবল এপার-ওপার করার জলযান নয়, এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপক। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক বন্ধন, সম্প্রীতি এবং চিরন্তন যোগাযোগের রূপক। ক্ষমতার দম্ভ যেখানে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, খেয়া সেখানে দুই তীরের মানুষকে মেলায়। একইসঙ্গে এটি কালস্রোত বা সময়-নদীর বুকে বয়ে চলা শাশ্বত মানবজীবনের অবিরাম যাত্রারও এক অনবদ্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ধ্বংসের মাঝেও সৃষ্টির গান গায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার