মকটেস্ট বেছে নাও

অফলাইন মকটেস্ট

খুব শীঘ্রই আপলোড হবে!

নবম শ্রেণি: বাংলা, স্বপ্নপণী (প্রফেসর শঙ্কুর ডাইরি) – সত্যজিৎ রায়, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর মান 3

সহায়ক পাঠ: স্বর্ণপর্ণী
(সংক্ষিপ্ত / ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)

নিচের উক্তিগুলির বিস্তারিত ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও:

1. ‘স্বর্ণপর্ণী’ গাছটি দেখতে কেমন? এর বিশেষত্ব কী? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বর্ণপর্ণী গাছটি দেখতে অনেকটা আকন্দ গাছের মতো হলেও এর পাতাগুলো কিছুটা লম্বাটে। এই গাছের প্রধান বিশেষত্ব হলো এর পাতা শুকিয়ে গেলে তা উজ্জ্বল সোনালি বর্ণ ধারণ করে, যা থেকেই এর নাম হয়েছে ‘স্বর্ণপর্ণী’। এছাড়া এই গাছের পাতায় অলৌকিক ওষধি গুণ রয়েছে; এর শুকনো পাতার রস জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সর্বরোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।

2. টিকলিবাবা সম্পর্কে যা জানো সংক্ষেপে লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: টিকলিবাবা ছিলেন এক রহস্যময় ও দীর্ঘজীবী সাধু। তাঁর কপালে সিন্দুর বা লাল মাটির একটি বড় গোল তিলক বা ‘টিকলি’ থাকত বলেই গ্রামবাসী তাঁকে এই নামে ডাকত। তিনি দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে ছিলেন বলে শোনা যায়। তিনি হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন এবং ওষধি গাছগাছড়া সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান রাখতেন। তিনিই প্রফেসর শঙ্কুর বাবাকে ‘স্বর্ণপর্ণী’ গাছের সন্ধান ও এর গুণাগুণের কথা জানিয়েছিলেন।

3. শঙ্কুর বাবা কেন মিরাকিউরলের নাম ‘স্বর্ণবটিকা’ দিতে চেয়েছিলেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শঙ্কুর বাবা ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তিনি যেহেতু এই বড়ি তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ‘স্বর্ণপর্ণী’ নামক দুষ্প্রাপ্য লতা বা পাতা ব্যবহার করেছিলেন এবং পাতাটি শুকিয়ে গেলে সোনার মতো দেখাত, তাই তিনি এর নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘স্বর্ণবটিকা’। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর আবিষ্কারের নামকরণের মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকুক। তবে পরবর্তীকালে শঙ্কু বিশ্ববাজারে একে পরিচিত করার জন্য নাম দেন ‘মিরাকিউরল’।

4. সন্ডার্সের রোগটি কী ছিল এবং তার উপসর্গ কীরূপ ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: বিখ্যাত বিজ্ঞানী সন্ডার্স ‘অস্টিও-মায়োলাইটিস’ (Osteo-myelitis) নামক এক যন্ত্রণাদায়ক হাড়ের রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে হাড়ের ভেতরে পচন বা ইনফেকশন শুরু হয়, যা রোগীকে অত্যন্ত দুর্বল ও চলনশক্তিহীন করে দেয়। সন্ডার্স অসহ্য ব্যথায় কাতর হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং আধুনিক কোনো চিকিৎসাতেই তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। প্রফেসর শঙ্কু তাঁর মিরাকিউরল বড়ি দিয়ে সন্ডার্সকে এই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

5. শঙ্কু কেন সন্ডার্সের দেওয়া পুরস্কারের চেক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রফেসর শঙ্কু বিশ্বাস করতেন যে বিজ্ঞানের কাজ হওয়া উচিত মানবকল্যাণ, ব্যবসা নয়। সন্ডার্স কৃতজ্ঞতা স্বরূপ শঙ্কুকে একটি মোটা অঙ্কের চেক দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শঙ্কু তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, স্বর্ণপর্ণীর মতো অলৌকিক ওষধি ঈশ্বরের দান, যা তাঁর বাবা বিনা মূল্যে মানুষকে দিতে চেয়েছিলেন। বাবার সেই নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ এবং নিজের আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখতেই শঙ্কু সেই প্রলোভন ত্যাগ করেছিলেন।

6. শঙ্কুর বাবার চরিত্রে পরোপকারের যে চিত্র পাওয়া যায় তা লেখো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শঙ্কুর বাবা ত্রিপুরাকেশ্বর শঙ্কু ছিলেন একজন উচ্চমানের মানবতাবাদী। তিনি আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করতেন। অনেক সময় তিনি দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না, উল্টে নিজের ঘর থেকে পথ্য কিনে দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন চিকিৎসার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আরোগ্য দান, অর্থ উপার্জন নয়। স্বর্ণপর্ণীর মতো শক্তিশালী ওষধি পেয়েও তিনি কখনও তা বিক্রি করার কথা ভাবেননি, বরং আর্তপীড়িত মানুষের কল্যাণে তা ব্যবহারের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

7. কাসৌলি যাত্রার অভিজ্ঞতা শঙ্কুর জীবনে কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: কাসৌলি যাত্রা শঙ্কুর জীবনের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল কারণ সেখানেই তিনি প্রথমবার সেই অলৌকিক ‘স্বর্ণপর্ণী’ গাছটির সন্ধান পেয়েছিলেন। বাবার ডায়েরিতে দেওয়া বর্ণনার সাথে মিলিয়ে তিনি পাহাড়ের সাত হাজার ফুট উচ্চতায় গাছটি খুঁজে পান। এই গাছটির অভাব নেই বলেই তিনি পরবর্তীকালে ‘মিরাকিউরল’ বড়ি বিপুল পরিমাণে তৈরি করতে সক্ষম হন। বাবার অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করার জন্য এই যাত্রাটি ছিল শঙ্কুর বিজ্ঞানী জীবনের এক বড় মাইলফলক।

8. সন্ডার্সের স্ত্রী শঙ্কুর প্রতি কেন কৃতজ্ঞ ছিলেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: সন্ডার্সের স্ত্রী ডরোথি তাঁর স্বামীর মুমূর্ষু অবস্থায় অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যেখানে আশা ছেড়ে দিয়েছিল, সেখানে সুদূর ভারত থেকে আসা এক অচেনা বিজ্ঞানী তাঁর স্বামীকে মাত্র একটি বড়ি দিয়ে অলৌকিকভাবে সুস্থ করে তোলেন। স্বামীর প্রাণ রক্ষা পাওয়ায় এবং তাঁর যন্ত্রণার উপশম হওয়ায় ডরোথি শঙ্কুকে ভগবানের দূতের মতো মনে করতেন। শঙ্কুর প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা ছিল অপরিসীম।

9. “বিজ্ঞানের জয়যাত্রা মানবিকতার পথে”— ‘স্বর্ণপর্ণী’ অবলম্বনে ব্যাখ্যা করো। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বর্ণপর্ণী গল্পে শঙ্কু তাঁর আবিষ্কৃত মিরাকিউরল বড়িকে কেবল বাণিজ্যিক সাফল্যের হাতিয়ার করেননি। বিদেশের মাটিতে সন্ডার্সকে সুস্থ করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত আছে মানুষের প্রাণ রক্ষা ও সেবা করার মধ্যে। তিনি অর্থের লোভ ত্যাগ করে প্রমাণ করেছেন যে বিজ্ঞান ও মানবিকতা একে অপরের পরিপূরক। বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত সম্পদ যখন কোনো বৈষম্য ছাড়াই আর্তের সেবায় লাগে, তখনই তার প্রকৃত জয়যাত্রা শুরু হয়— গল্পটি এই শিক্ষাই দেয়।

10. শঙ্কুর বাবার ডায়েরিটি ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে কী ভূমিকা পালন করেছে? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শঙ্কুর বাবার ডায়েরিটি ছিল এই গল্পের মূল যোগসূত্র। এই ডায়েরিতেই স্বর্ণপর্ণী গাছের বর্ণনা, টিকলিবাবার সাথে সাক্ষাতের বিবরণ এবং এই ওষধি ব্যবহারের নিয়ম লিপিবদ্ধ ছিল। বাবার মৃত্যুর পর শঙ্কু এই ডায়েরি পড়েই অনুপ্রাণিত হন এবং গাছটির সন্ধানে বের হন। ডায়েরিটি না থাকলে হয়তো স্বর্ণপর্ণীর অলৌকিক গুণ এবং মিরাকিউরল বড়ি তৈরির গোপন রহস্য চিরকাল চাপা পড়ে থাকত। এটি কেবল একটি খাতা ছিল না, বরং শঙ্কুর জন্য এক অমূল্য বৈজ্ঞানিক পথনির্দেশক ছিল।

11. শঙ্কুর বাবা কেন মিরাকিউরল বড়িটি সাধারণের কাছে প্রকাশ করতে চাননি? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: শঙ্কুর বাবা ত্রিপুরাকেশ্বর শঙ্কু মনে করতেন যে মানুষের লোভ অসীম। স্বর্ণপর্ণীর মতো অলৌকিক ওষধি যদি সাধারণের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায়, তবে মানুষ নিজের স্বার্থে এর অপব্যবহার করতে পারে। তিনি চেয়েছিলেন এই ওষধি কেবল প্রকৃত আর্ত ও মুমূর্ষু মানুষের সেবায় নিঃস্বার্থভাবে ব্যবহৃত হোক। বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে ওষুধের পবিত্রতা এবং সেবার আদর্শ বজায় রাখতেই তিনি এটি জনসমক্ষে আনেননি।

12. “স্বর্ণপর্ণী” গল্পে শঙ্কুর বাল্যস্মৃতির পরিচয় দাও। (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: স্বর্ণপর্ণী গল্পে শঙ্কুর বাল্যকাল গিরিডি শহরে তাঁর বাবার ছত্রছায়ায় অতিবাহিত হয়েছিল। তিনি ছোটবেলা থেকেই বাবাকে বিভিন্ন ওষধি লতা-পাতা নিয়ে গবেষণা করতে এবং আর্ত মানুষের সেবা করতে দেখেছেন। বাবার সংগৃহীত প্রাচীন পুঁথি এবং ওষধি বাগান থেকেই তাঁর বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগের জন্ম। বাল্যকালের সেই পরিবেশই তাঁর চরিত্রের নৈতিকতা ও অনুসন্ধিৎসু মনের ভিত গড়ে দিয়েছিল।

13. সন্ডার্সের সাথে শঙ্কুর বন্ধুত্বের কারণ কী ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: সন্ডার্স ও শঙ্কুর বন্ধুত্বের মূলে ছিল উভয়েরই বিজ্ঞানের প্রতি গভীর নিষ্ঠা এবং মানসিক উদারতা। সন্ডার্স যখন কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, তখন শঙ্কু কেবল একজন চিকিৎসক হিসেবে নয়, বরং একজন বন্ধু হিসেবে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। শঙ্কুর নিঃস্বার্থ সেবা এবং মিরাকিউরলের অলৌকিক ক্ষমতা সন্ডার্সকে মুগ্ধ করেছিল। এই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তাঁদের মধ্যে এক আজীবন গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

14. “মিরাকিউরল” বড়ি তৈরির উপাদান সম্পর্কে শঙ্কু কী জানিয়েছেন? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: প্রফেসর শঙ্কু জানিয়েছেন যে ‘মিরাকিউরল’ বড়িটির প্রধান এবং গোপন উপাদান হলো ‘স্বর্ণপর্ণী’ নামক এক দুর্লভ ওষধি গাছের পাতা। এই পাতার সাথে তিনি কিছু আধুনিক রাসায়নিকের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন যাতে এটি আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাবার প্রাচীন আয়ুর্বেদিক সূত্রের সাথে নিজের আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মেলবন্ধনেই তিনি এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন।

15. সন্ডার্স সুস্থ হওয়ার পর শঙ্কুর প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? (3)

উত্তর দেখো

উত্তর: সুস্থ হওয়ার পর সন্ডার্স বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতায় বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন এটি কোনো মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা। তিনি শঙ্কুকে এক প্রকাণ্ড মেধার অধিকারী এবং এক মহানুভব মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। তাঁর ডায়েরিতে তিনি শঙ্কুকে একজন ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং বিদেশের মাটিতে ভারতীয় বিজ্ঞানের জয়গান গেয়েছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার