মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, চিঠি – স্বামী বিবেকানন্দ, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3

অধ্যায় 10: চিঠি
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “তোমাকে সর্বাগ্রে একটা কথা খোলাখুলি বলা দরকার।” – বক্তা কে? তিনি কোন্ কথা খোলাখুলি বলতে চেয়েছেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
স্বামীজি তাঁর শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতাকে (মিস নোবেলকে) ভারতের চরম দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার, এবং পরাধীনতার রূঢ় বাস্তব সম্পর্কে আগে থেকেই খোলাখুলি সতর্ক করে দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি এদেশের গ্রীষ্মপ্রধান অসহনীয় জলবায়ু এবং শহরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথাও তিনি স্পষ্ট জানান, যাতে মিস নোবেল ভারতে আসার আগে মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে পারেন।

2. “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” – স্বামীজি চিঠিতে কোন্ কোন্ বিঘ্নের কথা উল্লেখ করেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি ভারতে কাজ করার ক্ষেত্রে যে বিঘ্নগুলির কথা বলেছেন তা হলো— ভারতের সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দারিদ্র্য, অশিক্ষা, ও কুসংস্কার। এদেশের মানুষ শ্বেতাঙ্গদের ভয় পায় এবং ঘৃণাও করে। অন্যদিকে, শ্বেতাঙ্গ ইংরেজরাও ভারতীয়দের চরম তাচ্ছিল্য করে। এর ওপর এখানকার গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়া পশ্চিমাদের কাছে অত্যন্ত কষ্টকর। এই সব প্রতিকূলতাকেই স্বামীজি কাজের পথে ‘বিঘ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

3. “মর্দ কা বাত, হাতি কা দাঁত” – প্রবাদটি কোন্ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে? এর তাৎপর্য কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রসঙ্গ: মিস নোবেল ভারতে এসে কাজ করতে চাইলে স্বামীজি তাঁকে আমৃত্যু সর্বতোভাবে সাহায্য করবেন, এই অটুট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রসঙ্গেই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়েছে।
তাৎপর্য: প্রবাদটির অর্থ হলো— খাঁটি পুরুষের মুখের কথা এবং হাতির দাঁত একবার বেরোলে তা আর ভেতরে ঢোকে না বা নড়ে না। স্বামীজিও মিস নোবেলকে কথা দিচ্ছেন যে, তিনি ভারতে কাজ করতে গিয়ে সফল হোন বা ব্যর্থ হোন, স্বামীজি একজন খাঁটি মানুষের মতো সব পরিস্থিতিতেই তাঁর পাশে থাকবেন, এই প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি কখনও সরে আসবেন না।

4. “তাঁদের ভয়ও করে, আবার ঘৃণাও করে।” – কারা, কাদের ভয় ও ঘৃণা করে? এর কারণ কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ শ্বেতাঙ্গ বা সাদা চামড়ার ইংরেজদের ভয় এবং ঘৃণা করে।
কারণ: ব্রিটিশরা ভারতের শাসক এবং শোষক। তারা সাধারণ ভারতীয়দের ওপর নির্মম অত্যাচার করে এবং তাঁদের অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে। এই দীর্ঘদিনের শোষণ, অত্যাচার এবং বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই ভারতীয়রা শ্বেতাঙ্গদের ভয়ের পাশাপাশি মনে মনে প্রবল ঘৃণাও করে।

5. “মিস মুলার চমৎকার মহিলা…” – মিস মুলার সম্পর্কে স্বামীজি কী বলেছেন? তাঁকে নিয়ে স্বামীজির আশঙ্কার কারণ কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি বলেছেন মিস মুলার চমৎকার মহিলা হলেও তাঁর মেজাজ অত্যন্ত রুক্ষ এবং তিনি খুব অস্থিরচিত্ত।
আশঙ্কার কারণ: মিস মুলারের বদ্ধমূল ধারণা যে তিনি আজন্ম নেত্রী এবং অর্থ দিয়ে তিনি জগৎ কিনতে পারেন। স্বামীজির আশঙ্কা ছিল, মিস নোবেল ভারতে এসে মিস মুলারের সাথে থাকলে, মিস মুলার তাঁর ওপর খবরদারি বা কর্তৃত্ব ফলাতে চাইবেন, যার ফলে স্বাধীনচেতা মিস নোবেলের সাথে তাঁর সংঘাত অনিবার্য।

6. “সেভিয়ার দম্পতি একমাত্র ইংরেজ…” – সেভিয়ার দম্পতি সম্পর্কে স্বামীজি কী জানিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি জানিয়েছেন যে, সেভিয়ার দম্পতি (ক্যাপ্টেন সেভিয়ার এবং মিসেস সেভিয়ার) হলেন একমাত্র ইংরেজ, যাঁরা এদেশীয়দের অর্থাৎ ভারতীয়দের ঘৃণা করেন না এবং ভারতীয়রাও তাঁদের ঘৃণা করে না। তাঁরা স্বামীজির কাজের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সাহায্যকারী। বিশেষ করে মিসেস সেভিয়ারকে স্বামীজি অত্যন্ত স্নেহময়ী ‘মাতা’ বা মা বলে উল্লেখ করেছেন।

7. “নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।” – স্বামীজি কাকে, কেন এই কথা বলেছেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি তাঁর শিষ্যা মিস নোবেলকে (ভগিনী নিবেদিতা) এই কথা বলেছেন।
কারণ: মিস মুলার বা মিস্টার স্টাডির মতো মানুষেরা নিজেদের অহংকার বা খবরদারির মনোভাব নিয়ে চলেন। তাঁদের অধীনে থাকলে মিস নোবেল নিজের ইচ্ছেমতো ভারতের নারীসমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন না। তাই স্বামীজি তাঁকে কারও মুখাপেক্ষী বা অধীন না থেকে স্বাধীনভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কাজ করার উপদেশ দিয়েছেন।

8. “তাঁরা তোমায় এড়িয়ে চলবে।” – ‘তাঁরা’ কারা? কেন তাঁরা এড়িয়ে চলবে? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘তাঁরা’ বলতে ভারতে বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ ব্রিটিশদের কথা বলা হয়েছে।
ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ এবং শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে প্রবল বৈষম্য এবং ঘৃণা রয়েছে। মিস নোবেল যদি ভারতীয়দের উন্নতির জন্য তাদের সাথে মেলামেশা করেন এবং তাদের পক্ষে কাজ করেন, তবে শ্বেতাঙ্গরা তাঁকে নিজেদের দলভুক্ত বলে মনে করবে না। ভারতীয়দের প্রতি এই অহেতুক ঘৃণার কারণেই শ্বেতাঙ্গরা মিস নোবেলকে এড়িয়ে চলবে।

9. “আমি এখন বুঝছি…” – স্বামীজি কী বুঝেছেন? তাঁর এই উপলব্ধির কারণ কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি বুঝেছেন যে, ভারতবর্ষের নারীসমাজের মুক্তি ও শিক্ষার জন্য তাঁর একজন প্রকৃত ‘সিংহী’র প্রয়োজন।
উপলব্ধির কারণ: ভারতের নারীরা যুগ যুগ ধরে অশিক্ষা এবং কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে আছে। তাদের এই দুরবস্থা থেকে টেনে তোলার জন্য এমন একজন উচ্চশিক্ষিতা, স্নেহময়ী, পবিত্র এবং দৃঢ়চেতা নারীর প্রয়োজন, যিনি সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। মিস নোবেলের মধ্যেই স্বামীজি সেই সম্ভাবনা দেখেছিলেন।

10. “ভারতবর্ষের কাজে তোমার এক প্রকাণ্ড ভবিষ্যৎ রয়েছে।” – স্বামীজি কেন এই আশা প্রকাশ করেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি জানতেন যে, ভারতের হতদরিদ্র নারীসমাজের উন্নতির জন্য একজন অসাধারণ নারীর প্রয়োজন। মিস নোবেলের উচ্চশিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা এবং দৃঢ় মানসিকতা স্বামীজিকে মুগ্ধ করেছিল। স্বামীজির বিশ্বাস ছিল, মিস নোবেলের এই মহৎ গুণাবলি এবং ত্যাগের মনোভাব ভারতের কল্যাণে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। তাই তিনি তাঁর প্রকাণ্ড ভবিষ্যতের কথা বলেছেন।

11. “স্টাডির উৎসাহ কমেছে।” – স্টাডি কে? তাঁর সম্পর্কে স্বামীজি আর কী বলেছেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ই. টি. স্টাডি (E. T. Sturdy) হলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন ইংরেজ শিষ্য বা অনুগামী, যিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন।
স্বামীজি জানিয়েছেন যে, মিস্টার স্টাডির কাজের প্রতি আগের সেই প্রবল উৎসাহ এখন অনেক কমে গেছে। অর্থাৎ তিনি স্বামীজির কাজ বা ভারতীয়দের উন্নতি সাধনের বিষয়ে এখন অনেকটাই অনুৎসাহী হয়ে পড়েছেন।

12. “তাঁরা এ-মাসে য়ুরোপের দিকে রওনা হবেন…” – ‘তাঁরা’ কারা? তাঁদের সম্পর্কে স্বামীজির মূল্যায়ন কী? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘তাঁরা’ বলতে আমেরিকার বোস্টন শহরের মিসেস বুল এবং মিস জোসেফিন ম্যাকলাউড-এর কথা বলা হয়েছে।
তাঁদের সম্পর্কে স্বামীজির মূল্যায়ন অত্যন্ত ইতিবাচক। স্বামীজি তাঁদের বিশেষ উপকারী বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি মিস নোবেলকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা সম্ভবত শরৎকালে ভারতে আসবেন এবং তাঁদের সঙ্গী হলে মিস নোবেলের ভারতভ্রমণ অত্যন্ত লাভদায়ক ও নিরাপদ হবে।

13. “তুমি ভারতে এলে তোমায় সর্বতোভাবে সাহায্য করব।” – স্বামীজির এই প্রতিশ্রুতির স্বরূপ কেমন ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজির এই প্রতিশ্রুতি ছিল একজন প্রকৃত গুরুর এবং অকৃত্রিম বন্ধুর। তিনি মিস নোবেলকে কথা দিয়েছিলেন যে, মিস নোবেল ভারতের কাজে এসে সফল হোন বা ব্যর্থ হোন, স্বামীজি আমৃত্যু তাঁর পাশে থাকবেন। “মর্দ কা বাত, হাতি কা দাঁত” প্রবাদটি ব্যবহার করে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে, তাঁর এই প্রতিশ্রুতি পাথরের মতো অটল এবং কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই তিনি তাঁকে ত্যাগ করবেন না।

14. “তোমার শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা…” – উক্তিটির বক্তা কে? কার সম্পর্কে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য কী? (1+1+1=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: বক্তা: স্বামী বিবেকানন্দ। উক্তিটি তাঁর আইরিশ শিষ্যা মিস মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল (ভগিনী নিবেদিতা)-এর সম্পর্কে করা হয়েছে।
তাৎপর্য: স্বামীজি বিশ্বাস করতেন, ভারতের নারীসমাজের দুর্দশা ঘোচানোর জন্য কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন একজন নারী, যাঁর মধ্যে আধুনিক শিক্ষা, কাজের প্রতি গভীর ঐকান্তিকতা, চরিত্রের পবিত্রতা এবং মানুষের প্রতি অসীম ভালোবাসা আছে। এই সমস্ত গুণাবলি মিস নোবেলের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় ছিল বলেই স্বামীজি তাঁকে এই প্রশংসাসূচক উক্তিটি করেছেন।

15. “এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান…” – জলবায়ু সম্পর্কে স্বামীজি কী সতর্কতা দিয়েছেন? এর সাথে আর কোন্ কোন্ সমস্যার কথা বলেছেন? (1+2=3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বামীজি মিস নোবেলকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ভারতের জলবায়ু ইংল্যান্ডের মতো শীতল নয়, এটি অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান এবং এখানকার শীতকালও পশ্চিমাদের কাছে গ্রীষ্মকালের মতোই মনে হয়।
এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেছিলেন যে, এখানকার শহরগুলি ইংল্যান্ডের শহরগুলির মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়। শহরের রাস্তাঘাটে চরম নোংরা এবং আবর্জনা থাকে, যা পশ্চিমাদের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার