মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, নোঙর – অজিত দত্ত,  ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নত্তোর মান‌ 3

অধ্যায় 5: নোঙর
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. “পাড়ি দিতে দূর সিন্ধুপারে” – কবি কোথায়, কেন পাড়ি দিতে চান?

উত্তর দেখো

উত্তর: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি অজিত দত্ত তাঁর ‘নোঙর’ কবিতায় দূর সিন্ধুপারে বা সুদূর সমুদ্রের ওপারে পাড়ি দিতে চেয়েছেন।
রূপকার্থে ‘দূর সিন্ধুপার’ হলো মানুষের স্বপ্নের বা কল্পনার এক অনন্ত ও অসীম জগৎ। মানুষের মন চিরকালই প্রাত্যহিক জীবনের একঘেয়েমি, সাংসারিক দায়িত্ব এবং গণ্ডিবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেতে চায়। এই বাস্তব জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে এক অজানা, রোমান্টিক এবং স্বাধীন কল্পনার জগতে পৌঁছানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই কবি দূর সিন্ধুপারে পাড়ি দেওয়ার কথা বলেছেন।

2. “নোঙর গিয়াছে পড়ে তটের কিনারে” – ‘নোঙর’ ও ‘তট’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? নোঙর পড়ে যাওয়ার তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কবিতায় ‘নোঙর’ হলো প্রাত্যহিক জীবনের মায়া-মমতা, দায়িত্ব এবং সাংসারিক বন্ধনের প্রতীক। অন্যদিকে ‘তট’ হলো মানুষের গণ্ডিবদ্ধ বাস্তব জীবন।
কবি তাঁর জীবনতরী নিয়ে কল্পনার সুদূর জগতে পাড়ি দিতে চান, কিন্তু তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁর নৌকোর নোঙর তটের কিনারে পড়ে গেছে। অর্থাৎ, তাঁর এই মানবজীবন বাস্তবতার কঠিন মাটিতে, সংসার ও আপনজনদের মায়ার বাঁধনে এমনভাবে আটকে পড়েছে যে, শত চেষ্টা করেও সেই বন্ধন ছিন্ন করে স্বপ্নের জগতে পাড়ি দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

3. “সারারাত মিছে দাঁড় টানি” – কবির দাঁড় টানাকে ‘মিছে’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি তাঁর স্বপ্নের জগতে পৌঁছানোর জন্য নৌকোর দাঁড় টানেন। কিন্তু তিনি জানেন যে তাঁর নৌকোর নোঙর তটের কিনারে গভীরভাবে আটকে আছে। নোঙর তোলা না হলে হাজার দাঁড় টানলেও নৌকো একচুলও সামনের দিকে এগোবে না। অর্থাৎ, মানুষ যত চেষ্টাই করুক না কেন, বাস্তব জীবনের মায়ার বাঁধন ছিন্ন করা তার পক্ষে অসম্ভব। এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্যই কবির দাঁড় টানার অবিরাম চেষ্টাকে কবিতায় ‘মিছে’ বা ব্যর্থ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

4. “জোয়ারের ঢেউগুলি ফুলে ফুলে ওঠে” – ঢেউগুলি ফুলে উঠে কী করে? এর রূপকার্থ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: জোয়ারের ফুলে ফেঁপে ওঠা ঢেউগুলি নোঙর-বাঁধা তরীতে মাথা ঠুকে আবার ব্যর্থ হয়ে সমুদ্রের দিকে ফিরে যায়।
রূপকার্থে, এই জোয়ারের ঢেউ হলো মানুষের জীবনে আসা প্রবল উচ্ছ্বাস, আবেগ এবং নতুন কিছু করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। মানুষের মনে যখন নতুন স্বপ্ন জাগে, তখন সে ভাবে বাস্তবতার গণ্ডি সে পেরিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেওয়ালে (নোঙর-বাঁধা তরী) ধাক্কা খেয়ে সেই আবেগ বা স্বপ্নগুলি বারবার ভেঙে যায় এবং ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

5. “ভাটার শোষণ / স্রোতের প্রবল প্রাণ করে আহরণ” – পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর দেখো

উত্তর: জোয়ারের পর নদীতে ভাটা আসে। ভাটার প্রবল টান নদীর সমস্ত জল বা স্রোতের প্রাণশক্তিকে শুষে নিয়ে তাকে স্তিমিত করে দেয়।
রূপকার্থে, মানুষের জীবনেও আশা-আকাঙ্ক্ষার পর নেমে আসে হতাশা ও ব্যর্থতা। সাংসারিক জীবনের গণ্ডি পেরোতে না পারার হতাশা এবং প্রাত্যহিক জীবনের একঘেয়েমি মানুষের মনের সমস্ত স্বপ্ন, উদ্দীপনা এবং সৃষ্টিশীল প্রাণশক্তিকে ভাটার শোষণের মতোই ধীরে ধীরে শুষে নেয়। জীবন তখন হয়ে পড়ে গতিহীন এবং বিষণ্ণ।

6. “যতই না দাঁড় টানি, যতই মাস্তুলে বাঁধি পাল” – কবির এই নিরন্তর চেষ্টার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি খুব ভালো করেই জানেন যে তাঁর জীবনতরী বাস্তবতার তটে নোঙর দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা আছে। তবুও মানুষের মন কখনো স্বপ্ন দেখাকে ছেড়ে দিতে পারে না। বাস্তবতার কাছে হার মেনে নেওয়া মানুষের স্বভাব নয়। তাই সমস্ত বন্ধন এবং শত ব্যর্থতা সত্ত্বেও, দূর অজানা জগতে পৌঁছানোর এক অদম্য আকাঙ্ক্ষায় এবং মুক্তির এক তীব্র পিপাসায় কবি নিরন্তর দাঁড় টানেন এবং মাস্তুলে পাল বাঁধেন। এই চেষ্টা আসলে মানুষের অন্তহীন আশাবাদেরই প্রতীক।

7. “নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকো চিরকাল” – ‘নোঙরের কাছি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? নৌকোটি চিরকাল বাঁধা কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আক্ষরিক অর্থে ‘নোঙরের কাছি’ হলো নৌকো বেঁধে রাখার শক্ত মোটা দড়ি। রূপকার্থে এটি হলো সমাজ, সংসার, পরিবার এবং প্রাত্যহিক জীবনের প্রতি মানুষের মায়া-মমতা ও কর্তব্যের দুর্ভেদ্য জাল।
মানুষ স্বপ্ন দেখে দূর আকাশে ওড়ার, কিন্তু দিনশেষে তাকে পরিবারের কাছেই ফিরে আসতে হয়। বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এই যে মায়ার বাঁধন, তা এতটাই শক্ত যে জীবনতরী বা নৌকোটি এই বাস্তবতার তটেই চিরকালের মতো বাঁধা পড়ে থাকে। এই বন্ধন থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি পাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

8. “নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলি কেঁপে ওঠে স্রোতের বিদ্রুপে” – স্রোত কেন বিদ্রুপ করে? মুহূর্তগুলি কেঁপে ওঠে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি সারারাত ধরে অজানা জগতে পৌঁছানোর জন্য মিথ্যা দাঁড় টানেন, কারণ তাঁর নৌকো নোঙর দিয়ে বাঁধা। স্রোত যেন কবির এই বৃথা চেষ্টা এবং বাস্তবতার কাছে তাঁর এই অসহায়তা দেখেই তাঁকে বিদ্রুপ বা উপহাস করে।
স্রোতের এই প্রবল উপহাসের শব্দে চারদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে যায়। কবির মনে হয়, তাঁর এই ব্যর্থতার নীরব মুহূর্তগুলি যেন বাস্তবতার ওই নিষ্ঠুর হাসিতে বা স্রোতের বিদ্রুপেই কেঁপে কেঁপে উঠছে এবং তাঁর অসীম হাহাকারকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

9. “আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে” – ‘বাণিজ্য-তরী’ কীসের প্রতীক? তা বাঁধা পড়ে আছে কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘বাণিজ্য-তরী’ হলো মানুষের সমগ্র জীবন বা জীবনতরীর একটি অনবদ্য প্রতীক। মানুষ তার জীবনের রূপী নৌকায় সুখ, দুঃখ, স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষার অজস্র পণ্য বোঝাই করে রাখে।
কবির এই জীবনরূপী বাণিজ্য-তরী বাস্তবতার তটে বাঁধা পড়ে আছে। কারণ, মানুষের জীবন হলো সংসার ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাত্যহিক জীবনের শত চাহিদা, দায়িত্ব এবং প্রিয়জনদের প্রতি মায়ার বাঁধন (নোঙর) জীবনতরীটিকে এমনভাবে আটকে রাখে যে, কল্পনার অনন্ত জগতে তার আর ভেসে যাওয়া হয়ে ওঠে না।

10. “যতই মাস্তুলে বাঁধি পাল” – ‘মাস্তুল’ ও ‘পাল’ কী? কবি কেন মাস্তুলে পাল বাঁধেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘মাস্তুল’ হলো নৌকো বা জাহাজের বুকে খাড়াভাবে পোঁতা উঁচু কাঠের দণ্ড। আর ‘পাল’ হলো সেই মাস্তুলে টাঙানো মোটা কাপড়, যা বাতাসের সাহায্যে নৌকোকে সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।
কবি তাঁর জীবনতরী নিয়ে দূর অজানা সিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান। যদিও তিনি জানেন যে বাস্তবতার নোঙর তাঁর নৌকোকে আটকে রেখেছে, তবুও তিনি মুক্তির এক প্রবল আশায় হাওয়ার আনুকূল্য পেতে মাস্তুলে পাল বাঁধেন। এটি আসলে তাঁর স্বপ্নের জগতে পৌঁছানোর অদম্য চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

11. ‘নোঙর’ কবিতায় জোয়ার ও ভাটাকে কবি কীভাবে মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি অজিত দত্ত প্রকৃতির চিরন্তন নিয়ম জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মানুষের জীবনের উত্থান-পতনকে অত্যন্ত নিপুণভাবে মিলিয়েছেন। জোয়ারের ফুলে ফেঁপে ওঠা ঢেউগুলি হলো মানুষের মনে জেগে ওঠা তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, নতুন স্বপ্ন এবং সৃজনশীল আকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে, জোয়ারের পর আসা ভাটা হলো মানুষের জীবনের হতাশা, ক্লান্তি এবং বার্ধক্য, যা মানুষের মনের সমস্ত উদ্দীপনা ও প্রাণশক্তিকে শুষে নিয়ে তাকে পুনরায় সেই গণ্ডিবদ্ধ বাস্তব জীবনেই বন্দি করে রাখে।

12. ‘নোঙর’ কবিতায় কবির যে হতাশা বা আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় কবির প্রধান আক্ষেপ হলো বাস্তবতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি না পাওয়া। কবি স্বপ্ন দেখেন এক অনন্ত ও বাধাহীন কল্পনার জগতে বিচরণ করার। কিন্তু তিনি বারবার হোঁচট খান, কারণ তাঁর জীবনরূপী নৌকোর নোঙর সাংসারিক দায়বদ্ধতা, মায়া-মমতা এবং প্রাত্যহিক রুটিনের মাটিতে গভীরভাবে আটকে আছে। নিজের এই পরাধীনতা এবং সহস্র চেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তবতার গণ্ডি পেরোতে না পারার অসহায়তাই কবির মনে এক গভীর হতাশা ও আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে।

13. “সারারাত, সারারাত দাঁড় টানি” – ‘সারারাত’ শব্দটি এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? দাঁড় টানার অবিরাম চেষ্টার তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কবিতায় ‘সারারাত’ শব্দটি শুধু একটি রাতের অন্ধকার প্রহরকে বোঝায় না, এটি মানুষের সমগ্র জীবনকাল বা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত অন্তহীন সময়ের এক গভীর রূপক।
মানুষ জানে যে বাস্তব জীবনের বন্ধন ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব। তবুও সে তার অন্তরের স্বপ্ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কোনোদিন মেরে ফেলতে পারে না। সারা জীবন ধরে (সারারাত) মানুষ মুক্তির জন্য, একটু ভালো থাকার জন্য বা নিজের স্বপ্নের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে অক্লান্ত সংগ্রাম করে চলে, অবিরাম দাঁড় টানা হলো সেই চিরন্তন চেষ্টারই তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ।

14. রূপকার্থে ‘সিন্ধু’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? সেখানে পাড়ি দেওয়ার জন্য কবির এই ব্যাকুলতার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: রূপকার্থে ‘সিন্ধু’ বা সমুদ্র হলো এক অসীম, অনন্ত এবং মুক্ত কল্পনার জগৎ, যেখানে কোনো সাংসারিক বাধা বা প্রাত্যহিক জীবনের একঘেয়েমি নেই।
মানুষের মন স্বভাবতই স্বাধীনতাপ্রিয়। প্রতিদিনের একই রুটিন, দায়িত্ব এবং কর্তব্যের বোঝা মানুষের মনকে ক্লান্ত করে তোলে। এই ক্লান্তি এবং আবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে এক অজানা ও রোমান্টিক জীবনের আস্বাদ পাওয়ার জন্যই কবির মনে সিন্ধুপারে পাড়ি দেওয়ার এই তীব্র ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়েছে।

15. “স্রোতের প্রবল প্রাণ করে আহরণ” – কে, কার প্রাণ আহরণ করে? এই আহরণের মধ্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: জোয়ারের পর আসা ভাটার শোষণ সমুদ্র বা নদীর স্রোতের প্রবল প্রাণ বা শক্তিকে আহরণ করে তাকে স্তিমিত করে দেয়।
এই আহরণের মধ্য দিয়ে আসলে মানুষের জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে। জোয়ারের মতো মানুষের মনে যে যৌবনের উচ্ছ্বাস ও স্বপ্নগুলো ফুলে ফেঁপে ওঠে, প্রাত্যহিক বাস্তবতার কঠিন নিয়ম এবং জীবনের নৈরাশ্য ভাটার মতো সেই সমস্ত স্বপ্ন ও জীবনীশক্তিকে ধীরে ধীরে শুষে নেয়। মানুষ তখন তার স্বপ্নের জগৎ থেকে আবার সেই সাধারণ গণ্ডিবদ্ধ জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার