নবম শ্রেণি – বাংলা, রাধারাণী – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 3 নম্বরের প্রশ্নত্তোর
অধ্যায় 7: রাধারাণী
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির প্রাসঙ্গিক ও বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল” – রাধারাণীর কান্নার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে আমরা দেখি, রাধারাণীর মা ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং বাড়িতে তাঁর পথ্য কেনার মতো একটি পয়সাও ছিল না। নিরুপায় হয়ে মাত্র 11 বছরের বালিকা রাধারাণী জঙ্গল থেকে বনফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে তা বিক্রির আশায় মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় এবং মেলা ভেঙে যায়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও রাধারাণী তার মালাটি বিক্রি করতে পারে না। অসুস্থ মায়ের জন্য পথ্য জোগাড় করতে না পারার চরম হতাশা, ব্যর্থতা এবং অন্ধকার পথের ভয়েই রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে ফিরছিল।
2. “অন্ধকারে, পথ কদমর্ময়, পিচ্ছিল” – এই ভয়ংকর পরিবেশে রাধারাণীর কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ার পর রাধারাণী যখন বাড়ির দিকে রওনা হয়, তখন চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। অবিরাম বৃষ্টির ফলে মাটির রাস্তা কাদায় ভরে অত্যন্ত পিচ্ছিল বা পিছল হয়ে উঠেছিল। এই ভয়ংকর দুর্যোগের রাতে ছোট্ট বালিকা রাধারাণী কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না এবং পিছল পথে বারবার আছাড় খাচ্ছিল। তার ওপর বুকের কাছে সযত্নে লুকিয়ে রাখা অবিক্রীত মালাটি এবং অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে তার দু-চোখ বেয়ে অবিরত জল ঝরছিল। এই অসহায় ও বিভীষিকাময় অবস্থাতেই সে পথ হাতড়ে এগোচ্ছিল।
3. “তাহাতে রাধারাণীর ঘাড়ের উপর কে আসিয়া পড়িল” – কখন, কে রাধারাণীর ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছিল? এর ফল কী হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: দুর্যোগের রাতে রথের মেলা থেকে ফেরার পথে, কাদাময় ও অন্ধকার পিছল রাস্তায় রাধারাণী যখন একা কাঁদছিল, ঠিক তখনই এক অপরিচিত ব্যক্তি অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে রাধারাণীর ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছিলেন।
হঠাৎ অন্ধকারে কেউ গায়ের ওপর এসে পড়ায় রাধারাণী প্রথমে ভয় পেয়ে আরও জোরে কেঁদে ওঠে। কিন্তু সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে তাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে তার কান্নার কারণ জানতে চান। এই আন্তরিক ও দয়াময় কণ্ঠস্বর শুনে রাধারাণীর ভয় কেটে যায় এবং সে ভরসা পেয়ে নিজের দুঃখের কথা তাকে খুলে বলে।
4. “রাধারাণী বড়ো বালিকা—কিন্তু বড়ো বুদ্ধিমতী” – রাধারাণীর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাধারাণী বয়সে ছোটো হলেও পরিস্থিতি বোঝার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তা তার ছিল। যখন সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি অন্ধকারে তার বনফুলের মালাটি কিনে নেন এবং মালার দাম হিসেবে একটি মুদ্রা তার হাতে দেন, রাধারাণী তখনই বুঝতে পারে যে মুদ্রাটির আকার পয়সার চেয়ে বড়ো। লোকটি এটিকে ‘ডবল পয়সা’ বলে চালাতে চাইলেও রাধারাণী স্পষ্ট বোঝে যে এটি আসলে একটি টাকা। লোকটি যে তার চরম দরিদ্র অবস্থার কথা শুনে ইচ্ছা করেই পয়সার বদলে টাকা দিয়ে তাকে সাহায্য করতে চাইছে, রাধারাণীর এই সূক্ষ্ম উপলব্ধিই তার অসামান্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
5. “রাধারাণী সে রোদনশব্দ শুনিতে পাইল” – কে কাঁদছিল? তার কান্নার কারণ কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাধারাণী যখন অপরিচিত ব্যক্তির হাত ধরে নিজের ভাঙা কুটিরের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়, তখন সে তার মায়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়।
রাধারাণীর মায়ের কান্নার প্রধান কারণ ছিল মেয়ের প্রতি গভীর দুশ্চিন্তা। রাধারাণী অনেকক্ষণ আগে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল, কিন্তু বাইরে তখন প্রবল ঝড়-বৃষ্টি এবং অন্ধকার। এমন ভয়ংকর দুর্যোগের রাতে ছোট্ট মেয়ে এতক্ষণ বাড়ি ফেরেনি দেখে মায়ের মনে নানা অমূলক আশঙ্কার জন্ম নিয়েছিল। মেয়ের কোনো বড়ো বিপদ হলো কি না, এই ভেবেই অসহায় মা ব্যাকুল হয়ে কাঁদছিলেন।
6. “তাঁহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহেন” – মন্তব্যটির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উক্তিটির মাধ্যমে রাধারাণী এবং তার মায়ের চরম সততা ও নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অপরিচিত ব্যক্তিটি চলে যাওয়ার পর রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে একটি টাকার নোট কুড়িয়ে পায়। তারা সহজেই বুঝতে পারে যে, ওই সহৃদয় ব্যক্তিটি তাদের সাহায্য করার জন্যই গোপনে নোটটি ফেলে রেখে গেছেন। রাধারাণীদের বাড়িতে তখন ঘোর অভাব, দু-বেলা খাওয়ার জোটে না, তবুও তারা ওই নোটটি ভাঙিয়ে নিজেদের কাজে লাগায়নি। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তারা ওই নোটটিকে পরম যত্নে তুলে রেখেছিল, যা তাদের লোভহীন ও উচ্চ মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।
7. “আমরা ভিখারি নই” – কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছে? কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে ছোট্ট বালিকা রাধারাণী কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলেছিল।
তাৎপর্য: রুক্মিণীকুমার রায় পদ্মলোচনকে দিয়ে রাধারাণীদের জন্য নতুন কাপড় পাঠিয়েছিলেন। রাধারাণী যখন জানতে পারে যে কাপড়ের দাম আগে থেকেই দেওয়া হয়ে গেছে, তখন সে ভেবেছিল কেউ তাদের করুণা করে দান পাঠিয়েছে। রাধারাণীরা একসময় বড়ো মানুষ ছিল, বর্তমানে নিঃস্ব হলেও তাদের আত্মসম্মানবোধ বিন্দুমাত্র কমেনি। বিনা পরিশ্রমে বা দয়ায় কারও দান গ্রহণ করা তাদের কাছে ভিখারির বৃত্তির সমান মনে হয়েছিল বলেই রাধারাণী সগর্বে এই কথাটি উচ্চারণ করেছিল।
8. “পোড়া কপাল! সে কি আমার দাম দিয়ে নেওয়ার কথা” – বক্তা কে? সে কেন এ কথা বলেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলো রাধারাণীদের প্রতিবেশী এবং কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহা।
রুক্মিণীকুমার রায় রাধারাণীদের বাড়িতে পদ্মলোচনকে দিয়ে একজোড়া নতুন শান্তিপুরে কাপড় পাঠিয়েছিলেন এবং আগেই কাপড়ের দাম চুকিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাধারাণী যখন মালার দাম হিসেবে পাওয়া ওই এক টাকা থেকে কাপড়ের দাম মেটাতে চায়, তখন পদ্মলোচন অবাক হয়ে যায়। সে জানায় যে, ওই বাবু তাকে নগদ টাকা দিয়ে কাপড় কিনে পাঠিয়েছেন, তাই সে আর নতুন করে রাধারাণীদের কাছ থেকে কাপড়ের দাম নিতে পারে না। এই ঘটনাটি বোঝাতেই সে উপরিউক্ত মন্তব্যটি করেছিল।
9. “তাহারা মনে করিল যে, এই নাম সেই মহাপুরুষের” – মহাপুরুষ কে? কেন তাঁকে মহাপুরুষ বলা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: এখানে ‘মহাপুরুষ’ বলতে সেই অপরিচিত সহৃদয় ব্যক্তিটিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি অন্ধকারে রাধারাণীকে সাহায্য করেছিলেন। কুড়িয়ে পাওয়া নোটে লেখা ‘রুক্মিণীকুমার রায়’ নামটিকে তারা সেই ব্যক্তিরই নাম বলে মনে করেছিল।
তাঁকে মহাপুরুষ বলার কারণ হলো, তাঁর অসীম দয়া এবং নিঃস্বার্থ পরোপকার। চরম দুর্দিনের রাতে তিনি কেবল রাধারাণীকে নিরাপদে বাড়িতেই পৌঁছে দেননি, বরং মালার দামের অজুহাতে টাকা দিয়েছেন, পদ্মলোচনকে দিয়ে কাপড় পাঠিয়েছেন এবং শেষে একটি নোট ঘরের মেঝেতে ফেলে নিঃশব্দে চলে গেছেন। বিনিময়ে তিনি কোনো কৃতজ্ঞতা বা পরিচয় চাননি। তাঁর এই দেবতুল্য মহানুভবতার জন্যই তাঁকে মহাপুরুষ বলা হয়েছে।
10. “রাধারাণী কুড়াইয়া লইয়া দেখিল, একখানা কাগজ” – কাগজটি কী ছিল? সেটির কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারাণী মাটি থেকে যে কাগজটি কুড়িয়ে পেয়েছিল, সেটি সাধারণ কোনো কাগজ ছিল না, সেটি ছিল একটি টাকার নোট। তাতে রুক্মিণীকুমার রায় নামটি লেখা ছিল।
রাধারাণী ও তার মা বুঝতে পেরেছিল যে, ওই মহৎ ব্যক্তিটি তাদের সাহায্য করার জন্যই গোপনে নোটটি ফেলে রেখে গেছেন। কিন্তু চরম দারিদ্র্য এবং অনাহার সত্ত্বেও আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন রাধারাণী ও তার মা ওই নোটটি বাজারে ভাঙিয়ে খরচ করেনি। বরং ওই দয়ালু মানুষের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তারা নোটটিকে পরম যত্নে তুলে রেখেছিল।
11. “অপরিচিত তখন বলিল, ‘আমিও শ্রীরামপুর যাইব'” – অপরিচিত ব্যক্তির এই কথার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে রাধারাণীর কান্নার আওয়াজ শুনে অপরিচিত ব্যক্তিটি তার সব দুঃখের কথা জানতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন যে ছোট্ট বালিকাটি অন্ধকারে একলা পিছল পথে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ভয় পাচ্ছে এবং বারবার আছাড় খাচ্ছে। রাধারাণীকে ভয়মুক্ত করতে এবং তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদে শ্রীরামপুরে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মহান উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি বলেছিলেন যে তিনিও শ্রীরামপুর যাবেন এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এটি তাঁর অভিভাবকসুলভ দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়।
12. রাধারাণীর মায়ের চরম দুর্গতির কারণ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: রাধারাণীরা পূর্বে যথেষ্ট বড়ো মানুষ বা ধনী ছিল। কিন্তু রাধারাণীর বাবা মারা যাওয়ার পর একজন জ্ঞাতির সঙ্গে তাদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এক বিশাল মামলা বা মকদ্দমা বেধে যায়। সেই মামলা হাইকোর্ট হয়ে প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়ালে রাধারাণীর মা তাতে হেরে যান। এর ফলে ডিক্রি জারি করে তাদের জ্ঞাতি তাদের সমস্ত সম্পত্তি, বাড়িঘর সব দখল করে নেয়। ভিটেমাটি থেকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ হওয়ার কারণেই রাধারাণীর মাকে প্রায় ভিখারির মতো একটি জীর্ণ কুটিরে এসে চরম দুর্গতির মধ্যে জীবন কাটাতে হয়।
13. “সেই আলোতে রাধারাণী দেখিল, একটি টাকা” – টাকাটি কে, কেন দিয়েছিল? রাধারাণী টাকাটি নিয়ে কী করেছিল?
উত্তর দেখো
উত্তর: অন্ধকারে রুক্মিণীকুমার রায় রাধারাণীর কাছ থেকে বনফুলের মালা কেনার সময় দাম হিসেবে টাকাটি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, মালার দামের অজুহাতে এই চরম দরিদ্র মেয়েটিকে একটু আর্থিকভাবে সাহায্য করা।
রাধারাণী যখন আলো জ্বালিয়ে দেখে যে সেটি পয়সা নয়, একটি টাকা এবং সেই ব্যক্তিটি চলে গেছেন, তখন সে টাকাটি মায়ের হাতে দেয়। পরে সেই টাকাটি ভাঙিয়েই রাধারাণী মায়ের জন্য পথ্য বা ওষুধ, চাল, ডাল এবং ঘর আলোকিত করার জন্য তেল কিনে এনেছিল।
14. রুক্মিণীকুমার রায় চরিত্রটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘রাধারাণী’ গল্পে রুক্মিণীকুমার রায় হলেন মানবতার এক উজ্জ্বল আদর্শ। তিনি অত্যন্ত দয়ালু, পরোপকারী এবং নিঃস্বার্থ মনের মানুষ। অন্ধকারে একটি অসহায় বালিকাকে কাঁদতে দেখে তিনি যেমন অভিভাবকের মতো তাকে পথ দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেন, তেমনি তার চরম দারিদ্র্যের কথা বুঝে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এবং সসম্মানে তাকে আর্থিক সাহায্য করেন। অন্যের উপকার করে প্রতিদানের আশা না করে আত্মগোপন করাতেই তাঁর চরিত্রের আসল মহত্ত্ব ফুটে উঠেছে।
15. রাধারাণী চরিত্রটি কেমন তা গল্প অনুসরণে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্ট রাধারাণী চরিত্রটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও এক অপরূপ মানবিক গুণের অধিকারী। মাত্র 10-11 বছর বয়সেই সে অত্যন্ত মাতৃভক্ত, কারণ মায়ের পথ্যের জন্য সে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মেলায় যায়। সে বয়সে ছোটো হলেও অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, তাই অন্ধকারেও সে ডবল পয়সা ও টাকার তফাত বুঝতে পারে। সর্বোপরি, রাধারাণী প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ও নির্লোভ। তাই অভাবের তাড়নায় ধুঁকলেও সে বিনা পরিশ্রমে পাওয়া অপরের দান বা নোটটিকে আত্মসাৎ করেনি, বরং পরম পবিত্রতায় তা রক্ষা করেছে।