মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি- বাংলা, রাধারাণী – বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায় রচনাধর্মী দীর্ঘ প্রশ্নত্তোর মান 5

অধ্যায় 7: রাধারাণী
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. রাধারাণীদের চরম দারিদ্র্যের কারণ কী? রথের মেলায় গিয়ে রাধারাণীর কীরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা বর্ণনা করো। (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

দারিদ্র্যের কারণ: রাধারাণীরা একসময় অত্যন্ত ধনী এবং অবস্থাপন্ন ছিল। কিন্তু রাধারাণীর বাবা মারা যাওয়ার পর এক জ্ঞাতির সঙ্গে তাদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত এক দীর্ঘ মামলা চলে। সেই মামলায় রাধারাণীর মা হেরে গেলে জ্ঞাতিরা ডিক্রি জারি করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি ও বাড়িঘর দখল করে নেয়। ভিটেমাটি থেকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ হয়েই রাধারাণীর মা প্রায় ভিখারির মতো একটি জীর্ণ কুটিরে এসে আশ্রয় নেন এবং চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।

মেলার অভিজ্ঞতা: অসুস্থ মায়ের পথ্য বা ওষুধ কেনার জন্য মাত্র 10-11 বছরের বালিকা রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত করুণ। রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় এবং মেলা ভেঙে যায়। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থেকেও সে মালাটি বিক্রি করতে পারে না। অবশেষে অন্ধকার, কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথে ভয় এবং বুকভরা হতাশা নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাকে বাড়ির দিকে ফিরতে হয়।

2. “আমরা ভিখারি নই” – কে, কাকে এ কথা বলেছে? এই উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে উঠেছে? (2+3=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

বক্তা ও উদ্দেশ্য: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে উদ্ধৃত কথাটি ছোট্ট বালিকা রাধারাণী তাদের প্রতিবেশী এবং কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল। রুক্মিণীকুমার রায় গোপনে দাম মিটিয়ে পদ্মলোচনকে দিয়ে রাধারাণীদের বাড়িতে নতুন কাপড় পাঠিয়েছিলেন।

চরিত্রের দিক: এই উক্তির মধ্য দিয়ে রাধারাণীর চরিত্রের প্রবল আত্মসম্মানবোধ এবং নির্লোভ মানসিকতার উজ্জ্বল দিকটি ফুটে উঠেছে। রাধারাণী এবং তার মা খেতে না পেয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটালেও তাদের আভিজাত্য এবং সম্মানবোধ বিন্দুমাত্র কমেনি। রাধারাণী যখন জানতে পারে যে কাপড়ের দাম আগে থেকেই দেওয়া হয়ে গেছে, তখন সে ভাবে কেউ তাদের করুণা করে দান পাঠিয়েছে। বিনা পরিশ্রমে বা করুণার বশবর্তী হয়ে দেওয়া কারও দান গ্রহণ করাকে সে ভিখারির বৃত্তির সমান মনে করেছিল। দারিদ্র্য যে তাদের মানসিকতাকে নিচু করতে পারেনি, এই গর্বিত উক্তিটি তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।

3. ‘রাধারাণী’ গল্প অবলম্বনে রুক্মিণীকুমার রায়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে রুক্মিণীকুমার রায় হলেন মানবতা, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ পরোপকারের এক উজ্জ্বল আদর্শ। তাঁর চরিত্রের প্রধান দিকগুলি হলো:

স্নেহশীল ও দায়িত্ববান: দুর্যোগের রাতে একটি বালিকাকে একা কাঁদতে দেখে তিনি শুধু তাকে সান্ত্বনাই দেননি, পরম স্নেহে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে সম্পূর্ণ অভিভাবকের মতো তার হাত ধরে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

মানবিক ও সহানুভূতিশীল: রাধারাণীর দারিদ্র্যের কথা শুনে তাঁর হৃদয় কেঁদে উঠেছিল। তিনি রাধারাণীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা ভিক্ষা হিসেবে নয়। তাই তিনি মালার দাম হিসেবে অন্ধকারে অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে একটি টাকা দেন, যাতে বালিকাটির আত্মসম্মানে আঘাত না লাগে।

নিঃস্বার্থ পরোপকারী: পদ্মলোচনকে দিয়ে নতুন কাপড় পাঠানো এবং ঘরের মেঝেতে একটি নোট ফেলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর অসীম উদারতা প্রকাশ পায়। সবচেয়ে বড়ো কথা, এত উপকার করা সত্ত্বেও তিনি কোনো কৃতজ্ঞতা বা প্রতিদানের আশায় সেখানে দাঁড়াননি, নিজের পরিচয় গোপন রেখেই অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এই প্রচারবিমুখ মহত্ত্বই তাঁকে গল্পের সত্যিকারের ‘মহাপুরুষ’ করে তুলেছে।

4. “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহেন।” – কাদের কথা বলা হয়েছে? গল্প অবলম্বনে এই মন্তব্যের যথার্থতা বিচার করো। (1+4=5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

কাদের কথা: আলোচ্য অংশে 10-11 বছরের বালিকা রাধারাণী এবং তার মায়ের কথা বলা হয়েছে।

মন্তব্যের যথার্থতা: রাধারাণীরা একসময় অবস্থাপন্ন থাকলেও বর্তমানে জ্ঞাতির চক্রান্তে সর্বস্বান্ত হয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিল। ঘরে অসুস্থ মা, দু-বেলা খাওয়ার মতো অন্ন পর্যন্ত তাদের জুটত না। এই ঘোর অভাবের মধ্যে রুক্মিণীকুমার রায় গোপনে তাদের ঘরের মেঝেতে একটি টাকার নোট ফেলে রেখে যান। রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে সেই নোটটি কুড়িয়ে পায়। তারা সহজেই বুঝতে পারে যে, ওই দয়ালু ব্যক্তিটি তাদের অভাব মোচনের জন্যই নোটটি রেখে গেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তীব্র অনাহার এবং দারিদ্র্যের কশাঘাত সত্ত্বেও তারা ওই নোটটি ভাঙিয়ে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কাজে লাগায়নি। অপরের ফেলে যাওয়া অর্থ বিনা পরিশ্রমে গ্রহণ করাকে তারা নীতিবিরুদ্ধ বলে মনে করেছিল। তাই ওই নোটটিকে তারা ওই দয়ালু মানুষের পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরম যত্নে তুলে রেখেছিল। তাদের এই আচরণই প্রমাণ করে যে তারা দরিদ্র হলেও বিন্দুমাত্র লোভী নয়, মন্তব্যটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক।

5. ‘রাধারাণী’ গল্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রথের মেলার বৃষ্টির ভূমিকা বা তাৎপর্য আলোচনা করো। (5)

উত্তর দেখো
উত্তর:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে রথের মেলার প্রবল বৃষ্টিপাত কেবল একটি পরিবেশের বর্ণনা নয়, এটি গল্পের মূল কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।

প্রথমত, এই বৃষ্টির জন্যই রথের মেলা অকালে ভেঙে যায় এবং রাধারাণী তার বনফুলের মালা বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতাই তার মনের হতাশা এবং দারিদ্র্যের কষ্টকে চরম সীমায় পৌঁছে দেয়, যার ফলে সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়।

দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির ফলে চারদিক ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল এবং পথ পিচ্ছিল হয়েছিল। এই প্রতিকূল পরিবেশ না থাকলে রাধারাণীর সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তি রুক্মিণীকুমার রায়ের কখনোই ধাক্কা লাগত না। দুর্যোগের এই অন্ধকার রাতেই রুক্মিণীকুমারের অসীম সহানুভূতি, দয়া এবং মানবপ্রেম উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ, এই বৃষ্টি ও অন্ধকারই একদিকে রাধারাণীর চরম অসহায়তাকে ফুটিয়ে তুলেছে এবং অন্যদিকে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে দুটি চরিত্রের এক অভাবনীয় মিলন ঘটিয়েছে। তাই গল্পে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাৎপর্য অপরিসীম।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার