মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, হিমালয় দর্শন – বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর, মান 3

অধ্যায় 19: হিমালয় দর্শন
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির বিস্তারিত ও পয়েন্টভিত্তিক উত্তর দাও:

1. “আমরা এতদিন ‘কূপমণ্ডূক’ ছিলাম” – লেখিকা নিজেকে ‘কূপমণ্ডূক’ কেন বলেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘কূপমণ্ডূক’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো কুয়োর ব্যাঙ, যে তার গণ্ডির বাইরের জগত সম্পর্কে কিছুই জানে না। লেখিকা বেগম রোকেয়া সামাজিক অবরোধ প্রথা এবং পারিবারিক বেষ্টনীর কারণে দীর্ঘকাল সমতলের চারবেয়ালের মধ্যেই বন্দি ছিলেন। তিনি কার্শিয়াং-এ এসে হিমালয়ের যে অসীম বিশালতা এবং প্রকৃতির বিপুল ঐশ্বর্য প্রত্যক্ষ করেন, তা সমতলের সংকীর্ণ জীবনে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল। প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পূর্বের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করেই তিনি নিজেকে ‘কূপমণ্ডূক’ বলে অভিহিত করেছেন।

2. হিমালয় রেলওয়ের ট্রেনটি সম্পর্কে লেখিকার বর্ণনাটি নিজের ভাষায় লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয় রেলওয়ের ট্রেনটি লেখিকার কাছে ছিল এক বিশেষ বিস্ময়। তিনি এটিকে সাধারণ ট্রেনের বদলে ছোটো ‘খেলনা গাড়ির’ সাথে তুলনা করেছেন। ট্রেনটির ইঞ্জিন একটি ছোটো মহিষের আকার তুল্য এবং এর প্রতিটি কামরা ছিল অতিশয় ক্ষুদ্র। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা ও খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠার জন্য এই ট্রেনের বিশেষ গঠন লেখিকাকে মুগ্ধ করেছিল। ট্রেনটি যখন সর্পিল পথে অত্যন্ত ধীরগতিতে পাহাড়ের গা ঘেঁষে উপরের দিকে ওঠে, তখন পর্যটকদের মনে রোমাঞ্চ ও ভয়ের এক মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়— লেখিকা তাঁর বর্ণনায় সেই অপূর্ব অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন।

3. “মেঘের লুকোচুরি খেলা বর্ণনাতীত” – লেখিকা মেঘের এই খেলার যে বর্ণনা দিয়েছেন তা সংক্ষেপে লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কার্শিয়াং ভ্রমণের সময় লেখিকা মেঘেদের বিচিত্র ও চঞ্চল রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। পাহাড়ি অঞ্চলে মেঘেরা যেন জীবন্ত প্রাণীর মতো আচরণ করে; তারা কখনও পাহাড়ের চূড়া ঢেকে দেয়, আবার কখনও হঠাৎ সরে গিয়ে রোদ ঝলমলে রূপ প্রকাশ করে। লেখিকা দেখেছেন, সাদা ধোঁয়ার মতো মেঘগুলো অকারণে এদিক-ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছে। এমনকি ঘরের খোলা জানালা দিয়েও অনাহুতভাবে মেঘ ভেতরে ঢুকে পড়ে ঘর অন্ধকার করে দেয়। মেঘেদের এই অবাধ বিচরণ এবং ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতির রং পরিবর্তন লেখিকার কাছে এক মায়াবী ও বর্ণনাতীত অভিজ্ঞতা বলে মনে হয়েছে।

4. “পার্বত্য বায়ু অতিশয় নির্মল” – এই বায়ু লেখিকার শরীরে ও মনে কী প্রভাব ফেলেছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখিকা চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং শরীর ভালো করার জন্য কার্শিয়াং গিয়েছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলের বায়ু ছিল অত্যন্ত শুদ্ধ, শীতল এবং দূষণমুক্ত। সমতলের ধুলোবালি ও ধোঁয়ামুক্ত এই বাতাস লেখিকার অবসন্ন শরীরে প্রাণশক্তির সঞ্চার করেছিল। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, এখানকার বাতাসের প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আরোগ্য শক্তি রয়েছে। এই বায়ুর গুণেই তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি দ্রুত সুস্থবোধ করতে শুরু করেন এবং তাঁর মন এক অপার্থিব আনন্দে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

5. পাহাড়ের জলপ্রপাত বা ‘নির্ঝরিণী’ সম্পর্কে লেখিকার অনুভূতি ব্যক্ত করো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের বুক চিরে নেমে আসা অসংখ্য ছোটো-বড়ো জলপ্রপাত বা নির্ঝরিণী লেখিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি দেখেছেন, পাহাড়ের কঠিন পাথর ভেদ করে স্বচ্ছ শীতল জলধারা সাদা ফিতের মতো প্রবল বেগে নিচে গড়িয়ে পড়ছে। এই জলধারার অবিরাম কুলকুল ধ্বনি লেখিকার কানে যেন এক স্বর্গীয় সঙ্গীতের মতো বেজেছে। প্রকৃতির এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণপ্রবাহ দেখে তিনি বিমুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর মতে, এই নির্ঝরিণীগুলি যেন প্রকৃতির পবিত্রতা ও গতির প্রতীক, যা পাহাড়ের গাম্ভীর্যকে এক সজীব ও চঞ্চল মাত্রা প্রদান করে।

6. কার্শিয়াং-এর পথে চা বাগানের সৌন্দর্যের বর্ণনা লেখিকা কীভাবে দিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: পার্বত্য পথের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাহাড়ের ঢালে স্তরে স্তরে সাজানো চা বাগান। লেখিকা দেখেছেন, সবুজ কোমল পাতার চা গাছগুলি পাহাড়ের গায়ে এক অপূর্ব নকশা তৈরি করেছে। দূর থেকে এই বাগানগুলিকে দেখে মনে হয় যেন পাহাড়ের গায়ে সবুজ মখমলের গালিচা পেতে রাখা হয়েছে। রোদের আলোয় চা পাতার উজ্জ্বলতা এবং মাঝে মাঝে মেঘের ছায়ায় তাদের রং পরিবর্তন এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তৈরি করে। এই শৃঙ্খলাপরায়ণ চা বাগানগুলি বুনো পাহাড়ের রুক্ষতার মাঝে এক স্নিগ্ধ ও পরিপাটি সৌন্দর্যের উদাহরণ হয়ে লেখিকার বর্ণনায় ফুটে উঠেছে।

7. “পাহাড়ি মহিলারা অত্যন্ত কর্মঠ” – লেখিকা কেন এমন মন্তব্য করেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখিকা কার্শিয়াং-এ ভুটিয়ানি ও লেপচা মহিলাদের জীবনযাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি দেখেছেন, প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তাঁরা অত্যন্ত সাহসী এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে ভয় পান না। পিঠে ভারী ঝুড়ি বা বোঝা বেঁধে তাঁরা পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পথে অবলীলায় যাতায়াত করেন। সংসারের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি কৃষি এবং মাল বহনের মতো কঠিন কাজও তাঁরা হাসিমুখে করেন। তাঁদের এই হার না মানা মানসিকতা এবং নিরলস পরিশ্রম দেখেই লেখিকা তাঁদের ‘অত্যন্ত কর্মঠ’ ও ‘সহিষ্ণু’ বলে প্রশংসা করেছেন।

8. হিমালয়ের বিশালতার সামনে মানুষের ক্ষুদ্রতা লেখিকা কীভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের আকাশচুম্বী শৃঙ্গ এবং অসীম বিস্তৃতি প্রত্যক্ষ করে লেখিকা এক দার্শনিক সত্যে উপনীত হয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, এই বিশাল প্রকৃতির সামনে মানুষের অহংকার, ব্যস্ততা এবং অস্তিত্ব অত্যন্ত সামান্য— যেন এক কণা ধূলির মতো। পাহাড়ের স্থির ও গম্ভীর রূপ যেন মানুষের চঞ্চলতাকে উপহাস করে। প্রকৃতির এই বিপুল ঐশ্বর্যের আড়ালে যে এক অদৃশ্য শক্তি বা স্রষ্টার হাত রয়েছে, তা অনুভব করে লেখিকা নিজের ক্ষুদ্রতা স্বীকার করেছেন। এই উপলব্ধি মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়— লেখিকা তাঁর রচনায় এই গভীর বোধটিই সঞ্চারিত করেছেন।

9. “জগদীশ্বরের চরণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি” – লেখিকা কেন স্রষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: লেখিকা বিশ্বাস করেন যে, জগতের সমস্ত সৌন্দর্যই মহান স্রষ্টা বা জগদীশ্বরের দান। হিমালয়ের মেঘেদের খেলা, ঝরনার সঙ্গীত এবং পুষ্পিত পাহাড়ের রূপ প্রত্যক্ষ করে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হয়েছে, ঈশ্বর মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই পৃথিবীতে এত রূপের সম্ভার সাজিয়ে রেখেছেন। এই বিচিত্র ও মনোরম জগত দেখার সুযোগ পেয়েছেন বলে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক শান্তি লাভ করেছেন বলে তিনি ভক্তিভরে স্রষ্টার চরণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রকৃতির প্রতিটি তুচ্ছ উপাদানের মধ্যেও তিনি ঈশ্বরের মহিমা খুঁজে পেয়েছেন।

10. কার্শিয়াং-এর বিচিত্র কুসুমিত বন সম্পর্কে লেখিকার বর্ণনাটি লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের পথে লেখিকা অসংখ্য বুনো ফুল ও লতাপাতার সমারোহ দেখেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, পাহাড়ের গায়ে সাদা এবং হালকা বেগুনী রঙের বিচিত্র সব কুসুম ফুটে আছে। এছাড়া অনেক বুনো ফুল ডেইজি ফুলের মতো দেখতে, যা পাহাড়ের রুক্ষতাকে এক স্নিগ্ধ রূপ দিয়েছে। বড়ো বড়ো গাছের গুঁড়িতে পরগাছা ফুলের মালা জড়ানো দেখে লেখিকার মনে হয়েছে প্রকৃতি নিজেই যেন নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। এই বুনো ফুলের সুবাস ও রঙের বৈচিত্র্য কার্শিয়াং-এর বনভূমিকে এক অপার্থিব ও মোহময় রূপ প্রদান করেছিল।

11. “মেঘের দেশের” বাড়িগুলিতে মেঘের আচরণ কেমন হয়? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কার্শিয়াং-এ থাকাকালীন লেখিকা এক অভিনব অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বাড়িগুলি প্রায়শই মেঘের স্তরের মধ্যে ডুবে থাকে। খোলা জানালা দিয়ে মেঘের দল অনাহুতভাবে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। মেঘের প্রভাবে মুহূর্তের মধ্যে ঘর অন্ধকার হয়ে যায় এবং চারপাশে কুয়াশার মতো ধোঁয়াটে পরিবেশ তৈরি হয়। মনে হয় যেন ঘরের ভেতর দিয়ে জীবন্ত মেঘেরা যাতায়াত করছে। মেঘের এই অবাধ অধিকার এবং মানুষের সাথে তাদের এমন নিবিড় সহাবস্থান লেখিকার কাছে খুব রোমাঞ্চকর মনে হয়েছে।

12. পাহাড়ের নিস্তব্ধতা লেখিকার মনে কী ভাব জাগিয়ে তোলে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের গাম্ভীর্য ও গভীর নিস্তব্ধতা লেখিকার মনে এক আধ্যাত্মিক ভাব ও নির্লিপ্তির জন্ম দেয়। শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততা থেকে দূরে পাহাড়ের এই মৌনতা লেখিকাকে আত্মদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, প্রকৃতি যেন এখানে এক শান্ত উপাসকের মতো স্রষ্টার ধ্যানে মগ্ন। এই নিস্তব্ধতা কোনো শূন্যতা নয়, বরং এক গভীর পূর্ণতা যা মানুষকে ধীর, স্থির এবং বিনয়ী হতে অনুপ্রাণিত করে। এই মৌনতার মধ্য দিয়েই তিনি ঈশ্বরের উপস্থিতি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।

13. লেখিকার বর্ণনায় কার্শিয়াং-এর সূর্যাস্তের রূপটি ফোটাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে সূর্যাস্তের রূপ ছিল অতিশয় মনোরম। দিগন্তরেখায় যখন সূর্য পাটে নামে, তখন আকাশ ও পাহাড়ের চূড়াগুলো বিচিত্র রঙে রঞ্জিত হয়। সোনাগলি মেঘ আর বরফঢাকা শৃঙ্গগুলির ওপর পড়া অস্তগামী সূর্যের আভা এক অদ্ভুত রাজকীয় সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। লেখিকা তাঁর ব্যালকনি থেকে এই রূপ দেখে আপ্লুত হতেন। তাঁর মতে, সূর্যাস্তের এই মায়াবী ছটা পাহাড়ের গম্ভীর রূপকে এক মুহূর্তের জন্য কোমল ও মোহময় করে তোলে। প্রকৃতির এই রঙের খেলা তিনি তাঁর রচনায় বিস্তারিতভাবে ধরে রেখেছেন।

14. ইউক্যালিপটাস গাছ সম্পর্কে প্রবন্ধটিতে কী তথ্য পাওয়া যায়? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কার্শিয়াং-এর পথে ও আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে লম্বা ও বিশাল ইউক্যালিপটাস গাছ লেখিকার নজরে এসেছিল। তিনি লক্ষ করেছেন যে, এই গাছগুলোর পাতা থেকে এক প্রকার ওষধি গুণসম্পন্ন সুগন্ধি তেল নিষ্কাশন করা হয়। এখানকার স্থানীয় মানুষের কাছে এই গাছ অত্যন্ত মূল্যবান। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই গাছগুলির অর্থনৈতিক ও ভেষজ উপযোগিতা রয়েছে। লেখিকা পাহাড়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের বর্ণনার মধ্য দিয়ে এই বিশেষ গাছটির গুরুত্বও তাঁর রচনায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

15. হিমালয়ের প্রাকৃতিক নির্জনতা লেখিকাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: হিমালয়ের গভীর নির্জনতা লেখিকার মনে এক গভীর প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। সমতলের সামাজিক জটিলতা এবং অবরোধের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে দূরে এই নিভৃত প্রকৃতি তাঁকে নতুনভাবে জীবনকে দেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এই নির্জনতা তাঁকে স্রষ্টার সান্নিধ্য অনুভব করতে এবং নিজের আত্মিক উন্নতির পথে চিন্তা করতে সাহায্য করেছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, প্রকৃত শান্তি বাহ্যিক ঐশ্বর্যের মধ্যে নয়, বরং প্রকৃতির এমন শান্ত ও বিজন পরিবেশের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার