নবম শ্রেণি: বাংলা, হিমালয় দর্শন – বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, দীর্ঘ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর মান 5
অধ্যায় 19: হিমালয় দর্শন
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)
নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:
1. “হিমালয় দর্শন” প্রবন্ধ অনুসরণে হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি সচিত্র বর্ণনা দাও। (5)
উত্তর দেখো
লেখিকার বর্ণনায়, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ যেন আকাশ পানে উঠে গেছে। পথের দুপাশে নিবিড় অরণ্য, বিচিত্র বুনো ফুলের সমারোহ এবং স্তরে স্তরে সাজানো চা বাগান এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। পাহাড়ের কঠিন বুক চিরে নেমে আসা নির্ঝরিণী বা জলপ্রপাতগুলির কুলকুল ধ্বনি লেখিকার কানে সঙ্গীতের মতো বেজেছে। বিশেষত মেঘেদের লুকোচুরি খেলা লেখিকাকে মুগ্ধ করেছে— কখনও মেঘ এসে ঘর অন্ধকার করে দেয়, আবার কখনও রোদ ঝলমলে পাহাড়ি রূপ প্রকাশিত হয়। দূরে তুষারমণ্ডিত হিমালয়ের চূড়াগুলি রোদের আলোয় রাজতশুভ্র দেখায়। প্রকৃতির এই বিশালতা ও নিস্তব্ধতার মাঝে এক অলৌকিক শান্তি ও গাম্ভীর্য লেখিকা খুঁজে পেয়েছেন।
2. “আমরা এতদিন ‘কূপমণ্ডূক’ ছিলাম” – লেখিকার এই উপলব্ধির কারণ প্রবন্ধ অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। (5)
উত্তর দেখো
যখন তিনি কার্শিয়াং-এ এসে হিমালয়ের বিপুল বিশালতা, আকাশছোঁয়া শৃঙ্গ এবং অসীম নীল আকাশ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তাঁর সেই পুরনো সংকীর্ণ জগতের ধারণা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রকৃতির এই অসীম ঐশ্বর্য ও মহিমা আগে কখনও চাক্ষুষ না করায় তিনি নিজেকে কুয়োর ব্যাঙের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সমতলের ধুলোবালি ও কৃত্রিমতার মাঝে থেকে তিনি প্রকৃতির এই মহান রূপটি কল্পনা করতে পারেননি। হিমালয়ের বিশালত্বের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, জগত কত বড় এবং স্রষ্টার সৃষ্টি কত মহান। এই আত্মোপলব্ধি ও নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকেই লেখিকা এমন বিনম্র মন্তব্য করেছেন।
3. পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী নারীদের জীবনযাত্রা এবং তাঁদের পরিশ্রমী চরিত্রের যে পরিচয় প্রবন্ধে পাওয়া যায় তা লেখো। (5)
উত্তর দেখো
লেখিকা সবিস্ময়ে লক্ষ করেছেন যে, পাহাড়ি মহিলারা পিঠে বিশাল ঝুড়ি বা ভারী বোঝা বেঁধে অনায়াসে উঁচু-নিচু চড়াই-উতরাই পথ অতিক্রম করেন। পাথর বয়ে আনা বা কৃষি কাজ করার মতো কঠিন শ্রমেও তাঁরা পিছুপা হন না। প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে তাঁরা সংসার ও জীবিকা— দুই-ই সচল রাখেন। তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং খাদ্যতালিকাতেও এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। এত কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও তাঁদের মুখে ক্লান্তির ছাপের বদলে এক সহজ-সরল তৃপ্তি লেখিকা দেখেছেন। অবরোধবাসী সমতলের নারীদের তুলনায় পাহাড়ি নারীদের এই অদম্য সাহস ও কর্মক্ষমতা লেখিকাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তিনি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়েছেন।
4. “হিমালয় দর্শন” প্রবন্ধে লেখিকার আধ্যাত্মিক ভাব ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তি কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে? (5)
উত্তর দেখো
পাহাড়ের গাম্ভীর্য, ঝরনার সঙ্গীত এবং মেঘেদের খেলা দেখে লেখিকা বারবার ‘জগদীশ্বর’ বা পরমেশ্বরকে স্মরণ করেছেন। তাঁর মনে হয়েছে, এই বিশাল জগত স্রষ্টা মানুষকে আনন্দ ও শিক্ষা দেওয়ার জন্যই সাজিয়ে রেখেছেন। প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্যের সামনে মানুষের ক্ষুদ্রতা অনুভব করে তিনি বিনয়ী হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃতি হলো স্রষ্টার এক নীরব উপাসক। পাহাড়ি নির্জনতার মাঝে তিনি ঈশ্বরের মহিমা আরও নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছেন। তাঁর রচনায় বারবার ফুটে উঠেছে যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে যে এক অদৃশ্য ও মহান শক্তি কাজ করছে, সেই স্রষ্টার কাছে মাথা নত করাই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
5. প্রবন্ধ অনুসরণে হিমালয় রেলওয়ে বা টয় ট্রেনের যাত্রা এবং কার্শিয়াং শহরের পরিবেশ বর্ণনা করো। (3+2=5)
উত্তর দেখো
কার্শিয়াং শহরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্ত ও নির্মল। এখানকার বায়ু স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হিতকর, যা লেখিকার অসুস্থ শরীরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 4,864 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরে মেঘেরা বাড়ির জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। চা বাগান, বিচিত্র বুনো ফুল এবং চারপাশের ঘন সবুজ বনানী কার্শিয়াংকে এক অপার্থিব রূপ দান করেছে। লেখিকার কাছে এই শহরটি ছিল প্রকৃতির এক নিরাপদ ও সুন্দর কোল, যেখানে মানুষ স্রষ্টার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।